জানেন কি একটি মুসলিম অধ্যুষিত দেশের কারেন্সি নোটে রয়েছে গণেশের ছবি

0
কারেন্সি নোটে গণেশ

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এসে গেল গণেশ চতুর্থী। বিঘ্ননাশকারী দেবতা গণেশের উৎসব, যিনি বহু নামে পূজিত হন। যাঁকে আমরা গণপতি বা বিনায়ক নামেও ডাকি।

সারা দেশেই পালিত হবে গণেশ চতুর্থী। তবে কোথাও কোথাও এই উৎসব নিয়ে উন্মাদনা থাকবে বেশি, যদিও করোনা-আবহে সব কিছুই এখন নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় হওয়ার কথা।

মহারাষ্ট্রে এই উৎসব সব চেয়ে বেশি ধুমধাম করে হয়। ভাদ্রপদ মাসের শুক্ল পক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশের পুজো শুরু হয়ে চলবে ১০ দিন – অনন্ত চতুর্দশী পর্যন্ত।

আচ্ছা বলতে পারেন, কোন দেশের কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি আছে। আগেই বলে রাখি, যে দেশের কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি থাকা স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে, সে দেশ নয়। অর্থাৎ ভারতের কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি নেই। কারণ এখানকার কারেন্সি নোটে মহাত্মা গান্ধী ছাড়া কারও ছবি থাকে না।

Shyamsundar

আরও বহু দেশ আছে যেখানে গণেশের মূর্তি পাওয়া যায়। নেপাল, তাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া এবং বাংলাদেশে এই মূর্তি পাওয়া যায়। এমনকি ফিজি, মরিশাস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, এই সব দেশেও গণেশমূর্তি পাওয়া যায়। এদেরই মধ্যে একটি দেশের কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি আছে। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে সেই দেশটি হল ইন্দোনেশিয়া, পৃথিবীর মধ্যে যে দেশে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষ সব চেয়ে বেশি থাকে।

হ্যাঁ, ইন্দোনেশিয়ার কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি আছে। ২০০০০ রুপিয়াহ-র নোটে গণেশের ছবি আছে। পাশাপাশি আছে ইন্দোনেশিয়ার আন্দোলনে এক সক্রিয় কর্মী কাই হাদজার দেওয়ান্তারার ছবি। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ওই কারেন্সি নোট ছাপা হয়েছিল।

কারেন্সি নোটে গণেশ কেন?

শোনা যায়, ভারতের রাজ্যসভার সাংসদ সুব্রহ্মণ্য স্বামী ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রীর কাছে এর কারণ জানতে চেয়েছিলেন।

ইন্দোনেশিয়ার অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৭ সালে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রার অবমূল্যায়ন হয়েছিল। অনেক চেষ্টা করেও এই বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি। কেউ একজন পরামর্শ দিয়েছিলেন, কারেন্সি নোটে ভগবান গণেশের ছবি রাখতে কারণ গণেশ নাকি সব বিপদ থেকে উদ্ধার করে সৌভাগ্য এনে দেন।  

ইন্দোনেশিয়ার বিশেষত্ব

দেশটি মূলত ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও ছ’টি ধর্মকে সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে – ইসলাম, প্রোটেস্ট্যান্টিজম, রোমান ক্যাথলিসিজম, হিন্দু, বৌদ্ধ এবং কনফুসিয়ানিজম।

দেশটির ৮৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী। মুসলিম জনসংখ্যার নিরিখে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ। আর হিন্দু জনসংখ্যার হার ১.৭ শতাংশ। তবু হিন্দু ধর্মের সঙ্গে, হিন্দু সংস্কৃতির এই দেশটার একটা নিবিড় যোগ রয়েছে সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে। ইন্দোনেশিয়ার বহু ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থল হিন্দু ধর্মের সঙ্গে যুক্ত।

ইন্দোনেশিয়ার একাংশ এক সময় ভারতের দাক্ষিণাত্যের শাসক চোলাদের শাসনাধীন ছিল। সেই সময় ওই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বহু মন্দির তৈরি হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপ ভারতীয় পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় জায়গা। এক বালি দ্বীপের সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসী হিন্দু। ২০১১ সালে ইন্দোনেশিয়ায় নতুন নকশায় ৫০০০০ রুপিয়াহ-র নোট ছাপানো হয়। তাতে বালির মন্দির ‘পুরা উলুন দানু ব্রতন’-এর ছবি ছিল।

ইন্দোনেশিয়ার মানুষ রামায়ণ-মহাভারতের সঙ্গে সুপরিচিত। দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন কিছু স্ট্যাচু বসানো হয়েছে, যাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে হিন্দু সংস্কৃতির। জাকার্তা স্কোয়ারে রথারূঢ় অর্জুন-শ্রীকৃষ্ণের স্ট্যাচু রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর ম্যাসকট হনুমান।

ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন সুকর্ণ। ইসলাম ধর্মাবলম্বী সুকর্ণের নামকরণ হয়েছে মহাভারতের কর্ণের কথা মনে রেখে। পরবর্তী কালে সুকর্ণ-কন্যা মেঘাবতী সুকর্ণপুত্রী দেশের প্রেসিডেন্ট হন। তাঁর নাম রেখেছিলেন ওড়িশার এক সময়ের মুখ্যমন্ত্রী বিজু পট্টনায়ক (বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়কের বাবা)। ‘মেঘাবতী’ শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে, অর্থ ‘মেঘের দেবী’।

এমনই বহুমাত্রিক দেশ ইন্দোনেশিয়া। সুতরাং সেই দেশের কারেন্সি নোটে গণেশের ছবি থাকাটা কি খুব আশ্চর্যের?

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন