গণেশ চতুর্থী উৎসবের পাশাপাশি মহারাষ্ট্রে অষ্টবিনায়ক যাত্রাও খুব জনপ্রিয়

0
অষ্টবিনায়ক যাত্রা।
শ্রীময়ুরেশ্বর মন্দির ও বিগ্রহ।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আর কয়েক দিন পরেই গণেশ চতুর্থী উৎসব পালিত হবে সারা দেশ জুড়ে। তবে মহারাষ্ট্রে যে রকম ধুমধাম করে গণেশের আরাধনা হয়, তা দেশের অন্যত্র হয় না বললেই চলে। একই সঙ্গে চলে অষ্টবিনায়ক যাত্রা।

বেশ কিছু প্রাচীন ঐতিহ্যশালী গণেশ মন্দির রয়েছে এই রাজ্যে। তার মধ্যে রাজ্যের আটটি মন্দিরে এক এক রকম গণেশমূর্তি রয়েছে। এক যাত্রায় এই বিগ্রহগুলি দর্শন করা খুবই পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয় মহারাষ্ট্রে। মোটামুটি পুনে শহরকে কেন্দ্র করে এই বিনায়ক মন্দিরগুলি রয়েছে।

যাত্রা শুরু হয় পুনে থেকে ৬৬ কিমি দূরে মোরগাঁওয়ে শ্রীময়ুরেশ্বর মন্দির থেকে। এবং যাত্রা শেষও হয় এই মন্দিরে এসে। এই অষ্টবিনায়ক যাত্রার একটাই শর্ত – যাত্রা এক বার শুরু করলে শেষ করে বাড়ি ফিরতে হয়। মাঝে ফেরা যায় না। তবে ইচ্ছা করলে যে কোনো জায়গায় রাত কাটানো যায়।

সারা বছরের যে কোনো সময়ে এই অষ্টবিনায়ক যাত্রা করা যায়। দেখুন কী ভাবে করবেন এই যাত্রা –

শ্রীময়ুরেশ্বর মন্দির, মোরগাঁও

যাত্রা শুরু করুন মোরগাঁও গ্রামে কারহা নদীর ধারে অবস্থিত ময়ুরেশ্বর মন্দির তথা মোরেশ্বর মন্দির থেকে। এখানে গণেশ বিগ্রহের তিন চোখ। শুঁড়টি বাঁ দিকে ঘোরানো। বাঁ দিকই নাকি সাফল্যের দিক। দু’ পাশে রয়েছেন গণেশের দুই সঙ্গী সিদ্ধি ও বুদ্ধি।

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির, সিদ্ধাটেক

শ্রীময়ুরেশ্বর মন্দির থেকে চলুন সিদ্ধাটেকে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দিরে, দূরত্ব ৫৯ কিমি। ভিমা নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত এই মন্দির ইন্দৌরের মহারানি অহল্যাবাঈ হোলকারের তৈরি। একটি টিলার উপর অবস্থিত এই মন্দিরে গণেশ বিগ্রহের শুঁড়টি ডান দিকে ঘোরানো। অষ্টবিনায়কের মধ্যে একমাত্র এই বিগ্রহেরই শুঁড় ডান দিকে। শুঁড় ডান দিকে থাকলে সেই বিগ্রহ খুব শক্তিশালী হন বলে মনে করা হয় এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করাও খুব কঠিন। শুঁড় ডান দিকে থাকলেই তাঁকে সিদ্ধিবিনায়ক বলা হয়। টিলাকে ঘিরে সাত বার পরিক্রমা করার প্রথা আছে।

শ্রীচিন্তামণি মন্দির, থেউর

সিদ্ধাটেকের সিদ্ধিবিনায়ক দর্শন করে চলুন থেউরের শ্রীচিন্তামণি মন্দিরে, দূরত্ব ৮২ কিমি। এই মন্দিরটি অবশ্য পুনের খুব কাছেই, মাত্র ২৫ কিমি। অষ্টবিনায়কের সব চেয়ে জনপ্রিয় মন্দির এটি। এই গণেশ সাধারণ মানুষকে নানা দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত করেন বলে এঁর নাম চিন্তামণি। মন্দির-চত্বরে গণেশ ছাড়াও শিব, বিষ্ণু-লক্ষ্মী এবং হনুমানের মন্দির রয়েছে।

বল্লালেশ্বর মন্দির, পালি

চিন্তামণিকে দর্শন করে চলুন রায়গড় জেলার পালি গ্রামে বল্লালেশ্বর মন্দিরে। থেউর থেকে দূরত্ব ১৪৫ কিমি। সরসগড় ফোর্ট আর অম্বা নদীর মাঝে এই মন্দির। এখানকার গণেশ ‘বল্লাল’ নামে পরিচিত। ‘বল্লাল’ নামে এক ভক্তের নামে এই গণেশ বিগ্রহের নাম। ১৬৪০ সালে এই মন্দির নির্মিত হয়। এখানে পাথরের সিংহাসনে বিনায়ক বসে। বাঁ দিকে শুঁড়টি ঘোরানো। পিছনে ঋদ্ধি আর সিদ্ধি চামর দোলাচ্ছে।

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির ও বল্লালেশ্বর মন্দির।

বরদবিনায়ক মন্দির, মাহাড়

বল্লালেশ্বর মন্দির থেকে চলুন বরদবিনায়ক দর্শনে, দূরত্ব ৩৫ কিমি। কথিত আছে, এখানকার বিগ্রহ মন্দির সংলগ্ন একটি জলাশয় থেকে পাওয়া গিয়েছিল। কথিত আছে, এখানে যে দীপটি জ্বলছে সেটি ১৮৯২ সাল থেকে জ্বলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এই দীপের নাম নন্দদীপ।

গিরিজাত্মজ মন্দির, জুন্নার

এ বার চলুন এক গুহা মন্দিরে অধিষ্ঠিত বিনায়ককে দর্শন করতে। বরদবিনায়ক মন্দির থেকে ১৪২ কিমি দূরে। এখানে পাহাড় কেটে প্রথম থেকে খ্রিস্টীয় তৃতীয় শতকের মধ্যে ৩০টি বৌদ্ধ গুহা তৈরি হয়। তারই ৭ নং গুহায় রয়েছে গণেশ বিগ্রহ। জুন্নার শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি উত্তরে এই গুহাগুলির অবস্থান। পাথর কেটে তৈরি বিগ্রহের একটি মাত্র চোখ দেখা যায়। পাহাড়ের ৩০৭টি ধাপ ভেঙে এখানে উঠতে হয়। গিরিজা তথা পার্বতীর পুত্র গণেশ। তাই এখানকার বিগ্রহের নাম গিরিজাত্মজ।

বিঘ্নহর মন্দির, ওঝার

১৫ কিমি দূরেই ওঝার শহরে রয়েছে বিঘ্নেশ্বর তথা বিঘ্নহর মন্দির। গণেশ সমস্ত বাধাবিপত্তি কাটিয়ে দেন, তাই বিঘ্নহর। পুনে-নাসিক সড়কে কুকাদি নদীর ধারে এই মন্দির। এখানে বিগ্রহ পুবমুখী, শুঁড় বাঁ দিকে ঘোরানো। গণেশের দু’ পাশে রয়েছেন ঋদ্ধি আর সিদ্ধি।

মহাগণপতি মন্দির, রঞ্জনগাঁও

বিঘ্নহর মন্দির থেকে চলে আসুন রঞ্জনগাঁওয়ের মহাগণপতি মন্দিরে, দূরত্ব ৬৪ কিমি। এখানে গণপতির ১০টি শুঁড় আর ২০টি হাত রয়েছে। মন্দিরটি নবম থেকে খ্রিস্টীয় দশম শতকের মধ্যে তৈরি।

রঞ্জনগাঁওয়ের মহাগণপতি মন্দির থেকে ৬৯ কিমি দূরের শ্রীময়ুরেশ্বর মন্দিরে গিয়ে অষ্টবিনায়ক যাত্রা শেষ করুন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন