Connect with us

মেলাপার্বণ

কলকাতার দক্ষিণ শহরতলির তিন চণ্ডীমন্দির

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

আজ ১৫ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, মঙ্গলবার, বিপত্তারিণী চণ্ডীপুজোর অন্যতম দিন। এর আগে ১২ আষাঢ়, শনিবারও বিপত্তারিণী ব্রত উদযাপনের আরও একটি দিন ছিল। পশ্চিমবঙ্গের বহু প্রাচীন মন্দিরে এই দু’ দিন দেবী চণ্ডীর ব্রত পালন করেন বাঙালি মেয়েরা। চণ্ডী-মাহাত্ম্যের কথা যে বহু প্রাচীন, তা বলার অপেক্ষাই রাখে না। দক্ষিণ কলকাতার শহরতলির তেমনই তিন চণ্ডীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

Loading videos...

বড়িশার চণ্ডীমন্দির

বড়িশার চণ্ডীবাড়ির মা চণ্ডী।

দক্ষিণ কলকাতায় ডায়মন্ড হারবার রোডে সখের বাজার মোড়ের কাছেই বড়িশার চণ্ডীমন্দির। জনশ্রুতি, এই চণ্ডীমন্দির প্রায় তিনশো বছরের প্রাচীন। কিন্তু লিখিত ইতিহাস বলে, সাবর্ণ গোত্রীয় মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৭৯২ সালে দুর্গাপঞ্চমীর দিন নিজ বাটীতে দেবীকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সাবর্ণদের এই বাড়ি চণ্ডীবাড়ি নামেই পরিচিত। চণ্ডীবাড়িটি তিনতলা মন্দির। এই মন্দিরেই চণ্ডীর অষ্টধাতুর কলস রয়েছে, যার নিত্যসেবা হয়।

চণ্ডীবাড়ির নিকটেই তৈরি হয় চণ্ডীমন্দির, যেখানে বছরে একবার মৃন্ময়ী রূপে দেবী আসেন। এই মন্দির তৈরি করেছিলেন মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর পুত্র হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী। অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী এবং নবমীতিথিতে চণ্ডীপুজো কেন্দ্র করে বিশাল মহোৎসব হয়, বসে বিরাট মেলাও।

তবে অগ্রহায়ণ মাসে মায়ের বার্ষিক পুজো হলেও বিপত্তারিণী চণ্ডীপুজোর দিনও ভক্তের ভিড় দেখার মতন হয়। সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় পুজোপাঠ। এই দিন দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। লুচি ছাড়াও থাকে বিভিন্ন রকমের ভাজা, তরকারি, মিষ্টান্ন ইতাদি। পূজার পাশাপাশি আরতি এবং ভক্তদের পুষ্পাঞ্জলিও চলে সকাল থেকেই।

রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ি

দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়া-বারুইপুর সড়কে রাজপুর বাজারের আগেই বাঁ দিকের পথ ধরে কিছুটা গেলেই রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ি। বাবা দুলাল প্রতিষ্ঠিত এই বাড়ির চণ্ডীপুজোও বেশ প্রাচীন। বাবা দুলাল মা চণ্ডীকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তাঁর নিজের বাড়িতে। নিত্যপুজো হয় রাজপুরে মা বিপত্তারিণী চণ্ডীর বাড়িতে।

রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ির সংগ্রহশালা।

বাবা দুলাল তাঁর প্রথম ইচ্ছায় দক্ষিণাকালীর মূর্তি তৈরি করতে দিয়েছিলেন। কিন্তু দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বলেন দক্ষিণাকালী নয়, বিপত্তারিণী চণ্ডীর মূর্তি গড়তে। দেবী তাঁর রূপও বলে দেন, অর্থাৎ এখানে দেবী সিংহবাহিনী, তাঁর চার হাত, এক হাতে মহাশূল, এক হাতে খড়গ ও অন্য দুই হাতে বরাভয় ও অভয় দান করছেন তিনি। তিনি আরও জানিয়ে দেন, সকল ভক্তকে বিপদে উদ্ধার করতেই তিনি বাবা দুলালকে দিয়ে তাঁর প্রচার করাতে চান। শুধুমাত্র মূর্তিরই বর্ণনা নয়, তিনি পুজোর পদ্ধতিও শিখিয়ে গিয়েছিলেন দুলাল বাবাকে। সেই থেকে রাজপুরে মা বিপত্তারিণী চণ্ডী রয়েছেন।

