Connect with us

মেলাপার্বণ

আজও জন্মাষ্টমীতে খড়দহের শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দরের মন্দিরের পুরোহিত শ্যামসুন্দরকে রূপোর ঝিনুক-বাটিতে গরম দুধ খাওয়ান

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী 

বাংলার ইতিহাসের পাতাকে আরও আলোকিত করে এখানকার সুপ্রাচীন ঐতিহ্য ও স্থাপত্য। খড়দহের প্রাচীন শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দর জিউের মন্দিরে আজও পালিত হয় বিভিন্ন মহোৎসব, যার মধ্যে জন্মাষ্টমী অন্যতম।

চৈতন্য ভাগবতে উল্লেখ রয়েছে, সন্ন্যাস নেওয়ার পর শ্রীচৈতন্যদেব মায়ের সঙ্গে দেখা করে গৌড়বঙ্গ পরিভ্রমণ করে বৃন্দাবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় খড়দহে এসেছিলেন। মহাপ্রভু শ্রীশ্রীচৈতন্যদেবের আদেশেই প্রভু নিত্যানন্দ সন্ন্যাসীকে হওয়া সত্ত্বেও গৃহাশ্রমী হতে হয়েছিল। ১৪৪১ শকাব্দ অর্থাৎ ১৫১৯ খ্রিস্টাব্দের এক শুভক্ষণে নিতাইচাঁদের সঙ্গে বসুধা দেবীর বিবাহ সম্পন্ন হল।

নিত্যানন্দপ্রভু খড়দহে শ্রীপাট স্থাপন করবেন বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাই প্রভু নিত্যানন্দকে ২৬ বিঘা জমি দান করেছিলেন শ্রীপুরন্দর পণ্ডিত। সেই জমিতে শ্রীনিত্যানন্দপ্রভু স্থায়ী ভাবে বসতি স্থাপন করেন। বর্তমানে সেই ভবন ‘কুঞ্জবাটী’ নামেই পরিচিত। শ্রীনিতাইচাঁদ সঙ্গে নিয়ে এলেন অনন্তদেব, ত্রিপুরাসুন্দরী যন্ত্র ও নীলকণ্ঠ বিগ্রহ। এই সমস্ত বিগ্রহ নিতাইচাঁদের পারিবারিক বিগ্রহ। শ্রীপাট খড়দহে এসে সস্ত্রীক শ্রীনিতাইচাঁদ শ্রীগৌরাঙ্গ নাম-প্রেম প্রচার করেন। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহ শুধুমাত্র বৈষ্ণবদেরই অন্যতম শ্রেষ্ঠ তীর্থস্থান নয়, বাংলার সামাজিক সাংস্কৃতিক জীবনধারার অন্যতম কেন্দ্রস্থল। এই কুঞ্জবাটীতেই শ্রীনিতাইচাঁদের অষ্টমপুত্র মহান সাধক বীরভদ্রজির (বীরচন্দ্রপ্রভু) জন্ম হয়-

‘ধন্য ধন্য বসু লক্ষ্মী বলে সর্বজন।/ পুত্র প্রসবিলা যেমন চন্দ্র-বদন।।’

প্রভু বীরভদ্রজির (বীরচন্দ্রপ্রভু) আবির্ভাবের সংবাদ শ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের কাছে পৌঁছোলে তিনি সস্ত্রীক খড়দহে এসে নবকাতককে দর্শন করে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিলেন। বীরভদ্রপ্রভুই খড়দহে শ্যামসুন্দরের কষ্টিপাথরের বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

১৫৭৫ সালে রাজশাহী জেলার পদ্মানদীর তীরে খেতরীতে, মাতা জাহ্নবীর নেতৃত্বে ধর্মমহাসন্মেলন হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়, আরও কয়েকটি কৃষ্ণবিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই ধর্মমহাসন্মেলনের পর জাহ্নবীদেবী বৃন্দাবনে যান। বৃন্দাবনের গোপীনাথ মন্দিরে রাধাগোপীনাথকে দর্শনের সময় তাঁর মনে হয়েছিল যে রাধিকার উচ্চতা আরও একটু বেশি হলে ভালো হত। গৌড়ে এসে নয়ন ভাস্করকে দিয়ে রাধিকামূর্তি গড়িয়ে বৃন্দাবনে পাঠিয়ে দেন এবং ওই মূর্তি গোপীনাথের পাশে বসানো হয়। ওই সময়েই খড়দহের শ্যামসুন্দরের জন্যও একটি সুন্দর রাধিকামূর্তি নয়ন ভাস্করকে দিয়ে গড়ানো হয় এবং অষ্টধাতুর রাধিকামূর্তিটি শ্যামসুন্দরের বাম দিকে বসানো হয়। সেই থেকেই খড়দহের রাধাশ্যামই লক্ষ্মীবিষ্ণু বা লক্ষ্মীনারায়ণ। 

