lighting at sripur
জগদ্ধাত্রী পূজা উপলক্ষ্যে শ্রীপুরে আলোকসজ্জা। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সবুজ ধানখেতের মাঝখানে লালমাটির রাস্তা। লালপাড় শাড়ি পরে, মাথায় মঙ্গলঘট নিয়ে সারি দিয়ে চলেছে গ্রামের বধূরা। পুরোহিত পুজোর ঘট নিয়ে চলেছেন পুজোমণ্ডপের দিকে। গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে হাজারো লোকজনের আনাগোনা। শাঁখ ঢাক আর ধূপের ধোঁয়ায় ম ম করছে চার দিক। গ্রামের জগদ্ধাত্রী মন্দিরে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে পুজো। একটা দু’টো করে বেশ কয়েক জন দোকানি পসরা নিয়ে দোকান সাজানো শুরু করেছেন। গ্রামের স্থানীয় পুকুরে তখনও চলছে নৌকাবিহারের প্রস্তুতি। এই সমস্ত কিছু দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই আসতে হবে বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার শ্রীপুর গ্রামে।

আরও পড়ুন ‘নির্মল বাঁকুড়া’র প্রচারে ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নিলেন স্বয়ং জেলাশাসক, দেখে নিন তিনি কেমন দৌড়ালেন?

জমিদারি চলে যাওয়ায় আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজো চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় প্রজাদের অনুরোধ করেন জমিদার স্বয়ং। তার পর থেকেই এখানে ব্রাহ্মণ জমিদারের বদলে কয়েক শতাব্দী ধরে জগদ্ধাত্রীপুজোর আয়োজন করে আসছেন গ্রামের ‘সিরুল’ সম্প্রদায়। সমস্তটাই বাপ-ঠাকুর্দার মুখে শোনা গল্প বলে শ্রীপুরের জগদ্ধাত্রী মণ্ডপে বসে জানালেন পুজোকমিটির সদস্য সুদীপ রায়। তিনি আরও জানান, এ বছর পুজোর বাজেট ছয় লক্ষ টাকা, যার মধ্যে এক লক্ষ টাকা খরচ করা হয় লাইটের জন্য।

jagaddhatri puja sripur
শ্রীপুর গ্রামে জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র।

বর্তমানে স্থায়ী মন্দির তৈরি হয়েছে গ্রামে। সাধ্যমতো উপাচার দিয়ে দেবীকে পুজোয় নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। এখানে পুজোয় বলিদানের চল আছে। স্থানীয় গ্রামবাসীরা জানান, ভেড়া পাঁঠা বলি দেওয়ার নিয়ম। পুজো এখানে দু’দিনের। পুজো উপলক্ষ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হয়। পুজো দেখতে আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ ভিড় করেন। জগদ্ধাত্রীপুজো শ্রীপুর গ্রামে উৎসবের আকার নেয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here