নিয়ম অনুসারে এখানে সোজা রথ ও উলটোরথের মাঝের মঙ্গলবারে বিপত্তারিণীর পুজো হয়। পুজোর দিন একেবারে ভোর থেকেই এখানে ভক্ত সমাগম শুরু হয়ে যায়। সবাই মাকে তেরো রকমের ফল, মিষ্টান্ন দিয়ে পুজো দেন।

এই রাজপুর চণ্ডীবাড়িতে এক বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয় দুর্গাপুজোর নবমীর দিন। দেবীর দুর্গার উদ্দেশে ভোগ নিবেদন করার পেছনে একটি ঘটনা রয়েছে। ওই অঞ্চলে প্রাচীন এক দুর্গাপুজো হয়। একদিন বাবা দুলাল স্বপ্নাদেশ পান, নবমীর দিন যেন তাঁর জন্য ভোগ দেওয়া হয়। সেই থেকে দুর্গাপুজোর মহানবমীর দিন দেবী দুর্গার উদ্দেশে ভোগ দেওয়া হয় চণ্ডীবাড়ি থেকেই।

রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়িতে এক সংগ্রহশালা রয়েছে, যেখানে বহু পুরোনো জিনিস রয়েছে যা বাবা দুলাল ব্যবহার করতেন, রয়েছে রাজপুরের চণ্ডীবাড়ির প্রাচীন কিছু ছবিও। মা চণ্ডীর বিগ্রহ ছাড়াও এখানে বহু দেবদেবীর বিগ্রহ রয়েছে, তার সঙ্গে বাবা দুলালের বিগ্রহও রয়েছে।

কালীবাজার বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ি

কালীবাজার বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ির মা চণ্ডী।

কবি নজরুল মেট্রো স্টেশন থেকে বাসে বা অটোয় চলে আসুন মহামায়াতলা। সেখানে থেকে রিকশা ধরে পৌঁছোতে হবে লেকগার্ডেন লস্করপুরে। এখানেই কালীবাজার বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়ি।

রাজপুরের চণ্ডীবাড়ি থেকেই পুরোহিত এসে এই বাড়ির মাকে প্রতিষ্ঠা করে দিয়ে গিয়েছিলেন। এই বাড়ির মায়ের মূল সেবক সুব্রত দাস মহাশয় জানালেন, রাজপুর বিপত্তারিণী চণ্ডীবাড়িরই নিয়মকানুনম মেনে এক ভাবেই মায়ের পুজো করা হয়।  তবে এই কালীবাজারের চণ্ডীবাড়িতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালিত হয়। তা ছাড়া কালীপুজোর দিন হয় দেবীর অন্নকূটসেবা।

বিপত্তারিণী চণ্ডীপুজোর দিন সকাল থেকে ভক্তের ভিড় দেখা যায়। ভক্তরা তেরো রকমের ফল, মিষ্টান্ন দিয়ে পুজো দেন মাকে আবার প্রসাদ নিয়ে ফিরে যান। করোনাভাইরাসের কারণে এত দিন মন্দির বন্ধ থাকলেও কাল বুধবার ১ জুলাই মন্দির খুলছে এবং সমস্ত রকমের নিয়মবিধি মেনেই পুজো নেওয়া হবে। তবে আজ মঙ্গলবার বিপত্তারিণী ব্রত পালিত হচ্ছে। এই মন্দিরে মায়ের সন্ধ্যারতির পর নামগান করা হয়।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা

কলুটোলার মতিলাল শীলের বাড়িতে ধুমধাম করে পালিত হয় পঞ্চমদোল

মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Published

on

কলুটোলায় মতিলাল শীলের বাড়ি।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোল হল মিলনের উৎসব। এক সঙ্গে সবাই মিলে আবিরে আবিরে রঙের উৎসব পালন করে। এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্দিরে, এমনকি বনেদিবাড়ির ঠাকুরদালানেও এখন সাজোসাজো রব। তবে  সব বাড়িতেই যে দোলপূর্ণিমাতেই উৎসব হয় তা নয়, কোনো কোনো বাড়িতে পঞ্চমদোল আবার কোনো কোনো বাড়িতে সপ্তমদোলও পালিত হয় মহাসমারোহে।

Loading videos...

