ekhyan
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: সোমবার রাজ্যের অন্যান্য অংশের মতো বাঁকুড়াতে মকর সংক্রান্তির পর দিন নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে ‘এখ্যান যাত্রা’। প্রাচীন রীতি মেনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ বছরের এই বিশেষ দিনটিকে ‘নববর্ষ’ হিসেবে পালন করেন ।

আদিবাসীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও আজকের দিনটি খুবই পবিত্র। অনেকে বিশ্বাস করেন, এই দিনে কোন কাজ করলে শুরু করলে তা সফল হয়।

এছাড়াও একই সঙ্গে এই দিনে বিভিন্ন গ্রাম দেবতা বা ‘গেরাম সিনী’র পুজো হয়। মনে করা হয়, এই সব গ্রাম দেবতা একাধারে যেমন শস্যের দেবী তেমনি নানান বিপদ-আপদ থেকে গ্রামের মানুষকে রক্ষা করবেন এই সব দেবতারা, এমনটাই বিশ্বাস সাধারণ মানুষের।

একই সঙ্গে মকর সংক্রান্তির দিন থেকে বাঁকুড়ার বিভিন্ন অংশে শুরু হয় তিন দিনের আদিবাসী উৎসব। এই তিন দিন নিজেদের মতো করে পালন করেন এঁরা। দক্ষিণ বাঁকুড়ার বিভিন্ন গ্রামে আদিবাসী সমাজের তির নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা শুরু হয়। যা এই এলাকায় ‘ভেজাবিধাঁ’ নামে পরিচিত। এই প্রতিযোগিতার মূল বৈশিষ্ট হল খোলা মাঠের মধ্যে  প্রায় একশো মিটার দূরে একটি কলাগাছ পুঁতে রেখে সেটিকে লক্ষ্য করে তির ছোঁড়া হয়। যিনি প্রথম ওই কলাগাছটিকে তির বিদ্ধ করতে পারবে বিজয়ীর শিরোপা দেওয়া হয় তাঁকেই। একই সঙ্গে সবাই মিলে ওই বিজয়ী ব্যক্তিকে কাঁধে চাপিয়ে গ্রামে নিয়ে আসেন। এর পর ওই এলাকার প্রতিটি বাড়ির উঠোনে বিজয়ীর পায়ে তেল মাখিয়ে ধুইয়ে দেওয়া হয়।

একেবারে শেষে গ্রামের মোড়লের বাড়িতে পিঠেমুড়ি ও মাংস খাওয়ানো হয়। প্রাচীন কাল থেকে এই রীতি এখনও আদিবাসী সমাজে সমান ভাবে বহমান।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন