g d birla

কলকাতা: জিডি বিড়লা স্কুলে চার বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ধৃত দুই অভিযুক্তকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আলাদা আলাদা ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

শুক্রবার রাতের পর শনিবার সকাল থেকেও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যেই যাদবপুর থানায় পৌঁছে গিয়েছেন বিভাগীয় ডিসি-সহ কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। শনিবারই আলিপুর আদালতে তোলা হবে দুই অভিযুক্ত অভিষেক রায় ও মহম্মদ মফিসউদ্দিনকে। তাদের বিরুদ্ধে প্রিভেনশন অফ চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্সেস (পকসো) আইনের ৪ ও ৬ নাম্বার ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ঘটনায় সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে দুই অভিযুক্তের।

তবে আলিপুর আদালতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে কেউ দাঁড়াবে না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিপুর বার অ্যাসোসিয়েশন। অভিযুক্তদের আদালতে তোলা হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

এ দিকে শুক্রবার রাতেও পুলিশের সাথে ঝামেলা হয় বিক্ষোভরত অভিভাবকদের। ধস্তাধস্তি হয়। অভিভাবকদের ওপরে লাঠি চালানো হয় বলেও অভিযোগ। ঘটনায় কয়েক জন আহত হয়েছেন। রাতেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয় স্কুলের অধ্যক্ষ-সহ অন্যান্য শিক্ষককে। শনিবার সকাল থেকেই স্কুলের সামনে থমথমে চেহারা। অশান্তির আশঙ্কায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। শনিবার স্কুল বন্ধ। অভিভাবকদের দাবি, যতক্ষণ না অধ্যক্ষ পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ স্কুল বন্ধই থাকবে। এই ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে ইতিমধ্যে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন একাধিক সংগঠন। এই ইস্যুতে শনিবারও একাধিক সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে।

তবে স্কুলের বিরুদ্ধেও তথ্য গোপন করার অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতার বাবার। স্কুলের বিরুদ্ধেও অভিযোগ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।

ইতিমধ্যে ওই স্কুলে অভিভাবক ফোরাম তৈরি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শনিবারই ওই ফোরাম বৈঠকে বসেছে। অভিভাবকদের দাবি, স্কুল কমিটিতে এই ফোরামকে যুক্ত করতে হবে এবং স্কুলের যে কোনো সমস্যায় তাঁদের ফোরামকে অবহিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here