উত্তর কলকাতার কলুটোলা অঞ্চলের মতিলাল শীলের বাড়িতে পঞ্চমদোল উৎসব পালিত হয়। শীলবাড়ির নাম করলেই যাঁর নাম প্রথমে মনে আসে, তিনি হলেন দানবীর মতিলাল শীল, যিনি আর্থিক অনটনের মধ্যে বড়ো হলেও পরবর্তী কালে নিজ ক্ষমতায় আর বুদ্ধিবলে প্রভূত উন্নতি করেন। ইতিহাসবিদের মতে, সেই সময় এমন কোনো ব্যবসা ছিল না, যেখানে মতিলাল শীল বিনিয়োগ করেননি।

তবে মতিলাল শীলের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল সমাজসংস্কার। বিধবাবিবাহ প্রচলন এবং সতীদাহ রদের আন্দোলন নিয়ে তখন উত্তাল বাংলা। চলছে রাধাকান্ত দেব ও রামমোহন রায়ের মধ্যে আদর্শগত বিরোধও। ঠিক সেই সময়ে ধর্মসভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিধবাবিবাহের উপযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মতিলাল।

কথা হচ্ছিল শীলবাড়ির সদস্য ইন্দ্রপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এঁদেরই পঞ্চমদোল পালিত হয় শীলবাড়িতে।

চাঁচড়ের পাশে শ্রীধর জিউ।

কৃষ্ণাচতুর্থীর দিন সন্ধ্যায় শ্রীধর জিউ ঠাকুরঘর থেকে দালানে আসেন এবং সেখানে হোম হয়। তার পর উঠোনে যেখানে চাঁচড় বাঁধা থাকে সেখানে যান। সেখানে পুজো, ভোগ ইত্যাদি নানা নিয়ম পালনের পর বাড়ির সকল সদস্য শ্রীধর জিউ সমেত চাঁচড় প্রদক্ষিণ করেন এবং তার পর চাঁচড় পোড়ানো হয়। ন্যাড়াপোড়ার পর ঠাকুর আবার দোলমঞ্চে আসেন এবং সেখানেই সারা রাত থাকেন।

এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শীলবাড়িতে ঠাকুরের ভোগের জন্য তৈরি হয় নাড়ু, পানতুয়া, গুড়ের মালপোয়া, ক্ষীরের মালপোয়া, খাস্তা কচুরি, নিমকি, লুচি-সহ আরও নানা পদ।

পঞ্চমীর দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয় এবং তার পর পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরকে আবির দেন। দেবদোলের পর শ্রীধর আবার ঠাকুরঘরে চলে যান এবং তার পর আবার আসেন দোলমঞ্চে, সেখানেই দোলের ভোগ নিবেদন আরতি ইত্যাদি হয়।

দালানে শ্রীধর জিউ।

তবে শ্রীধর দালানে উপস্থিত থাকলেও লক্ষ্মীঠাকুরানি ঠাকুরঘরেই থাকেন। তিনি কেবলমাত্র দুর্গাপুজোর সময় দালানে আসেন। দোলের দিন সন্ধ্যায় আরতির আগে প্রাচীন প্রথা মেনে ব্রাহ্মণ-বিদায় হয়। বংশপরম্পরায় তাঁরা এখনও বিদায় নিতে আসেন। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে দোল উৎসব পালিত হয় কলুটোলার শীলবাড়িতে।

আরও পড়ুন: শ্যামরায় ও রাধাকান্তের দোল নিয়ে মেতে থাকেন সাবর্ণ চৌধুরীরা

Continue Reading

দোল উৎসব

শ্যামরায় ও রাধাকান্তের দোল নিয়ে মেতে থাকেন সাবর্ণ চৌধুরীরা

এ ছাড়া সাবর্ণদের পানিহাটির বাড়িতে রাধাগোবিন্দের দোল এবং আড়িয়াদহের মন্দিরে দোল উৎসব খুবই বিখ্যাত।

Published

on

সাবর্ণদের রাধাকান্ত।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোলযাত্রা মানের রঙের উৎসব, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মেতে ওঠেন ছোটো থেকে বড়ো, সকলেই। রঙের উৎসবে মন্দিরের দালান যেমন সেজে ওঠে ঠিক তেমনই প্রতিটি মানুষ একে অপরকে আবির দিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে।

Loading videos...

সাবর্ণবাড়ির দোল উৎসব দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষজন ভিড় করত। এই বাড়ির দোল শুধু পূর্ণিমাতেই পালন করা হয় না, পূর্ণিমার পর পঞ্চমী তিথিতে পঞ্চমদোল এবং সপ্তমী তিথিতে সপ্তমদোলও পালিত হয়। বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাবর্ণ পরিবারের প্রায় উত্তরপুরুষরা মিলিত হন দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে।

রায় চৌধুরীদের দোল অনুষ্ঠিত হত তাদের কাছারিবাড়িতে (বর্তমানে রাইটার্স বিল্ডিং), সেখানে তাদের পরিবারের শ্যামরায় জিউ ছিলেন। দোলের দিন পরিবারের সদস্যরা রঙ খেলে কাছারিবাড়ি সংলগ্ন দিঘিতে স্নান করতে নামতেন এবং আবিরের রঙে দিঘির জল রঙিন হয়ে উঠত। তাই সেই দিঘির নাম হয় লালদিঘি।

সেই শ্যামরায়ের দোল আজও অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা এখন হয় হালিশহরে সাবর্ণদের বাড়িতে। সপ্তমদোলের দিন ধুমধাম করে পালিত হয় শ্যামরায়ের দোল। এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মেলার আয়োজন করা হয়।

হালিশহরের শ্যামরায়।

দোলের আগের দিন চলে চাঁচর পোড়ানো। পালকিতে করে নারায়ণকে নিয়ে যাওয়া হয় সেই নেড়াপোড়া অনুষ্ঠানে। পরের দিন ভোরে শ্যামরায়কে নিয়ে যাওয়া হয় দোলমঞ্চে এবং সেখানেই দেবদোল অনুষ্ঠিত হয় চালের নৈবেদ্যভোগ নিবেদনের মাধ্যমে। তার পর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের আবির দেন। সারা দিন দোল খেলার পর বিকালে শ্যামরায়ের অভিষেক হয় এবং তার পর ভোগ নিবেদন হয়। এই সপ্তমদোলে মেতে ওঠেন হালিশহরবাসী। এ যেন এক ঐতিহ্যের উৎসব।

হালিশহরের পাশাপাশি বড়িশায় সাবর্ণদের বাড়িতেও দোল উৎসব পালিত হয়। বড়িশায় দোল হয় রাধাকান্ত মন্দিরে। সাবর্ণ কুলতিলক সন্তোষ রায় চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত এই বিগ্রহ। সন্তোষ রায় তাঁর মাতুলালয় থেকে এনেছিলেন রাধাকান্তকে এবং প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বড়িশায়।

দোলপূর্ণিমার আগের দিন রাধাকান্ত মন্দিরে বিশেষ পূজা হয়, হোমও হয়। তার পর নারায়ণকে পালকিতে বসিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় দ্বাদশ শিবমন্দির সংলঙ্গ মাঠে, সেখানেই চাঁচড় পোড়ানো হয়। অনুষ্ঠান সমাপ্তির পর নারায়ণ আবার মন্দিরে ফিরে আসেন। পরের দিন ভোরে হয় দেবদোল। পরিবারের সদস্যরা রাধাকান্ত ও শ্রীমতীকে নিয়ে আসেন দোলমঞ্চে। সেখানেই সবাই তাঁদের আবির দেন। সারা দিন

রাধাকান্ত ও শ্রীমতী।

দোল খেলার পরে আটচালায় নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের, সেখানেই হয় অভিষেকপর্ব। দই, দুধ, মসুরডাল বাঁটা, চিনি, ডাবের জল, আতর, কর্পূর ইত্যাদি নানা উপাচারে স্নান করানো হয় রাধাকান্তকে। তার পর রাজবেশ পরানো হয় এবং সেই দিন নানা পারিবারিক গহনা দিয়ে সাজানো হয় তাঁদের। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত দোলের বিশেষ পূজা করেন। হোম ও ভোগ নিবেদনের মাধ্যমে শেষ হয় রাধাকান্তের দোল।

এ ছাড়া সাবর্ণদের পানিহাটির বাড়িতে রাধাগোবিন্দের দোল এবং আড়িয়াদহের মন্দিরে দোল উৎসব খুবই বিখ্যাত।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরে বিগ্রহবাড়ির দোলযাত্রার পাশাপাশি গোপালপুজো এক অন্য মাহাত্ম্য বহন করে

Continue Reading

দোল উৎসব

শান্তিপুরে বিগ্রহবাড়ির দোলযাত্রার পাশাপাশি গোপালপুজো এক অন্য মাহাত্ম্য বহন করে

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো।

Published

on

বড়োগোস্বামী বাড়ির রাধারমণ এবং শ্রীমতী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সামনেই দোলযাত্রা। আপামর বাঙলির কাছে দোলযাত্রা এক অন্য রকম অনুভূতির উৎসব। সকলেই আবির মেখে বসন্তের উৎসব পালন করে, কেউ নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। আর এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাড়ির ঠাকুরদালানও সেজে ওঠে আবিরে-রঙে-গুলালে। প্রাচীন পরিবারগুলিতে রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা যেন এক মিলনক্ষেত্র রচনা করে যা এই বাংলার এক অন্যতম সংস্কৃতি।

Loading videos...

দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে এক বিরাট মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বাড়িতে রাধাকৃষ্ণের দোল হয় এবং পাশাপাশি বিরাট বিরাট গোপালের বিগ্রহপুজো – এ যেন এক অন্য রকম মুহূর্ত, যা শান্তিপুর প্রতি বছরই উপহার দেয় আমাদের। শান্তিপুরে পূর্ণিমায় দোলযাত্রা ছাড়াও পঞ্চমদোল, সপ্তমদোল, রামনবমীতে দোল ইত্যাদি পালিত হয়।

বিগ্রহবাড়ি, বারোয়ারি উৎসব ছাড়াও শান্তিপুরে শ্যামচাঁদ মন্দিরের দোল বিখ্যাত। তবে এই মন্দিরে দোল উৎসব পালিত হয় পূর্ণিমার পরের দিন, প্রতিপদে। দোলের দিন সন্ধ্যায় হয় চাঁচর পোড়ানো এবং পরের দিন ভোগ, নামসংকীর্তনের শেষে সন্ধ্যায় শ্যামচাঁদকে নিয়ে এক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্ত ভিড় করেন রাস্তার দু’ ধারে।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোল।

বড়োগোস্বামী বাড়ির দোলযাত্রাও বিখ্যাত শান্তিপুরে। এই বাড়িতে চার দিন দোল উৎসব পালিত হয়। দোলপূর্ণিমার দিন শ্রীশ্রীরাধারমণের দোল উৎসব পালিত হয়। আগের দিন রাসমঞ্চের সামনের প্রাঙ্গণে চাঁচড় পোড়ানো হয়। পরের দিন দোলমঞ্চে ওঠেন রাধারমণ এবং শ্রীমতী, বিশেষ পূজা হয়। দোল উপলক্ষ্যে বিশেষ সাজসজ্জা হয় তাঁদের। দুপুরে বিশেষ ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় আবার শ্রীশ্রীরাধারমণকে দোলমঞ্চে এসে বসানো হয়, বিকাল থেকে শুরু হয় নামসংকীর্তন।

দোলপূর্ণিমার পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চমদোল। ওই দিন মদনমোহন-শ্রীমতীকে দোলমঞ্চে আনা হয় এবং রীতি মেনেই সেবাপূজা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামী। দু’ দিন পরে সপ্তমদোল। এর একটি বিশেষত্ব আছে। তা হল এই দিনের দোলকে ‘সীতানাথের দোল’ও বলা হয়ে থাকে। কারণ ওই দিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্যকে কেন্দ্র করে দোল উৎসব পালন করা হয়। বিশেষ পূজারও আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বড়োগোস্বামী বাড়িতে রামনবমীর দিনও দোল উৎসব পালিত হয় রামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে। তিন দিনব্যাপী রামনবমীর দোল ও মেলা বেশ সাড়ম্বরেই পালিত হয়। এ বছরও নিয়ম মেনেই পালিত হবে বড়োগোস্বামী বাড়ির দোল, এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মুখোপাধ্যায় বাড়ির গোপাল।

শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের প্রপৌত্র ঘনশ্যাম গোস্বামী থেকেই মধ্যমগোস্বামী বাড়ির উৎপত্তি হলেও অধস্তন তৃতীয়পুরুষ রঘুনন্দন গোস্বামীই ছিলেন এই বংশের প্রাণপুরুষ। এই বাড়ির দোল উৎসবও খুবই প্রাচীন, বর্তমানে তা ‘গোকুলচাঁদের দোল’ বলেই পরিচিত। দোল উৎসবের আগের দিন চাঁচড় পোড়ানো হয় এবং পরের দিন সকালে দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোলমঞ্চের হাওদায় বিরাজ করেন শ্রীশ্রীরাধাগোকুলচাঁদ জিউ। পরিবারের সকলে তাঁদের আবির দেন এবং চলে দোলপূর্ণিমার বিশেষ পূজা। সেই সঙ্গে পালিত হয় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথি উৎসব। অতীতে এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হত। তবে বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে শুধু দোল উৎসবটুকুই পালিত হয় মধ্যমগোস্বামী বাড়িতে।