খড়দহের ঐতিহ্যপূর্ণ শ্যামসুন্দরের মন্দিরে জন্মাষ্টমীর উৎসব আজও ধুমধাম করে পালিত হয়। এখানে রয়েছে রাধাশ্যামসুন্দরের যুগল বিগ্রহ। রাধারানিকে পর্দা দিয়ে আড়াল করে রেখে শ্যামসুন্দরের জন্মক্ষণ পালন করা হয়। জন্মাষ্টমীর দিন সকালে শ্রীশ্রীশ্যামসুন্দরের নিত্যপূজা হয়। তার পর বিকালে দুধ, দই, মধু, চিনি, ঘি, গঙ্গাজল, আতর, জবাকুসুম তেল ইত্যাদি নানান রকমের জিনিস দিয়ে অভিষেক করিয়ে বাইরে নিয়ে আসা হয় ভক্তদের দর্শনের জন্য।

বিভিন্ন আচার মেনে স্নান করানোর আগে প্রধান পুরোহিত শিশুর কণ্ঠস্বরে কেঁদে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে শাঁখ, কাঁসর, ঘণ্টা ও উলুধ্বনিতে এলাকা মেতে ওঠে। পুরোহিত রূপোর ঝিনুক বাটিতে গরম দুধ খাওয়ান বলেই জানালেন মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ দেবমাল্য গোস্বামী মহাশয়। তার পর তা কিছুক্ষণ রেখে আবার মন্দিরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয় ও আবার অভিষেক করে জন্মাষ্টমীর পুজো হয়।

জন্মাষ্টমীর পুজোতে লুচি, তালের বড়া, মালপোয়া, ক্ষীর ইত্যাদি নিবেদন করা হয়। তার পর আবার নিত্যসেবার ভোগ নিবেদনের পর শয়ন হয়। পরের দিন নন্দউৎসব। খিচুড়ি, নানান রকমের ভাজা, তরকারি, পায়েস ইত্যাদি ভোগ নিবেদন করা হয় শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দরকে। শ্রীমন্দিরে জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দউৎসব পালন করা হয় ও শিশুদের ওই দিন শ্রীমন্দিরে ভক্তি সহকারে অন্ন, খিচুড়ি, পরমান্ন ইত্যাদি খাওয়ানো হয়। এই ভাবে বিভিন্ন প্রাচীন উপাচারে আজও পুজো হয় খড়দহের শ্যামসুন্দরের মন্দিরে।

তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে মন্দিরে নিষ্ঠার সঙ্গে সমস্ত নিয়মআচার মেনে পুজো হলেও জন্মাষ্টমীর দিন সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে – এমনটাই জানালেন মন্দিরের কোষাধ্যক্ষ।

দুর্গা পার্বণ

করোনাকালে আড়ম্বর থাকবে না, তবুও থাকবে চমক তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

এই বারের ট্যাগ লাইন, ‘মা তোমার কাছে কিছু চাই না, খালি করোনা মুক্তি ছাড়া’।

Published

on

স্মিতা দাস

৫৫তম বর্ষে তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন। করোনার গ্রাসে তেলেঙ্গাবাগানে হচ্ছে না থিম। তার প্রথম ও অন্যতম কারণ হল কন্টেনমেন্ট জোনে রয়েছে এই পুজো। অনেক কঠিন পরিস্থিতি পেরিয়ে, পাড়ার বয়স্কদের বহু বারণ সত্ত্বেও আয়োজন করা হয়েছে পুজোর। তবে তার জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে বহু নিয়ম ও সচেতনতার। এই বারের ট্যাগ লাইন, ‘মা তোমার কাছে কিছু চাই না, খালি করোনা মুক্তি ছাড়া’।

ঠিক কী ভাবে হচ্ছে এই বছরের পুজো?

