muri
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: কথায় আছে ‘বাঁকুড়াবাসী, মুড়ি খান রাশি রাশি।’

মুড়ি প্রিয় বাঁকুড়াবাসীর অন্যতম পছন্দের পরব হল মুড়ি পরব। বৃহস্পতিবার অভিনব এই মুড়ি পরবের সাক্ষী থাকল  বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়া। শুনতে অদ্ভুত লাগলেও প্রাচীন রীতি মেনে বছরের পর বছর বাংলার চৌঠা মাঘ এই মুড়ি পরব পালন করা হয়।

বছরভর চৌঠা মাঘের এই বিশেষ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন কেঞ্জাকুড়ার মানুষ।  দ্বারকেশ্বর নদীর চরে, খোলা  আকাশের নিচে এই বিশেষ মুড়ি পরবে মেতে ওঠেন আট থেকে আশি সকলেই। দ্বারকেশ্বের জল এদিন মুড়িময়। সুঞ্জুড়ি মায়ের আশ্রমে পুজো দিয়ে প্রসাদ নিয়ে দ্বারকেশ্বরের পাড় জুড়ে  মুড়ি খেতে বসেন বাঁকুড়াবাসী। দিনভর চলে মেলা। বাঁকুড়ার শুভজিৎ সারের কথায় “প্রতি বছর এই মেলাতে আসি। খুব ভাল লাগে।”

মুড়ি খাবার পদ্ধতিও অনন্য। এ দিন সকাল থেকেই আশেপাশের গ্রাম থেকে কয়েক হাজার মানুষ ভিড় জমান দ্বারকেশ্বরের চরে। গামছা করে বাঁধা মুড়ি সাথে আলুর চপ, সিঙাড়া, বেগুনি, সর্ষের তেল, কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, টমেটো, মটরশুঁটি,চানাচুর, আরও কত কি! আর অবশ্যই গরম গরম পাঁপড় ভাজা আর জিলিপী।

অনেকে তো মুড়ি ভর্তি গামছা দ্বারকেশ্বরের জলেই ভিজিয়ে নেন। গামছা পেতে আয়েশ করে বসে চলে একসঙ্গে মুড়ি খাওয়া। দুপুরে নদীতে স্নান সেরে সুঞ্জুড়ি মায়ের আশ্রমে খিচুড়ি প্রসাদ খান সকলেই। দূর দূরান্ত থেকে ভিড় জমান হাজারও মানুষ। এই উৎসব চলতে থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, সেই সঙ্গে চলতে থাকে মেলা। প্রতি বছরে হাজার হাজার মানুষের এই বিশেষ পড়বে আগমন ঘটে বলে জানান মেলা কমিটির সদস্য  নাগেশ্বর চন্দ ও সুভাষ কর্মকার।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন