ওয়েবডেস্ক: সংস্থার নাম টেম্পল এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। ২০১৩ এবং ২০১৪ সালের মার্চে শেষ হওয়া আর্থিক বছরে সংস্থাটির ক্ষতি হয়েছিল যথাক্রমে ৬,২৩০ এবং ১,৭২৪ টাকা। ২০১৪-১৪ অর্থবর্ষে সংস্থাটি প্রথম লাভের মুখ দেখে। সেবার তাঁদের লাভ হয় ১৮, ৭২৮ টাকা। সে বছর সংস্থার মোট ব্যবসা হয় ৫০,০০০টাকার। তারপরই পালাবদল। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে ১৬ হাজার গুন বেড়ে সংস্থাটির ব্যবসার পরিমাণ হয় ৮০.৫ কোটি টাকা। আর ব্যবসায় লোকসানের কারণে ২০১৬ সালের অক্টোবরে সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যায়। তার কিছুদিন পরেই দেশে জারি হয় নোটবন্দি।

কেন্দ্রীয় সংস্থা রেজিস্ট্রার অফ কোম্পানিজকে দেওয়া টেম্পল এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেডের তথ্য থেকেই জানা গিয়েছে এই সব। জেনেছে অনলাইন সংবাদ পোর্টাল দ্য দ্য ওয়ার ডট ইন। আরও নির্দিষ্ট ভাবে বললে সাংবাদিক রোহিনী সিং। এই সেই রোহিনী সিং, যিনি সনিয়া গান্ধীর জামাই রবার্ট বঢরার জমি কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ্য এনেছিলেন। এবার সামনে আনলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের ছেলে জয় শাহের সংস্থার ধূমকেতুর মতো ফুলেফেঁপে ওঠার খবর।

আরও পড়ুন: মন্দিরে গেলেন, স্কুলে গেলেন কিন্তু চায়ের দোকানে গেলেন না মোদী

ওই পোর্টালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁরা যাবতীয় তথ্য জানার জন্য জয় শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করে। সেগুলির বেশ কিছু উত্তরও দেন, জয়ের আইনজীবী। পাশাপাশি তিনি হুমকি দেন, যদি তাঁরা এমন কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেন, যাতে জয়ের মানহানি হতে পারে, তবে জয় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

কেন্দ্রে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরই ওই সংস্থার এই ফুলেফেঁপে ওঠার মধ্যে রয়েছে ঋণ পাওয়ার গল্পও। ওই সময় বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থা কেআই ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস, টেম্পল এন্টারপ্রাইজকে ১৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ঋণ দেন। ওই সংস্থার মালিক রাজেশ খান্ডওয়ালা। এই রাজেশ খান্ডওয়ালা, সম্পর্কে রাজ্যসভার সাংসদ পরিমল নাথওয়ানির শ্যালক। পরিমল আবার রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী। নাথওয়ানি নির্দল সাংসদ হলেও, তাঁকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের বিজেপির বিধায়করা।

অমিতপুত্রের ওই সংস্থাটি কৃষি সামগ্রী আমদানি-রফতানির কাজ করত।

রবিবার এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। ঘটনার তদন্ত দাবি করে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, নোটবন্দিতে কারা লাভবান হয়েছে এবার বোঝা যাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্পূর্ণ আইন মেনে কাজ করেছে জয় শাহের সংস্থা। তাঁকে চক্রান্ত করে কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে।

জয় শাহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ আইনি পথে ব্যবসা করা সত্ত্বেও তাঁকে কালিমালিপ্ত করার জন্য তিনি দ্য ওয়ার ডট ইনের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করবেন। এমনকি যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে ওই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য তাঁর মানহানি করার কাজে ব্যবহার করবে, তাঁদের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করবেন তিনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here