Connect with us

মেলাপার্বণ

শান্তিপুরের রাস উৎসবের কেন্দ্রে থাকেন বড়ো গোস্বামীবাড়ির শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ

প্রশাসনের নির্দেশমতোই এ বার পালিত হবে রাস উৎসব। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে পুজোর রীতিনীতি যথাযথই পালিত হবে।

Published

on

বড়ো গোস্বামীবাড়ির শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

উৎসবের মরশুম শুরু হয়েছিল দুর্গাপুজোয়, শেষ হতে চলেছে রাসযাত্রায়। শান্তিপুর এবং নবদ্বীপ সেজে উঠছে রাসযাত্রার আলোয়। শান্তিপুরের রাসযাত্রা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে অগণিত ভক্তরা আসেন, উপভোগ করেন ভগবানের লীলা। তবে এ বছর কি সবাই আগের মতন আনন্দ করতে পারবেন? এই মহামারি পরিস্থিতিতে কি আগের মতোই রাসযাত্রা পালিত হবে  শ্রীধাম শান্তিপুরে?

কথা হচ্ছিল বড়ো গোস্বামীবাড়ির সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামী। তিনি জানালেন, প্রশাসনের নির্দেশমতোই এ বার পালিত হবে রাস উৎসব। তবে প্রাচীন প্রথা মেনে পুজোর রীতিনীতি যথাযথই পালিত হবে। কথায় কথায় জানা গেল, এই বড়ো গোস্বামীদের শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউই শান্তিপুরে রাস উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। এ ছাড়াও অবশ্য শান্তিপুরের বিভিন্ন জায়গায় আরও বিগ্রহ রয়েছে, সেখানে ধুমধাম করে এই উৎসব পালিত হয়।

Loading videos...

শান্তিপুরের এই রাস উৎসব বঙ্গদেশের সাংস্কৃতিক দিককে আরও উজ্জ্বল করে। সুদীপ্তবাবু আরও জানালেন, বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাস উৎসবের শেষ দিন ঠাকুরনাচ হয়। এই নাচ বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাস উৎসবের এক প্রধান অঙ্গ। কিন্তু করোনা-আবহে এ বছর বন্ধ থাকবে সেই নাচ।

শ্রীঅদ্বৈত-পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর বড়ো পুত্র রাঘবেন্দ্রের সময় থেকে এই বড়ো গোস্বামীবাড়ির সৃষ্টি। কথিত আছে, ঈশ্বর দর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত ভ্রমণে বেরিয়ে শ্রীঅদ্বৈতাচার্য নেপালের গণ্ডকী নদী থেকে একটি নারায়ণশিলা পান। সেই শিলা তিনি শান্তিপুরে নিজের বাড়িতে এনে পূজা করা শুরু করেন। আচার্যদেবের সেই নারায়ণশিলা আজও নিত্য পূজিত হন বড়ো গোস্বামীবাড়িতে।

এই বাড়ির প্রধান দেবতা কষ্টিপাথরের শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ। এই মূর্তি আগে পুরীতে রাজা ইন্দ্রদ্যুম্নের আমলে ‘দোলগোবিন্দ’ নামে পূজিত হতেন। পরবর্তী কালে বারোভুঁইয়া পরিবারের বসন্ত রায় তাঁকে যশোরে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১৫৯২ খ্রিস্টাব্দে মানসিংহ বাংলা আক্রমণ করলে মূর্তির পবিত্রতা বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় বসন্ত রায়ের পরিবার এই কৃষ্ণমূর্তি তুলে দেন তাঁদের গুরুদেব অদ্বৈত-পৌত্র মথুরেশ গোস্বামীর হাতে। মথুরেশ গোস্বামী সেই মূর্তি নিয়ে এসে শান্তিপুরে নিজের বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ নামে। সেই থেকে শ্রীশ্রীরাধারমণ পূজিত হচ্ছেন বড়ো গোস্বামীবাড়িতে।

শ্রীশ্রীরাধারমণজিউ-এর পাশে শ্রীরাধিকা।

পরবর্তী কালে রাধারমণ বিগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন শ্রীমতী। এ ছাড়াও বাড়িতে রয়েছেন সুপ্রাচীন মদনমোহন-শ্রীমতী, শ্রীশ্রীরাধাবল্লভ-শ্রীমতী, শ্রীশ্রীগোপালরায়-শ্রীমতী ও শ্রীশ্রীবিশ্বমোহন-শ্রীমতী বিগ্রহ। রয়েছেন জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা এবং রামচন্দ্রের দারুমূর্তি। এ ছাড়া বড়ো গোস্বামীবাড়িতে রয়েছে শান্তিপুরের একমাত্র ষড়ভুজ মহাপ্রভুমূর্তি, শ্রীঅদ্বৈতাচার্য, সীতাদেবী ও পুত্র অচ্যুতানন্দের দারুমূর্তি ও কষ্টিপাথরের শিবমূর্তি।

শ্রীশ্রীরাধারমণকে নিয়ে বেশ আনন্দে কাটছিল। এমন সময় হঠাৎ ছন্দপতন হল, বড়ো গোস্বামীবাড়ির মন্দির থেকে অপহৃত হলেন শ্রীশ্রীরাধারমণ বিগ্রহ। তখন তাঁদের বাড়ির সদস্যরা ঠিক করলেন, শ্রীধাম বৃন্দাবনে গোপীরা ‘কাত্যায়নীব্রত’ করে যেমন লীলাপুরুষোত্তমকে পেয়েছিলেন, ঠিক তেমনই তাঁরাও কাত্যায়নী পুজো করবেন শ্রীশ্রীরাধারমণকে পাওয়ার জন্য। শারদীয়া দুর্গাপুজোর সময় শ্রীশ্রীকাত্যায়নীমাতার পুজো শুরু হল। মায়ের কাছে হত্যে দিয়ে থাকার পরে তৃতীয় দিনে স্বপ্নাদেশ হল – দিগনগরে একটি জলাশয়ে তাঁদের ইষ্টদেবকে ফেলে রাখা হয়েছে। সেই জলাশয় থেকে রাধারমণকে উদ্ধার করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হল।

শান্তিপুরবাসীকে দর্শন দিয়ে ধন্য করার জন্য যুগল বিগ্রহকে বরকন্যারূপে নানা অলংকারে সজ্জিত করে সারা শান্তিপুর শোভাযাত্রা করে ঘোরানো হয়। সেই থেকে রাস উৎসবের সময় রাধারমণের পাশে রাধারানিকে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রাই হল বিখ্যাত ভাঙারাস উৎসব।

রাধারমণ ও শ্রীরাধিকার বরকন্যাবেশের শোভাযাত্রার পেছনে বরযাত্রী হয়ে চলেন শান্তিপুরের সকল পূজিত যুগল বিগ্রহ। এই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ সংগঠিত করেন খাঁ চৌধুরী বাড়ি (খাঁ চৌধুরীরা হলেন বড়ো গোস্বামীবাড়ির শিষ্য)। ভাঙারাসের পরের দিন বড়ো গোস্বামীবাড়ির সব যুগল বিগ্রহকে নানা অলংকারে সাজিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘কুঞ্জভঙ্গ’ বা ‘ঠাকুরনাচ’। এই অনুষ্ঠানটি খুবই মনোরম এবং অনুষ্ঠান শেষে সকল বিগ্রহকে অভিষেক করে মন্দিরে প্রবেশ করানো হয়।

এ ছাড়া এই বড়ো গোস্বামীবাড়িতে শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ-এর জামাইষষ্ঠী পালিত হয়। এ ছাড়া শ্রীশ্রীঅদ্বৈতাচার্য্যের প্রথম পুত্র অচ্যুতানন্দের জন্মতিথি পালিত হয়। ঝুলনযাত্রা অনুষ্ঠানে শ্রীশ্রীরাধারমণ জিউ ও অন্যান্য যুগল বিগ্রহ সুসজ্জিত করে ঝুলনে তোলা হয়। বৈশাখ মাসের বৈশাখী পূর্ণিমায় শ্রীশ্রীরাধারমণের ফুলদোল ও বনভোজন অনুষ্ঠান সাড়ম্বরে পালিত হয়।

তবে এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে কুঞ্জভঙ্গের ঠাকুরনাচ বন্ধ থাকবে এবং ভক্তদের প্রসাদ বিতরণও বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন সুদীপ্ত গোস্বামী। প্রতি বছর বড়ো গোস্বামীবাড়ির রাসমঞ্চের সামনের বিরাট মাঠটিতে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য ব্যবস্থা করা হয়। সেই ব্যবস্থাও এ বছর বন্ধ থাকবে বলে শোনা যাচ্ছে।

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা

আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিটে সন্ধের পর জনসুমদ্র, বড়োদিনে মাতল কলকাতা

মোটামুটি সবার মুখেই মাস্ক রয়েছে। কিন্তু জনসমুদ্রে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা আর সোনার পাথরবাটি বানানো, একই ব্যাপার।

Published

on

Park Street on 25th December
বড়োদিনে আলো ঝলমলে পার্ক স্ট্রিট। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ‘অল রোডস লিড টু রোম’-এর মতোই শুক্রবার সন্ধ্যায় পার্ক স্ট্রিটে গিয়ে মনে হচ্ছিল, এ দিন কলকাতাবাসীর একটাই মন্ত্র ‘অল রোডস লিড টু পার্ক স্ট্রিট’। বড়োদিনের কলকাতা যেন ভেঙে পড়েছে পার্ক স্ট্রিটে। দেখে মনেই হচ্ছিল না করোনাভাইরাস নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা আছে কলকাতাবাসীর।

বছরের শেষে যেমন আসে বড়োদিন, তেমনই বলা যায় উৎসবের মরশুমের শেষে আসে বড়োদিন। করোনা-আবহ সত্ত্বেও এ বার এই বড়োদিন উৎসবে মেতে উঠল কলকাতা। কলকাতাবাসী চুটিয়ে আনন্দ করলেন বড়োদিনে।

করোনা পরিস্থিতির জন্য এ বছর দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজোয় আদালত ও রাজ্য সরকারের নানা নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু বড়োদিনের উৎসবে সে রকম নিয়মবিধি পালনের কোনো নির্দেশিকা ছিল না।  সেই সুযোগে মানুষ মেতে উঠলেন উৎসবে।

Loading videos...

শুধু শুক্রবার সন্ধ্যাতেই নয়, শহরের গির্জায় গির্জায় মধ্যরাতের প্রার্থনার পর এ দিন কলকাতা বড়োদিন উৎসবে মেতে উঠল সকাল থেকেই। বেশির ভাগ বাঙালি-বাড়িতেই প্রাতরাশে ছিল কেক। তার পর যতটা সম্ভব বেরিয়ে পড়া।

পার্ক স্ট্রিটে জনতার ঢল ও আলোর মেলা।

অনেকেই নিজস্ব গাড়িতে বা গাড়ি ভাড়া করে বেরিয়ে পড়েছেন কলকাতার আশেপাশে। সারাটা দিন আনন্দ করে ফিরেছেন রাতের দিকে। আর অনেকে ভিড় জমিয়েছেন কলকাতার দর্শনীয় স্থানগুলোয়। সকাল থেকেই লোক সমাগম হয়েছিল আলিপুর চিড়িয়াখানা, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, জাদুঘর, সায়েন্স সিটি প্রভৃতি স্থানে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বার এ সব জায়গায় ভিড় অনেকটাই কম ছিল।

কলকাতাবাসীর কাছে বড়োদিনের অন্যতম গন্তব্য হল সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল। বৃহস্পতিবার মধ্যেরাতে প্রার্থনা হয়েছে গির্জায়। শুক্রবার সকালে বহু দর্শনার্থী ওই গির্জায় যান। সস্ত্রীক রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ও শহরের এই গির্জায় গিয়ে যিশুর প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন। তবে অন্য বারের মতো এ বার সারা দিন খোলা ছিল না মহানগরের এই ঐতিহ্যবাহী গির্জা। সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রালের সামনে লেখা রয়েছে করোনা অতিমারির বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ। দুপুর ২টোর পর দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় গির্জা।

এখন উৎসবের একটা বড়ো অঙ্গ হল সেলফি তোলা। সেন্ট পল্‌স ক্যাথিড্রাল চার্চ হোক বা ভিক্টোরিয়া হোক কিংবা চিড়িয়াখানা হোক বা খোলা ময়দান – সব জায়গায় এ দিন বয়ে গিয়েছে সেলফির ঝড়।

অনেকেই ভিক্টোরিয়ার সামনে থেকে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে ময়দানকে ঘুরে নিয়েছেন এক চক্কর। শুক্রবার বড়োদিনের উৎসবে ঘোড়ার গাড়ির সওয়ারি হতে দেখা গেল কচিকাঁচাদের।

আর সন্ধের পর থেকেই কলকাতার পার্ক স্ট্রিট যেন আলোর বন্যায় ভাসছে, আর সেই সঙ্গে জনসমুদ্র আর গাড়ির মেলা। অ্যালেন পার্কে চলছে বড়োদিনের অনুষ্ঠান। কোনো রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অঢেল পুলিশি বন্দোবস্ত। কলকাতা পুলিশের অবিরাম ঘোষণা চলছে মাইকে – কলকাতাবাসীকে বড়োদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি চলছে করোনা নিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আবেদন। আর্জি জানানো হচ্ছে মাস্ক পরার এবং শারীরিক দূরত্ববিধি মেনে চলার। মোটামুটি সবার মুখেই মাস্ক রয়েছে। কিন্তু জনসমুদ্রে শারীরিক দূরত্ব মেনে চলা আর সোনার পাথরবাটি বানানো, একই ব্যাপার।

এ বার বো ব্যারাকে উৎসব নেই। তাই পার্ক স্ট্রিট যেন আরও বেশি করে টেনেছে কলকাতাকে।

আরও পড়ুন: নমুনা পরীক্ষা বাড়লেও আগের দিনের থেকে দৈনিক আক্রান্ত কমল রাজ্যে      

Continue Reading

দঃ ২৪ পরগনা

এ বারেও সাড়ম্বরে পূজা সাবর্ণদের মা চণ্ডীর, তবে বড়িশার মেলা হচ্ছে না

সন্তোষ রায় চৌধুরীর বংশধর মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৭৯২ সালে নিজের বসতবাড়িতে শ্রীশ্রীচণ্ডীর আরাধনা শুরু করেন।

Published

on

মা চণ্ডীর মৃন্ময়ী বিগ্রহ।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

আজ ৬ পৌষ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ, শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথি। ভোরেই শুরু হয়ে গিয়েছে বড়িশায় সাবর্ণদের চণ্ডীপুজো।

সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবারের ঐতিহ্য এবং পরম্পরা বহু দিনের। কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের তৎকালীন সমাজপতি ছিলেন তাঁরা, তাঁদের জমিদারিও ছিল বিশাল অঞ্চল জুড়ে। এই বংশেরই প্রতিষ্ঠিত বহু মন্দিরও রয়েছে, যেমন কালীঘাট, করুণাময়ী, ময়দা কালীবাড়ি, বড়িশার অন্নপূর্ণামন্দির ইত্যাদি। সাবর্ণদের প্রতিষ্ঠিত চণ্ডীপুজোও আজ সর্বজনবন্দিত। সেই পুজোর ইতিহাস ও ঐতিহ্য পরিবারের গৌরবকে আরও তরান্বিত করে।

Loading videos...

বলা বাহুল্য সাবর্ণদের মতন প্রভাব এবং প্রতিপত্তি খুব কম জমিদার পরিবারের ছিল। সে জন্যই শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণদেব বলেছেন, “এঁরা দক্ষিণেশ্বরের সাবর্ণ চৌধুরী। এঁদের প্রতাপে বাঘে-গরুতে এক ঘাটে জল খায়। এঁরা লোকের জাত দিতে নিতে পারতেন….”।

কবে শুরু হল চণ্ডীর আরাধনা

গৌড়ের রাজা আদিশূর কাহ্নকুব্জ বা কনৌজ থেকে যে পাঁচ ব্রাহ্মণকে এই বঙ্গে নিয়ে আসেন তাঁদের একজন হলেন বেদগর্ভ। সেই বেদগর্ভের অধস্তন পঁচিশতম পুরুষ কেশবরাম রায় চৌধুরী জমিদারি দেখাশোনার সুবিধার জন্য ১৭১৬ সালে দমদম থেকে বড়িশায় চলে আসেন। কেশবরামের চতুর্থ পুত্র ছিলেন সন্তোষ রায় চৌধুরী, যিনি কালীঘাট মন্দির তৈরি করেছিলেন। সেই সন্তোষ রায় চৌধুরীর বংশধর মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরী ১৭৯২ সালে নিজের বসতবাড়িতে শ্রীশ্রীচণ্ডীর আরাধনা শুরু করেন। সাবর্ণদের প্রতিষ্ঠিত এই চণ্ডীপুজো কলকাতা-সহ সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আজ এক মহোৎসবে পরিণত হয়েছে।

মা চণ্ডীর মঙ্গলঘট।

সন্তোষ রায় চৌধুরী নিজ বসতবাড়ি সংলগ্ন পুকুরে স্নান করতে গিয়ে পেয়েছিলেন একটি অষ্টধাতুর কলশি। তিনি সেই কলশিটি বসতবাড়ির উঠোনে রেখে দিয়েছিলেন। তিন দিন বাদে তিনি দেবীকে প্রতিষ্ঠা করার স্বপ্নাদেশ পেলেন অষ্টধাতুর কলশিতে এবং বছরে একটি বার মৃন্ময়ী বিগ্রহ এনে পুজো করার আদেশও পেয়েছিলেন তিনি।

পরের দিন সন্তোষবাবু ভাটপাড়ার পণ্ডিতদের কাছে গিয়ে তাঁদের সব কথা বললেন। তাঁরা বিধান দিলেন, ইনি দেবী চণ্ডী। পূজার সমস্ত নিয়মবিধি জেনে তিনি দুর্গাপঞ্চমীতে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন চণ্ডীবাড়িতে মায়ের বার্ষিক জন্মতিথি পালন করা হয়। মহেশচন্দ্র রায় চৌধুরীর পুত্র হরিশচন্দ্র রায় চৌধুরী বার্ষিক পূজার জন্য মন্দির তৈরি করে দেন বসতবাড়ি সংলগ্ন জমিতেই।

অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমীতে পুজো

প্রতি বছর মকর সংক্রান্তির শেষে দেবগণের উত্তরায়ণ পরিক্রমা শুরু হয়। সুপ্তা দেবীকে জাগ্রত করার পক্ষে এই সময়টি বিশেষ উপযুক্ত। সে কারণে অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমীতে শ্রীশ্রীচণ্ডীর পূজা অনুষ্ঠিত হয় বড়িশায়।

ভট্টপল্লির পণ্ডিতগণের সহায়তায় শ্রীচণ্ডীদেবীর মূর্তিটি সম্পূর্ণ ধ্যানমন্ত্র অনুযায়ী গঠিত হয়। তিনি নরমুণ্ডমালা বিভূষিতা, ত্রিনয়না, রক্তবসনা, তাঁর চারটি হাতে পুস্তক, রুদ্রাক্ষমালা, বরমুদ্রা এবং অভয়মুদ্রা। দেবী বন্ধুক পুষ্পবর্ণা এবং পঞ্চ অসুরের মুণ্ডের আসনে অধিষ্ঠিতা। প্রতি বছর ধুমধাম করে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

বড়িশা চণ্ডীবাড়ি।

এই বিগ্রহ তৈরির আগে শিল্পীরা চণ্ডীপুকুরে স্নান করে বিগ্রহের একটি কাঠ নিয়ে সাবর্ণদের প্রতিষ্ঠিত মঙ্গলচণ্ডীর কাছে পুজো দিয়ে আসেন। সেই কাঠটি পুজোর আগে অবধি চণ্ডীবাড়িতেই পুজো হয়। অষ্টমীর দিন ভোরবেলা পরিবারের সদস্য সেই কাঠটি নিয়ে গিয়ে মন্দিরে মূল বিগ্রহের সঙ্গে বেঁধে দিলে তবেই শুরু হয় পুজো।

এ ছাড়া অষ্টমীর দিন সাবর্ণদের বাড়ি থেকে মন্দিরে ভোগ নিয়ে যাওয়ারও বিধান রয়েছে। পুজোর দিন মাকে রাজবেশে সাজানো হয়। নানা অলংকারে সেজে তিনি জ্যোতির্ময়ী রূপে বিরাজ করেন মন্দিরে।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে সমস্ত বিধিনিষেধ মেনেই পুজো হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রতি বছর এই পুজোকে কেন্দ্র করে বিরাট মেলার আয়োজন করা হয়। সেই মেলাও এ বার হবে না বলেই সূত্রের খবর। তবে নিষ্ঠার সঙ্গে আজও পুজো হয়ে আসছে বড়িশায়।

আরও পড়ুন: ঐতিহ্যের হৈমন্তীপর্ব: সাবর্ণদের আটচালায় জগদ্ধাত্রী পুজো হচ্ছে ১৯৬৬ থেকে

Continue Reading

কলকাতা

করোনা আবহে বিধিনিষেধ মেনে রাসযাত্রা উৎসব পালিত হচ্ছে শোভাবাজার রাজবাড়িতে

শ্রীগোপীনাথ জিউ এবং শ্রীমতী রাধারানিকে ঘিরে রয়েছেন সখীগণ এবং নানা রকমের ফুল দিয়ে রাসমঞ্চ সাজানো – এ যেন এক ঐতিহ্যের নিদর্শন রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে।

Published

on

শ্রীগোপীনাথ জিউ এবং শ্রীমতী রাধারানি, শোভাবাজার রাজবাড়িতে।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দুর্গাপুজো থেকে শুরু হয়েছে বাঙালির উৎসবের আমেজ, রাসযাত্রা তার অন্তিমপর্ব। শান্তিপুর এবং নবদ্বীপের রাস যেমন বিখ্যাত ঠিক তেমনই কলকাতার বিভিন্ন বনেদিবাড়িতে সাড়ম্বরে পালিত হয় রাস উৎসব। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে লোকসমাগম না হলেও নিয়মনিষ্ঠা মেনেই পালিত হচ্ছে রাসযাত্রা। উত্তর কলকাতার শোভাবাজারের ছোটোরাজবাড়িতে শ্রীশ্রীগোপীনাথ জিউ-এর রাস উৎসব পালিত হচ্ছে ঠাকুরদালানে।

শ্রীগোপীনাথ জিউ এবং শ্রীমতী রাধারানিকে ঘিরে রয়েছেন সখীগণ এবং নানা রকমের ফুল দিয়ে রাসমঞ্চ সাজানো – এ যেন এক ঐতিহ্যের নিদর্শন রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে।

Loading videos...
রাসমঞ্চে সখী পরিবৃত হয়ে শ্রীগোপীনাথ ও শ্রীমতীরাধারানি।

তবে শোভাবাজার রাজবাড়ির শ্রীগোপীনাথ কিন্তু অগ্রদ্বীপের। কী ভাবে তিনি রাজবাড়িতে এলেন? কেন এলেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রসঙ্গক্রমে চলে আসে তৎকালীন কলকাতার স্বনামধন্য পুরুষ মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের কথা। ইতিহাসের সেই সব কাহিনি যেন আজও কথা বলে শোভাবাজার রাজবাড়িতে গোপীনাথকে দর্শন করলে।

অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের আদি বিগ্রহ বর্তমানে কলকাতার শোভাবাজারের রাজপরিবারে অবস্থান করছেন। প্রসঙ্গত ১৭৬৬ সালে রাজা নবকৃষ্ণ দেব তাঁর বাড়িতে গোবিন্দজি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর কিছু দিন পরেই তিনি শ্রীশ্রীগোপীনাথকে প্রতিষ্ঠা করলেন রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের বসতবাড়িতে।

১৭৬২ সালে দিল্লির দরবার থেকে নবকৃষ্ণ দেব ‘মহারাজা বাহাদুর’ খেতাব এবং সেই সঙ্গে ‘হাজারি মনসবদারি’ পদ লাভ করেন। সেই সময় রাজা নবকৃষ্ণ দেব বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের ঠাকুরদের নিয়ে একটি সন্মেলন তথা মহোৎসবের আয়োজন করেন। সেই সম্মেলনে বিখ্যাত সমস্ত দেববিগ্রহকে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে খড়দহের শ্রীশ্রীরাধাশ্যামসুন্দর, বল্লভপুরের রাধাবল্লভ, সাইবনের নন্দদুলাল, বিষ্ণুপুরের মদনমোহন এবং অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ অন্যতম। ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে কাতারে কাতারে মানুষ যোগ দিয়েছিল সেই মহোৎসবে। জনশ্রুতি, সে দিনের সেই বিরাট সভা থেকে অঞ্চলের নাম হয় সভাবাজার এবং পরবর্তীকালে লোকমুখে হয়ে যায় শোভাবাজার। অন্য মতে শোভারাম বসাকের নাম থেকেই শোভাবাজার নামের উৎপত্তি।

বহুদিন ধরে উৎসব চলার পর সব দেবতারা ফিরে গেলেন, ফিরিয়ে দেওয়া হল তাঁদের গহনা ও জমিজমা। কিন্তু মহারাজা নবকৃষ্ণ দেব অগ্রদ্বীপের গোপীনাথকে কিছুতেই ফেরত দিলেন না। অগ্রদ্বীপের মালিক মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের দূতকে তিনি জানালেন যে তিনি স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন, গোপীনাথ তাঁর হাতের পুজো নিতে চান। তাঁর কাছে কৃষ্ণচন্দ্রের তিন লক্ষ টাকার যে ঋণ রয়েছে তা তিনি মুকুব করে দেবেন একটি শর্তে। শর্তটি হল গোপীনাথ তাঁর কাছেই থাকবেন। কৃষ্ণচন্দ্র এই শর্ত না মেনে আদালতে মামলা করলেন। যদিও সেই সময়ে ইংরেজ মহলে নবকৃষ্ণের প্রতিপত্তি ছিল তবুও তিনি হেরে গেলেন মামলায়। তবুও আদালতের কাছে কিছু সময় চেয়ে নিলেন এবং সেই আবেদনও মঞ্জুর হল।

ইতিমধ্যে তিনি দক্ষ শিল্পী দিয়ে তৈরি করালেন অবিকল আরও কয়েকটি বিগ্রহ। কৃষ্ণচন্দ্রের দূত বিগ্রহ নিতে এসে ধাঁধায় পড়ে যান – দুটি বিগ্রহই তো এক রকম। শেষে কৃষ্ণচন্দ্রের পুরোহিত একটি বিগ্রহ নিয়ে যান। সেই থেকে একটি মূর্তি রয়েছে নদিয়ায় এবং আর একটি শোভাবাজারের রাজবাটীতে। এখন আসল বিগ্রহ কোনটি তা নিয়ে বিস্তর তর্ক থাকলেও অনুমান করা হয় নবকৃষ্ণ দেব যে হেতু যথেষ্ঠ বুদ্ধিমান ছিলেন, তাই তিনি বুদ্ধি খাটিয়ে আসলটিই রেখে দিয়েছিলেন।

শোভাবাজার রাজবাড়িতে রাসমঞ্চে শ্রীগোপীনাথ ও শ্রীমতীরাধারানি।

রাজবাড়ির সেই প্রাচীন যুগলমূর্তির নয়নাভিরাম রূপ, গঠনে প্রাচীনত্বের ছাপ। তার পর ১৭৮৯ সালে নবকৃষ্ণ দক্ষিণ দিকে রাজা রাজকৃষ্ণের জন্য ঠাকুরদালান-সহ  বিশাল বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে গোপীনাথকে প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাজা রাজকৃষ্ণও বিষয়সম্পত্তি ছেড়ে গোপীনাথকেই বেছে নেন। তিনি গোপীনাথকে পুত্র রূপে দেখতেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দোতলা থেকে নেমে গোপীনাথের বাড়িতে গিয়ে চোখ খুলতেন, তার পর তাঁকে কোলে নিয়ে বসতেন। আজও রাজবাড়িতে গোপীনাথ জিউের নিত্যসেবা হয়। জন্মাষ্টমীর উৎসব, দোল উৎসব বিভিন্ন উৎসব পালিত হয় শ্রীগোপীনাথকে কেন্দ্র করে।

সেই শ্রীগোপীনাথের রাসযাত্রা পালিত হচ্ছে, রাজবেশে সেজে উঠেছেন তিনি। রাজবাড়িতে তিন দিন ধরে রাস উৎসব পালিত হয়। ঠাকুরদালান আলো করে সখীগণকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীমতীর সঙ্গে অবস্থান করছেন তিনি। রাস উৎসব উপলক্ষ্যে গোপীনাথের বিশেষ সেবা হচ্ছে, চলছে ভোগ নিবেদন, আরতি ইত্যাদি। ভোগে থাকছে লুচি, তরকারি, নানা রকমের মিষ্টান্ন ইত্যাদি। বিকালবেলায় গোপীনাথ নিজের কক্ষ থেকে এসে রাসমঞ্চে আসছেন। তার পর সেখানে মূল পূজার শেষে রাত্রে নিজ কক্ষে ফিরে যাচ্ছেন। উৎসবের আমেজে রাজবাড়ির প্রতিটি সদস্যই মেতে উঠেছেন তাঁদের গোপীনাথকে নিয়ে। রাসমঞ্চে শ্রীরাসেশ্বর রূপে বসে আছেন তিনি। করোনার জন্য নানা বিধিনিষেধ থাকলেও নিয়ম নিষ্ঠায় কোনো খামতি নেই।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

শান্তিপুরে পালিত হচ্ছে রাস উৎসব, অন্যতম আকর্ষণ রাইরাজা

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
রাজ্য2 days ago

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতে সিপিএমের লাইনেই খেলছেন শুভেন্দু অধিকারী

দেশ3 days ago

নবম দফার বৈঠকেও কাটল না জট, ফের কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে কেন্দ্র

প্রযুক্তি3 days ago

হোয়াটসঅ্যাপে এ ভাবে সেটিং করলে আপনার আলাপচারিতা কেউ দেখতে পাবে না এবং তথ্যও থাকবে নিরাপদে

শরীরস্বাস্থ্য3 days ago

কেন খাবেন মেথি?

election commission of india
রাজ্য3 days ago

ভোট প্রস্তুতি তুঙ্গে! রাজ্যে আসছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ

বিদেশ2 days ago

ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরে নরওয়েতে মৃত ২৩, শুরু তদন্ত

রাজ্য3 days ago

রাজ্যে আরও কমল দৈনিক সংক্রমণের হার, ১৩ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এক অঙ্কে

রাজ্য3 days ago

শতাব্দী রায়ের ‘মানভঞ্জনে’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

কেনাকাটা

কেনাকাটা6 hours ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা6 days ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

কেনাকাটা1 week ago

কয়েকটি ফোল্ডিং আইটেম খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি সঙ্গে থাকলে অনেক সুবিধে হত বলে মনে হয়, কিন্তু সব সময় তা পাওয়া...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের কাজ এগুলি সহজ করে দেবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের কাজ অনেক বেশি সহজ করে দিতে পারে যে সমস্ত জিনিস, তারই কয়েকটির খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা2 weeks ago

ম্যাক্সিড্রেসের নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সুন্দর ম্যাক্সিড্রেসের চাহিদা এখন তুঙ্গে। সামনেই কোনো আনন্দ অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ থাকলে ম্যাক্সি পরতে পারেন। বাছাই করা কয়েকটি ড্রেসের...

কেনাকাটা2 weeks ago

রকমারি ডিজাইনের ৯টি পুঁটলি ব্যাগের কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিয়ের মরশুমে নিমন্ত্রণে যেতে সাজের সঙ্গে মিলিয়ে ব্যাগ নেওয়ার চল রয়েছে। অনেকেই ডিজাইনার ব্যাগ পছন্দ করেন। তেমনই কয়েকটি...

কেনাকাটা2 weeks ago

কস্টিউম জুয়েলারির দারুণ কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিয়ের মরশুম আসছে। নিমন্ত্রণবাড়ি তো লেগেই থাকে। সেখানে আজকাল সোনার গয়নার থেকে কস্টিউম বা জাঙ্ক জুয়েলারি পরে যাওয়ার...

কেনাকাটা3 weeks ago

রুম হিটারের কালেকশন, ৬৫০ থেকে শুরু

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ভালোই শীত চলছে। এই সময় রুম হিটারের প্রয়োজনীয়তা খুবই। তা সে ঘরের জন্যই হোক বা অফিস, বা কোথাও...

কেনাকাটা3 weeks ago

চোখের যত্ন নিতে কিনুন এগুলি, খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক: অনেকেই আছেন সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝে যদিও বা পা, হাত বা মুখের টুকটাক যত্ন নেন, কিন্তু চোখের বিশেষ...

কেনাকাটা4 weeks ago

ফিলগুড প্রোডাক্ট! পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দিনের মধ্যে কিছু সময় যদি নিজের মতো করে নিজের জন্য দেওয়া যায় তা হলে মন যেমন ভালো থাকে...

নজরে