এই ব্যাপারে ক্লাবের অফিস সেক্রেটরি অমৃত সাউ বলেন, এই বারের মণ্ডপ একদম সাধারণ। চার দিক খোলা। ঢোকা বেরোনোর পথ আলাদা আলাদা। তবে সাবেকি ঠাকুর। প্রতিমাতেই থাকছে বিশেষ আকর্ষণ। বিশেষ করে প্রতিমার মুকুটে থাকবে চমক। দর্শকরা দেবী মূর্তি দেখে মুগ্ধ হবেনই।

চালচিত্র নিয়ে এ বারের প্রতিমার উচ্চতা ১২ ফুট। শিল্পী ভাস্কর প্রদীপ রুদ্র পাল গড়ছেন ঠাকুর।

অমৃত জানান, ঢোকার মুখেই রাস্তার ওপর থাকবে জায়েন্ট স্ক্রিন। সেখান থেকেই দর্শকরা ঠাকুর দেখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে ভেতরে ঢোকারও দরকার পড়বে না। ফলে ভিড় এড়ানো যাবে। মাস্ক, থার্মাল স্ক্রিনিং, দূরত্ব বজায় রাখতে গোল গোল দাগ থাকবে ঢোকার রাস্তায়। মাটি থেকে দশ ফুট খোলা থাকবে মণ্ডপ।

অষ্টমীতে অঞ্জলি হবে বাড়িতে বসেই, বাড়ির ঠাকুরের সামনে। মাইক দিয়ে মণ্ডপ থেকে ঠাকুরমশাই মন্ত্র পাঠ করবেন। সেই শুনে অঞ্জলি দেবেন এলাকাবাসী। পরে সুবিধেমতো এসে মণ্ডপে রাখা ঝুড়িতে ফুল দিয়ে যাবেন। পরিবর্তন করা হয়েছে ভোগের দিন ক্ষণে। অষ্টমীতে নয়, নবমীতে হবে ভোগ।

প্রতি বছরের মতোই মানুষের কাছে বার্তা তুলে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে এ বছর করোনা নিয়েই বার্তা থাকবে। বাজেট ৭০% কাট করা হয়েছে। এই বারের বাজেট ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। চাকচিক্য নেই, লাইটের রমরমাও নেই।

অমৃতবাবু জানান, এখনও পর্যন্ত ব্যানার স্পনসর, স্টল ইত্যাদি নিয়ে কোনো ফোনও আসেনি। সেই নিয়ে চিন্তিত কর্মকর্তারা।

এই বছরের উদ্বোধন তৃতীয়াতে, বিসর্জন পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনেই হবে।

গত বছরের থিম ছিল ‘পুনর্জন্ম’।

খান্না থেকে উলটোডাঙার দিকে যেতে অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে বাঁ দিকে তৃতীয় পূজামণ্ডপ।

আরও – পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশিবাড়ি বৈষ্ণবধারার হলেও পুজোয় বলিদান হয় দেবীরই আদেশে

Published

on

বকশিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজোয় নানা রীতি, নানা আচার পালন করা হয় বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। কোথাও দেবীর ভোগে অন্ন থাকে, আবার কোথাও দেবীকে লুচিভোগ দেওয়া হয়। মৃন্ময়ী মূর্তির ক্ষেত্রেও বিশেষত্ব দেখা যায়। যেমন, কোথাও তিনি ব্যাঘ্রবাহিনী আবার কোথাও তিনি সিংহবাহিনী।

বঙ্গের পুজোয় কুলাচারের নিয়ম প্রতিটি বাড়িতেই বহু বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে এবং এটাই বঙ্গের সংস্কৃতি যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন অগণিত ভক্ত। তেমনই পশ্চিম বর্ধমানের বকশিবাড়িতে দেবীর পদতলে বিরাজ করেন সিংহের পরিবর্তে বাঘরাজ। এই বাড়ির পুজো প্রায় ২৬২ বছরের পুরোনো।

পশ্চিম বর্ধমানের খান্দরার বকশি বংশের আদিপুরুষ কিশোরীমোহন দাস ছিলেন বৈষ্ণবভক্ত। বর্ধমানের মহারাজাদের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। নানা অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন কিশোরীবাবু। তাঁর সেই ক্ষমতা দেখে তাঁর সাধ্যমতো উপকার করার প্রতিশ্রুতিও দেন বর্ধমানের মহারাজা। এর পর কিশোরীমোহন দাস সস্ত্রীক বৃন্দাবনে যান এবং সেখানেই তাঁর স্ত্রী এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। পুত্রের নাম রাখা হয় গোবর্ধন। এই গোবর্ধন দাস ছিলেন বীর যোদ্ধা এবং প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী। বর্ধমানের মহারাজা তাঁর অসীম ক্ষমতা দেখে তাঁকে প্রধান সেনাপতির পদে নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে বকশি উপাধি প্রদান করেন। গোবর্ধন দাসের সূত্রেই সূচনা হল বকশি বংশের।

১৭৫৭ সালের পরবর্তী সময়ে দেশীর রাজাদের সঙ্গে ইংরেজদের খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময় গোবর্ধন বকশি ছিলেন বর্ধমান মহারাজার প্রধান সেনাপতি। যুদ্ধ চলাকালীন গোবর্ধনবাবু একদিন মায়ের স্বপ্নাদেশ পান। মা তাঁর মূর্তিপূজা শুরু করতে বলেন। মা বলেন, তাঁর মূর্তিপূজা করলে তিনি তাঁকে এবং তাঁর বংশকে সকল বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। মা স্বপ্নাদেশেই জানিয়ে দেন, তাঁর যে মৃন্ময়ীরূপের পুজো হবে, সেই রূপ তিনি দাঁইহাটের এক শিল্পীকে স্বপ্নাদেশে বর্ণনা করে দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিজয়নগরের গাছতলায় তাঁর যে শিলামূর্তি রয়েছে, তা এনে প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করারও আদেশ দেন মা।   

মায়ের মুখ।

এর পর দেবীর আদেশানুসারে গোবর্ধন বকশি শিলামূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন এবং দাঁইহাটের শিল্পীর সাহায্যে মূর্তি তৈরি করে শুরু করেন বংশের দুর্গাপুজো, যা আজও বংশপরম্পরায় চলে আসছে।

এই বাড়ির পুজো শুরু হয় রথের দিন মায়ের কাঠামোয় মাটি দিয়ে। এই বাড়ির মূর্তির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল দেবীর ডান পাশে থাকেন শ্রীলক্ষ্মী ও কার্তিক এবং বাঁ পাশে থাকেন দেবী সরস্বতী ও গণেশ। দেবীর দুর্গার আটটি হাত ছোটো, কাঁধে বসানো এবং বাকি দুটি হাত স্বাভাবিক। ছোটো আটটি হাতের অস্ত্র মাটির এবং ত্রিশূলটি রুপোর তৈরি। এই বকশিবাড়িতে মায়ের বাহন হলেন বাঘ।

বকশি পরিবার বৈষ্ণব হলেও দেবীর আদেশে বলিদান প্রথা পালন করা হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য শুভদীপ বকশি। দুর্গাপুজোর সপ্তমী ও মহাষ্টমীতে একটি করে ছাগ এবং মহানবমীতে তিনটি ছাগ, একটি মহিষ, চালকুমড়ো এবং আখ বলিদান হয়। এই বাড়ির দেবীকে কোনো শাড়ি পরানো হয় না। পুরো সাজটাই হয় রাজস্থানী ঘাঘরা দিয়ে। মায়ের মন্দিরের ভেতরে কোনো বেদি নেই। দেবীর আদেশে মন্দিরের ভেতরের মেঝেটি পুরোটাই মাটির।

বকশিবাড়ির পুজোয় ১২০ জনেরও বেশি ঢাকি আসেন। ঢাকের লড়াই চলে গ্রামের সরকারবাড়ির সঙ্গে বকশিবাড়ির। এ এক চিরন্তন প্রথা। বকশিবাড়িতে পুজোর সময় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় – নাচ, নাটক, গান ইত্যাদি। বকশিবাড়ির খ্যাপা মাকে দর্শন করতে মানুষ ছুটে আসেন দূরদূরান্ত থেকে, জড়ো হন এ বাড়ির ঠাকুরদালানে। পুজোর চার দিন ঠাকুরদালানে ভক্তদের ভিড় দেখার মতন।

বকশিবাড়ির কুলদেবতা হলেন গোপাল। পুজোর সময় মায়ের সামনে গোপালকে রেখে তাঁর পুজো করা হয়। এই ভাবে পুজোর নানা প্রথা আঁকড়ে রেখে এবং সাবেক ঐতিহ্য মেনে আজও পুজো হয় বকশিবাড়ির খ্যাপা মায়ের।

খবর অনলাইনে আরও পড়তে পারেন

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

উধাও হয়ে যাওয়া শ্রীরাধারমণ বিগ্রহ ফিরে পেতেই শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নীর আরাধনা

দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো।

Published

on

বড়ো গোস্বামী বাড়ির দুর্গাপূজা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শান্তিপুরের প্রাচীন ঐতিহ্যের মধ্যে অন্যতম এই অঞ্চলের দুর্গাপুজো, যা বহু বছর ধরে হয়ে আসছে বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে। বৈষ্ণব এবং শৈব ধারার পাশাপাশি এখানে শাক্তমতের আড়ম্বরও লক্ষ করা যায়, ধুমধাম করে পালিত হয় দুর্গাপুজো, কালীপুজো।

এই অঞ্চলের একটি প্রাচীন পরিবারে রাস উৎসবের পাশাপাশি সাড়ম্বর পালিত হয় দুর্গাপুজো। শান্তিপুরনাথ অদ্বৈতাচার্যের পুত্র বলরাম মিশ্রের পুত্র মথুরেশ গোস্বামীর প্রথম পুত্র রাঘবেন্দ্র গোস্বামী থেকেই বড়ো গোস্বামী বাড়ির সৃষ্টি। এই বাড়িতে আজও নিত্য পূজিত হন অদ্বৈতাচার্যের সেবিত শালগ্রামশিলা এবং আরও অনেক দেবদেবী।

বড়ো গোস্বামী বাড়ির পূর্বপুরুষ মথুরেশ গোস্বামী তাঁর পিতার কাছ থেকে শ্রীশ্রীরাধামদনমোহন, প্রভু সীতানাথ, সীতামাতা ও অচ্যুতানন্দের সেবাভার পেয়েছিলেন। মথুরেশ গোস্বামী বাংলাদেশের যশোহর থেকে এনেছিলেন শ্রীরাধারমণকে  এবং সেই বিগ্রহ সেবা পান শান্তিপুরের বড়ো গোস্বামী বাড়িতে।

এই রাধারমণ একবার বাড়ির মন্দির থেকে রহস্যজনক ভাবে উধাও হয়ে যান। সেই বিগ্রহ ফিরে পেতেই বাড়ির মহিলারা ব্রত রাখলেন দেবী কাত্যায়নীর। কারণ বৃন্দাবনে গোপীরা যেমন কাত্যায়নীব্রত করে লীলাপুরুষোত্তমকে পেয়েছিলেন ঠিক তাঁদেরও তেমন বিশ্বাস ছিল যে তাঁরাও তাঁদের রাধারমণকে ফিরে পাবেন দেবীর ব্রতপূজা করলে। এবং পুজোর সময় স্বপ্নাদেশে জানতে পারা গেল, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই রয়েছেন রাধারমণ। তখন বড়ো গোস্বামী বাড়ির সদস্যরা তাঁকে নিয়ে আসেন। এ ভাবেই প্রায় সাড়ে তিনশো বছর আগে বড়ো গোস্বামী বাড়িতে শুরু হয় কাত্যায়নী তথা মা দুর্গার আরাধনা, যা আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

বড়ো গোস্বামী বাড়িতে মা দুর্গার আরাধনা।

প্রত্যেক বনেদিবাড়ির দুর্গাপ্রতিমায় যেমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, বড়ো গোস্বামী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এই বাড়িতে দেবীর বাহন সিংহ ঘোটকাকৃতি। প্রতিমার দশটি হাতের মধ্যে দুটি হাত বড়, আটটি হাত ছোটো। কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী এবং সরস্বতী থাকে বিপরীত দিকে। দেবীর ডান দিকে থাকে কার্তিক ও লক্ষ্মী এবং বাঁ দিকে গণেশ ও সরস্বতী। এই পরিবারের পুজো হয় পূর্বপুরুষদের তৈরি করা বিশেষ পুথি দেখে এবং মহানবমীতে হয় বিশেষ প্রার্থনা।

এই বাড়িতে ভোগরান্না করেন বাড়ির দীক্ষিত মহিলারা। ভোগরান্নায় অন্য কারও অধিকার নেই। এই বাড়ির পুজোয় ৩৬ রকমের পদ দিয়ে ভোগ দেওয়া হয়। ভোগে থাকে সাদা ভাত, খিচুড়ি, নানা রকমের ভাজা, শুক্তানি, তরকারি, পোলাও, ধোঁকার তরকারি, ছানার ডালনা ইত্যাদি।

দশমীর দিন শান্তির জল দেওয়া হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন এলাকার মানুষেরাও। সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এখানে মায়ের সকালবেলায় বিসর্জন হয়ে যায়। কারণ মা যতক্ষণ না বিসর্জিত হন ততক্ষণ বড়ো গোস্বামী বাড়ির ইষ্টদেবতা শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউয়ের ভোগ রান্নার কাজ শুরু হয় না। মা চলে যাওয়ার পরেই তা শুরু হয়।

দশমীর দিন মায়ের বিসর্জনের আগেই রাসের খুঁটি পুঁতে রাস উৎসবের শুভ সূচনা হয়। এ ছাড়াও শ্রীশ্রীআগমেশ্বরী মায়ের পাটপুজো দেখে তার পর মা বিসর্জনে যান। বিসর্জনের পরে ঘাটে উপস্থিত প্রায় ৩০০-৪০০ জনকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

বড়িশার আটচালায় কলকাতার প্রথম দুর্গাপুজো শুরু করলেন লক্ষ্মীকান্ত

Continue Reading
Advertisement
Kings XI Punjab vs MUmbai Indians
ক্রিকেট51 mins ago

রাজস্থানের পর এ বার মুম্বইয়ের কাছেও আটকে গেল পঞ্জাব

I2Cure
শরীরস্বাস্থ্য3 hours ago

আই2পিওর ভারতে এল আই2কিয়োর হিসাবে

Covid situation kolkata
রাজ্য4 hours ago

সুস্থতা বাড়লেও কলকাতা-সহ রাজ্যের ৮ জেলার কোভিড-পরিস্থিতিই এখন উদ্বেগের

শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

সরষের তেল থেকে এলপিজি হয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স, কাল থেকে যে ১০টি নিয়ম বদলে যাচ্ছে

Coronavirus durga puja
দেশ2 days ago

ওনামেই বিপদ বাড়ল কেরলের, পুজোর আগে শিক্ষা নিতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে

Rapes in India
দেশ2 days ago

দৈনিক ৮৭টি ধর্ষণের ঘটনা ভারতে, চাঞ্চল্যকর তথ্য এনসিআরবির

Uttar Pradesh Police
দেশ2 days ago

আটকে রাখা হল পরিবারকে, ঘেঁষতে দেওয়া হল না সংবাদমাধ্যমকে, হাতরাসের তরুণীর শেষকৃত্য করল পুলিশ

corona
দেশ2 days ago

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও সুস্থ হলেন আরও বেশি মানুষ, সক্রিয় রোগী আরও কমল ভারতে

দেশ2 days ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৮০৪৭২, সুস্থ ৮৬৪২৮

covid peak india
দেশ3 days ago

১৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে সক্রিয় রোগীর গ্রাফ নিম্নমুখী, কোভিডের চূড়া কি অবশেষে পেরোল ভারত?

coronavirus
দেশ3 days ago

দেশে নতুন কোভিড-আক্রান্তের সংখ্যা গত ২৮ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন, ব্যাপক পতন মৃত্যুর সংখ্যাতেও

দুর্গা পার্বণ3 days ago

করোনাকালে আড়ম্বর থাকবে না, তবুও থাকবে চমক তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

Coronavirus west bengal
দেশ3 days ago

বুধবারের মধ্যেই জারি হবে আনলক ৫-এর নির্দেশিকা, কী কী ছাড় মিলতে পারে এ বার?

Mamata Banerjee
রাজ্য2 days ago

‘গুরুপদ সিনহার মৃত্যু পশ্চিমবঙ্গের আলু ব্যবসায়ীদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি’, শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

প্রযুক্তি3 days ago

গাড়ির কাগজ থেকে ই-চালান, নয়া মোটর ভেহিকল আইনের পরিবর্তনগুলি আপনার জেনে রাখা উচিত

Mukesh Ambani
শিল্প-বাণিজ্য2 days ago

লকডাউনের পর থেকে প্রতি ঘণ্টায় মুকেশ অম্বানির আয় ৯০ কোটি টাকা!

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা3 days ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা6 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 week ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 week ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা2 weeks ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা3 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা4 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

নজরে