চাউমিনের পাশে জিলিপি। মনসা পূজার মেলায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: এ বার গরমে প্রথম দফায় জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির মেলায় তেমন ভিড় হল না। দুপুরের দিকে রোদ পড়ে যাওয়ায় ভিড় বাড়তে থাকে। দোকানদাররা আশা করছেন বৃষ্টি না থাকায় এ বার তাঁরা ভালো বিক্রি করতে পারবেন। মেলার দিন এ বার বেড়েছে। তাই এ বার অন্যান্য বারের তুলনায় দোকানের সংখ্যা বেড়েছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জায়গা থেকে ওঁরা পসরা নিয়ে এসেছেন। জানালেন, মেলায় আসা ক্রেতাদের রুচি পালটাচ্ছে।

সকাল থেকে চড়া রোদ। জলপাইগুড়ি শহরের তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি। শনিবার জলপাইগুড়ি শহরে বৈকুন্ঠপুর রাজ এস্টেটের মনসাপুজোর মেলা প্রথম দিন গরমের জন্য সকালে ভিড় হয়নি। মেলায় পসরা নিয়ে আসা দোকানদাররা গালে হাত দিয়ে বসেছিলেন। ভাবছিলেন এ বার বোধহয় ভিড় হবে না। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সেই ভুল ভাঙতে থাকে।আকাশ মেঘলা হতে আরম্ভ করে। তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়। সমস্ত দোকানে কেনাবেচা শুরু হয়ে যায়। শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার বাসিন্দা দুই ভাই এবং তাঁদের বউরা মিলে দু’টি খেলনার দোকান দিয়েছেন। দু’টি দোকানেই মালকিনরা ছিলেন। তাঁদের পক্ষে আহ্লাদি পোদ্দার বলেন, “আমরা গত ২৫ বছর ধরে এই মেলায় আসছি। এখানে ভালো বিক্রি হয়। এ বার সকালে গরম থাকায় লোক আসতে পারেনি। আশা করছি এ বার ভালো লোক আসবে।”

উত্তরবঙ্গ তথা এই মেলার বৈশিষ্ট্য মেলায় যাঁরা দোকান দেন তাঁরা মেলার জন্যই দোকান করেন। সারা বছর ধরে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রাম্তে যত মেলা হয় সেখানে তাঁরা দোকান দেন। এটাই তাঁদের ব্যবসা। জলপাইগুড়ির রাজবাড়ির মেলা তার ব্যতিক্রম নয়। এখানে একমাত্র জামাকাপড় বাদে সব রকম দোকান বসে। খেলনা ছাড়াও নিত্যব্যবহার্য সামগ্রীর দোকানও থাকে। এ ছাড়া আছে নানা রকম খাবারের দোকান।

হরেক জিনিসের সম্ভার মেলায়।

হলদিবাড়ি শহরের ধারানগর থেকে এসে হরেক মালের দোকান দিয়েছেন বাপি দেবনাথ। তিনি ছয় বছর ধরে এই মেলায় আসছেন। তিনি বলেন, “সন্ধের পর আশা করছি ভিড় হবে।” গত পঞ্চাশ বছর ধরে মেলায় নানা রকমের দোকান করার পর এখন কৃত্রিম গাছগাছালি এবং ফুলের দোকান দেন সন্তোষ পাল। তিনি বলেন, “খদ্দেরদের কেনাকাটার রুচি পালটানোর সঙ্গে সঙ্গে মেলায় আমরাও ব্যবসা পালটে ফেলেছি।” আর সেই কারণেই দোমহনির ভানু ঘোষ এত দিন ধরে মেলায় জিলিপি এবং নানারকম মিষ্টি বিক্রির করে আসার পর এ বার তার সঙ্গেই রেখেছেন মোমো আর চাউমিনের সম্ভার। তিনি বলেন, “এখন শুধু জিলিপি খেয়ে মানুষ সন্তুষ্ট না। তাঁদের রুচি এখন মোমো চাউমিন চায়।” দিনহাটার রফিক এত দিন ধরে মাছভাতের হোটেল করতেন। গত দু’বছর ধরে তিনি মোগলাই, চাট, চাউমিন সমেত নানা রকম খাবার করছেন। তিনি বলেন, “মেলায় আসা লোক এখন আর মাছভাত খেতে চায় না। তারা এখন অন্যরকম খাবার পছন্দ করে।”

জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি সুত্রে জানা যায় যে এ বার মেলায় মোট ৮১৬টি দোকান বসেছে।

ছবি: প্রতিবেদক

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন