jagaddhatri idol
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

দুর্গাপুজো, কালীপুজোর পরে আসে জগদ্ধাত্রীপুজো। দুর্গা অষ্টমীর পরের অষ্টমীতে জগদ্ধাত্রীপুজো অনুষ্ঠিত হয়। চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের পুজো বর্তমানে পৃথিবীখ্যাত হয়ে গিয়েছে। এখন কলকাতাতেও বেশ কয়েকটি বারোয়ারি পুজো হয়। এ ছাড়া শহরে বেশ কয়েকটি বাড়ির পুজোও বেশ প্রাচীন।

দুর্গাচরণ মিত্রের বাড়ি

দর্জিপাড়ার এই পুজো প্রায় আড়াইশো বছরের প্রাচীন। ঘোটকমুখী সিংহের পিঠে ডান-পায়ের উপরে বাঁ-পা মুড়ে প্রতিমা আসীন। এই বাড়ির ইষ্টদেবী বলে দেবীকে তিরকাঠি দিয়ে ঘেরা হয় না। কলাপাতায় অর্ঘ্য বাঁধা হয়।

গিরিশ ভবন

ভবানীপুরের এই বাড়িতে প্রায় দু’শো বছর আগে এই পুজো শুরু করেন কালাচাঁদ মুখোপাধ্যায়। এই বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজোতে যাত্রাপালাই মূল আকর্ষণ। এক সময় এখানে অভিনয় করে গিয়েছেন গিরিশ ঘোষ ও উত্তমকুমার। এখন পুজোতে বাড়ির সদস্যরা সন্ধ্যাবেলায় অভিনয় করেন। প্রতিমাকে সোনা ও রুপোর গয়না পরানো হয়। ভোগ দেওয়া হয় খিচুড়ি, পোলাও, লুচি ও নানা পদের ভাজা।

ছাতুবাবু ও লাটুবাবুর বাড়ির পুজো

১৭৮০-তে রামদুলাল দে সরকার পুজো শুরু করেন। ডাকের সাজে অতসী ফুলের রঙের প্রতিমা। কাঠের সিংহাসনে দেবীর অধিষ্ঠান। তন্ত্রমতে ত্রিসন্ধ্যা দেবীর পুজো হয়। প্রথম পুজোয় আখ ও চালকুমড়ো বলি হয়। দ্বিতীয় পুজোয় কুমারীপুজো ও তৃতীয় পুজোর সন্ধিক্ষণে ১০৮টি রুপোর প্রদীপ জ্বালানো হয়। ভোগ নিবেদনে থাকে গাওয়া ঘিয়ের লুচি, নুন ছাড়া আলু, পটল ও বেগুনভাজা। থাকে নাড়ু-সন্দেশ ইত্যাদি।

রানি রাসমণির বাড়ির পুজো, জানবাজার

১৮২০-তে এই পুজো শুরু করেন প্রীতরাম দাস। এক সময় বীরভূম থেকে শিল্পীরা এসে প্রতিমা গড়ে দিয়ে যেতেন। এখন কুমোরটুলি থেকে আসেন শিল্পীরা।

খেলাতচন্দ্র ঘোষের বাড়ি, পাথুরিয়াঘাটা

১৮৪২-এ পুজো শুরু করেন খেলাতচন্দ্র ঘোষ। এখানে দেবীর ডান দিকে থাকে নারদ, বাঁ দিকে থাকে নীলকণ্ঠ ভৈরবের মূর্তি। সাবেক ডাকের সাজের প্রতিমার পিছনে থাকে সূর্যাকৃতি তামার চালি।

ভট্টাচার্যবাড়ি, তালতলা

হুগলির তারকেশ্বরের বৈকুন্ঠপুর গ্রাম থেকে এই বাড়ির পুজোর সূচনা হয়। তিন বার ভোগ নিবেদনের প্রথম পর্বে থাকে সাদাভাত, খিচুড়ি, শুক্তো ও ভাজা। দ্বিতীয় পুজোয় লুচি ও নানা সবজির তরকারি। এই সময় নিবেদন করা হয় ১০৮ পদ্ম ও প্রদীপ। তৃতীয় পুজোয় পোলাও। ডাকের সাজের চালিতে থাকে পটচিত্র।

আরও পড়ুন: শান্তিপুরের ‘মিনি চন্দননগরের’ পুজোয় জড়িয়ে শতাধিক বছরের ঐতিহ্য

বি কে পালের বাড়ি, বেনিয়াটোলা

দু’পা মুড়ে সিংহের পিঠে অধিষ্ঠান। দেবীর দু’পাশে থাকে চার সখী। বটকৃষ্ণ পাল ১৯০০-তে পুজো শুরু করেন। সিংহের গায়ে লাগানো হয় আকন্দ তুলোর কোয়া। দিনে তিন বার পুজো হলেও সন্ধিপুজোর সময় রুপোর বাসন ব্যবহার হয়। ভোগে থাকে লুচি, মিহিদানা ও সন্দেশ।

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার

আটচালা বাড়ির পুজো শুরু হয় ১৯৬৬-তে। দিনে তিন বার পুজো হয়। ভোগে থাকে খিচুড়ি, পোলাও, সাদাভাত, ভাজা ও নানা সবজির তরকারি ও মাছ। প্রতিমা ডাকের সাজের হয়।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here