শান্তিপুরের প্রাচীন পাগলাগোস্বামী ঠাকুরবাড়ির দোলযাত্রাও খুব বিখ্যাত। এই বাড়ির আদিপুরুষ অদ্বৈতাচার্যের চতুর্থ পুত্র বলরামের দশম পুত্র কুমুদানন্দ গোস্বামী ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি। এক সময় তিনি কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কর্তৃক প্রদত্ত সম্পত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই পরিবারের দুই বিগ্রহ কৃষ্ণরায় জিউ এবং কেশবরায় জিউ-এর দোল উৎসব তাঁদের মন্দিরেই অনুষ্ঠিত হয়।

মদনগোপাল বাড়ি।

কথা হচ্ছিল পরিবারের সদস্য তন্ময় গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, দোলপূর্ণিমার আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয় এবং পরের দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়। দেববিগ্রহ মন্দিরের সামনে হাওদায় বিরাজ করেন এবং পরিবারের সকল সদস্য তাঁদের আবির দেন। দেবদোলের সময় ঠাকুরকে বাল্যভোগ নিবেদন করা হয় এবং তার পর পরিবারের কুলপুরোহিত এসে পূর্ণিমার বিশেষ পূজা শুরু করেন।

তন্ময়বাবুর কাছে আরও জানা গেল যে তাঁরা গরমকালের বিভিন্ন রান্নার পদ ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে গ্রহণ করেন না। তাই এই দোলের দিন ভোগে সেই সমস্ত রান্নার পদ নিবেদন করা হয়। তার পর তাঁরা সবাই সেই পদগুলি খেতে পারেন।

শান্তিপুরের আর এক প্রাচীন বাড়ি মুখোপাধ্যায় বাড়ি ‘চাঁদুনীবাড়ি’ নামে পরিচিত। এই বাড়িতেও দোল উৎসব পালিত হয়। তবে এখানে হয় গোপালের দোল। কথা হচ্ছিল চাঁদুনীবাড়ির সদস্য সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই গোপালের বয়স প্রায় ২৫০ বছর। চাঁদুনীবাড়ির এক সদস্যা এই গোপালকে পান তাঁদেরই এক শাখার সদস্যদের কাছ থেকে। সেই বাড়িতে তিনি সিন্দুকে ছিলেন। মুখোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যরা তাঁকে এনে পুজো শুরু করেন। এই গোপাল অষ্টধাতুর তৈরি। তাঁর নিত্য সেবাপূজা হয়। তবে পরিবারের কোনো সদস্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারেন না যে হেতু তাঁর সঙ্গে পরিবারের প্রাচীন শ্রীশ্রীনারায়ণ জিউও থাকেন।

দোলের আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয়। রাজবেশে সুসজ্জিত হয়ে সেখানেও উপস্থিত থাকেন গোপাল। পরের দিন দেবদোলের পর বাড়ির সদস্যরা গোপালকে আবির দেন। দুপুরে স্নানের পর ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, মিষ্টি ইত্যাদি। তার পর সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগের পর গোপাল আবার নিজ গর্ভগৃহে ফিরে যান।

শান্তিপুরের বড়োগোপাল।

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো। এই বিশেষ ধরনের নাড়ুগোপালের বিগ্রহ শান্তিপুরের মৃৎশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গোপালের বর্ণ হয় মূলত আকাশি বা গোলাপি। কৃষ্ণের বাল্যবয়সের এই অপূর্ব বিগ্রহই পুজো হয় শান্তিপুরের দোল উৎসবে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন অঞ্চলের গোপাল পরিচিত, যেমন – বড়োগোপাল, মেজোগোপাল, ছোটোগোপাল, থ্যাবড়াগোপাল, ধেড়েগোপাল, ননীচোরা ইত্যাদি।

বিরাট আকৃতির গোপাল ঠিকই কিন্তু এত সুন্দর শিশুসুলভ মুখশ্রী যা প্রতিটি দর্শনার্থীর মন কাড়ে। শিশুদের মঙ্গলকামনায় অথবা সন্তানলাভের জন্য বহু ভক্ত পুজো দিয়ে থাকেন গোপালের কাছে। দোলের দিন গোপালদের পরানো হয় সোনা-রুপোর গহনা যা শান্তিপুরের চিরাচরিত প্রথা বলেই পরিচিত। দোলের পর দিন শোভাযাত্রা সহকারে গোপালের বিসর্জন হয়। দোলযাত্রাকে কেন্দ্র করে শ্রীধাম শান্তিপুরের এই প্রাচীন রীতিনীতি বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে গৌরবান্বিত করে।

আরও পড়ুন: Dolyatra 2021: শ্রীশ্রীগোপীনাথকে কেন্দ্র করে দোলের দিন মেতে ওঠেন শোভাবাজার ছোটো রাজবাড়ির সদস্যরা

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
বাংলাদেশ5 hours ago

Mujibnagar Day: ঠিক ৫০ বছর আগের ১৭ এপ্রিল যিনি গার্ড অব অনার দিয়েছিলেন সেই মাহবুব উদ্দিন বীর বিক্রমের স্মৃতিচারণ

বাংলাদেশ7 hours ago

Bangladesh Corona Update: একদিনে শতাধিক মৃত্যুর রেকর্ড, আক্রান্তের শীর্ষে যুবকরা হলেও মৃত্যুর দিক দিয়ে বয়স্ক মানুষ

শিক্ষা ও কেরিয়ার8 hours ago

ICSE And ISC Exams: দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা পিছিয়ে দিল আইসিএসই বোর্ড

ক্রিকেট9 hours ago

IPL 2021: দীপক চাহরের বিধ্বংসী বোলিং, চেন্নাইয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ল পঞ্জাব

দেশ10 hours ago

Nirav Modi’s Extradition: নীরব মোদীকে ভারতের হাতে তুলে দিতে সম্মতি ব্রিটিশ সরকারের

রাজ্য11 hours ago

Bengal Polls 2021: ভোটের দিনক্ষণ পালটাচ্ছে না, প্রচারে ‘নৈশ কার্ফু’ জারি নির্বাচন কমিশনের

Coronavirus Covid Kolkata
রাজ্য11 hours ago

Bengal Corona Update: প্রতি একশো টেস্টে পজিটিভ হচ্ছেন ১৭ জন, কলকাতায় আক্রান্ত ১৮৪৪

শরীরস্বাস্থ্য18 hours ago

Covid Infection: ছোঁয়াচে রোগে পুরুষদের বেশি সংক্রমিত হওয়ার কারণ কি টেস্টোস্টেরোন?

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 days ago

CBSE Exam 2021: দশম শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করল সিবিএসই, স্থগিত দ্বাদশের পরীক্ষা

ক্রিকেট3 days ago

IPL 2021: জেতা ম্যাচ লজ্জাজনক ভাবে হাতছাড়া কেকেআরের, দলের হয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন শাহরুখ

দেশ3 days ago

Kumbh Mela 2021: কুম্ভের হরিদ্বারে গত দু’দিনে আক্রান্ত ১ হাজার, মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘মারকাজের সঙ্গে তুলনা অর্থহীন’

রাজ্য2 days ago

স্বাগত ১৪২৮, জীর্ণ, পুরাতন সব ভেসে যাক, শুভ হোক নববর্ষ

কলকাতা3 days ago

Bengal Corona Update: সংক্রমণের প্রথম চূড়াকে পেরিয়ে গেল কলকাতা, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে

পয়লা বৈশাখ
কলকাতা2 days ago

মাস্ক থাকলেও কালীঘাট-দক্ষিণেশ্বরে শারীরিক দুরত্ব চুলোয়, গা ঘেষাঘেঁষি করে হল ভক্ত সমাগম

দেশ2 days ago

ফের লকডাউনের আশঙ্কায় ভীত-সন্ত্রস্ত অভিবাসী শ্রমিকরা, কন্ট্রোল রুমে ফোনের পর ফোন ঝাড়খণ্ডে

রাজ্য2 days ago

Bengal Polls 2021: ভয়াবহ কোভিড সংক্রমণের মধ্যে কী ভাবে ভোট, শুক্রবার জরুরি সর্বদল বৈঠক ডাকল কমিশন

ভোটকাহন

কেনাকাটা

কেনাকাটা4 weeks ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা2 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা3 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা3 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা3 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা3 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা3 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা3 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে