hattala ma puja in akui
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: কয়েকশো বছরের প্রাচীন ‘হাটতলা মা’-র বাৎসরিক পুজোয় যোগ দিলেন আপামর গ্রামবাসী। এই পুজোয় মেতে উঠলেন বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার অন্তর্গত আকুই গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দারা। শুধু তা-ই নয়,  আশেপাশের গ্রামের ভক্তজনেরাও এই পুজো দেখতে ছুটে এসেছিলেন।

‘হাটতলা মা’ আদতে ওলাইচণ্ডী মা। কী ভাবে এই পুজোর পত্তন হল, সে সম্পর্কে ইতিহাস খুব স্পষ্ট নয়। বংশ পরম্পরায় যা শুনে এসেছেন, সে কথাই শুনিয়ে দিলেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, বহু কাল আগে এই এলাকায় হাট বসত। যদিও এখন আর এই জায়গায় হাট বসে না। সেখানে এই ওলাইচণ্ডী মা-র পুজো শুরু হয়েছিল। হাটতলায় যে হেতু পুজো হত, সে হেতু লোকমুখে ওলাইচণ্ডী মা ‘হাটতলা মা’ হিসাবে পরিচিত পেয়ে যান।

bhogprasad is being prepared
তৈরি হচ্ছে অন্নকূটের ভোগ।

প্রতি বছর বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের মঙ্গলবার এই পুজো শুরু হয়। পুজো চলে দুই দিন ধরে। দ্বিতীয় দিনে অন্নকূট হয়। কয়েক হাজার মানুষ অন্নকূটের প্রসাদ খান। স্থানীয়দের বিশ্বাস, আকুই গ্রামের ওলাইচন্ডী মা পাশের বর্ধমান জেলার বোঁয়াইচণ্ডী গ্রামের বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের ছোটো বোন। তাই এখনও হাটতলা পুজোর আগে বোঁয়াইচণ্ডী মায়ের পুজো দেওয়া হয়।

villagers eating bhogprasad
পাত পেড়ে ভোগ খাওয়া।

এই পুজোর পাঁচ দিন আগে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে পুজোর সূচনা হয়। পুরো গ্রামে ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে মানুষকে পুজোর দিনক্ষণ জানিয়ে দেওয়াই প্রাচীন রীতি।পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট হল, এখানে ওলাইচণ্ডী  মায়ের নির্দিষ্ট কোনো মুর্তি নেই। ঘটেই মায়ের পূজো হয়। তবে পুজোর দিন মাদুর্গার মূর্তি আঁকা পটে পুজো হয়।

পুজো উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী পালাকীর্তনের আসর বসে, জানালেন পুজো কমিটির পক্ষ থেকে  রমাপ্রসাদ সেন ও লক্ষ্মীকান্ত দে। গভীর রাত পর্যন্ত পালাকীর্তন চলে। গ্রামের মানুষ ধৈর্য ধরে সেই পালাকীর্তন শোনেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here