কম খরচে করুন মাছ চাষ, পুকুর থেকেই মিলবে দ্রুত রোজগারের সহজ পথ

0

অনেকেরই নিজস্ব পুকুর, ডোবা থাকলেও তা অযত্নেই পড়ে থাকে। কেউ আবার মাঝেমধ্যে চারাপোনা ছেড়ে নিজের প্রয়োজনটুকু মিটিয়ে নেন। কিন্তু বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছ চাষ করে দ্রুত রোজগারের রাস্তাও খুলে যায়।

সঠিক ধারণা এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছ চাষ করা মোটেই ব্যয়বহুল নয়। এ ব্যাপারে অবশ্য অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মৎস্যপালনে খরচ অনেক। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যাপারটা আসলে উলটো। কম খরচে মাছ চাষ করে মোটা অংকের লাভের মুখ দেখতে পারেন আপনিও।

বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে মাছ চাষ করতে হলে কী কী উপকরণ লাগবে, সেটা আগে থেকেই জেনে নেওয়া সম্ভব। কোন প্রজাতির মাছ চাষ করবেন, খাবার, সার নির্বাচন, সেগুলোর পরিমাণ নির্ধারণ সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া সম্ভব এই উপায়ে।

যে অন্যতম বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে

১. মাছ ছাড়ার আগে পুকুর তৈরি করে নিতে হবে। তাতে পরবর্তীতে মাছের খাবারের জোগান কমে যায়। এতে পুকুরের জলে তৈরি হয় মাছের প্রাকৃতিক খাবার। মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য হল উদ্ভিদকণা ও প্রাণীকণা। পুকুর তৈরির সময় যদি সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করা যায়, তা হলে ওই সব প্রাকৃতিক খাবার তৈরি হলে আলাদা করে খাবার জোগান দেওয়া খাবারের পরিমাণও কম লাগবে। একই সঙ্গে মাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।

২. পুকুরে শুধুমাত্র এক রকমের মাছের চারা ছাড়া ঠিক নয়। অর্থাৎ, বিভিন্ন রকমের মাছ পালন করতে হয় একই পুকুরে। কিন্তু রাক্ষুসে মাছ থেকে দূরে থাকতে হবে। তারা অন্য মাছ খেয়ে নিলে মাথায় হাত পড়বে নিশব্দে। অর্থাৎ, কোনো পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প বা গ্রাস কার্প, পুঁটি, চুনো সামঞ্জস্য রেখেই পালন করতে হবে।

৩. পুকুরের রক্ষণাবেক্ষণ বা যত্ন নিতে হবে নিয়মিত। নির্দিষ্ট দিন অন্তর পুকুরে চুন ফেলতে হবে। কারণ, মাছের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম মিলবে চুন থেকেই। একই সঙ্গে পুকুরের জলের অম্লত্ব এবং ক্ষারত্বে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে চুন। পাশাপাশি চুন প্রয়োগে বিভিন্ন ধরনের রোগের জীবাণু এবং পরজীবীও নিকেষ হবে। মাছের বৃদ্ধি বজায় রাখতে মাসে অন্তত এক বার পুকুরে জাল টানা দরকার। নিয়মিত আগাছা দমন করতে হবে।

৪. একটা পুকুরে কত সংখ্যক মাছ ছাড়া হল, তার ভিত্তিতে পর্যাপ্ত খাবারের জোগান অব্যাহত রাখতে হবে। কতগুলো চারা পোনা ছাড়া হল আর তাদের ওজন কত, তারই ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় খাবারের পরিমাণ নির্ণয় করা সম্ভব। পোনা ছাড়ার পর থেকে তাদের ওজনবৃদ্ধির অনুপাতে খাবারের জোগানও বাড়বে। অর্থাৎ, প্রতি ১৫ দিনের গড় বৃদ্ধির হার নির্ণয় করে খাদ্য তালিকা নির্ধারণ করা উচিত। প্রতিদিন দু’বেলা খাবার দিতে হবে। সকালে এবং বিকেলে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জায়গায়গুলোতে খাবার ছড়াতে হবে। প্রয়োজনে খাবারের পরিমাণ বাড়াতে এবং কমাতে হবে। এ বিষয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

৫. একই পুকুরে বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করলে প্রয়োজনীয় খাবার নিজেই তৈরি করে নেওয়া যায়। এর জন্য মূল উপকরণগুলো হল চালের কুঁড়ো, সরষের খোল, গমের ভুষি, শুটকি মাছের গুঁড়ো। এ ছাড়া অনেকেই হাঁসের ডিম, ডালের বেসন, তাজা গোবর, মাটি এবং ইস্ট ব্যবহার করে থাকেন।

আরও পড়তে পারেন: 

খুব কম খরচে আমার বাঙালি যেন থাকে মাছে-ভাতে

পুকুরে মাছ চাষের সময় মাথায় রাখুন এই ৫টি বিষয়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন