sabarimala

তিরুঅনন্তপুরম: সবরিমালার মন্দিরে মহিলাদের প্রবেশাধিকার দিলে ‘মন্দিরক্ষেত্র যৌন পর্যটনক্ষেত্রে’ পরিবর্তিত হতে পারে, বাড়তে পারে ‘অবৈধ কার্যকলাপ।’ আজব মন্তব্য করে মহাবিতর্কের সৃষ্টি করলেন ত্রিবাঙ্কুর  দেবস্বম বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।

সবরিমালায় মহিলাদের প্রবেশাধিকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে শুক্রবারই সাংবিধানিক বেঞ্চ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই এমন মন্তব্য করেন দেবস্বম বোর্ডের প্রেসিডেন্ট প্রায়ার গোপালকৃষ্ণন। অবশ্য এর আগেও বেশ কয়েক বার বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন গোপালকৃষ্ণন।

তিনি বলেন, “মন্দিরে মহিলারা ঢুকলে আমরা তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারব না। আমরা মন্দিরকে যৌন পর্যটনক্ষেত্রে পরিবর্তিত করতে পারব না। শীর্ষ আদালত যদি মহিলাদের প্রবেশাধিকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়ও, তবুও আমার মতে নিজেদের সম্মান বজায় রাখার জন্য মহিলাদের ওই মন্দিরে না যাওয়াই উচিত।”

উল্লেখ্য, দশ থেকে পঞ্চাশ বছরের মহিলাদের ওই মন্দিরে প্রবেশাধিকারের ওপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রেখেছে ত্রিবাঙ্কুর দেবস্বম বোর্ড। মূলত দশ থেকে পঞ্চাশ বছরকে মহিলাদের ঋতুচক্রের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা যে প্রার্থনার অধিকারের ওপরে সরাসরি হস্তক্ষেপ সেটাও মোক্ষম জানেন গোপালকৃষ্ণন। তা সত্ত্বেও তিনি বলেন, “মহিলাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা এখানকার ঐতিহ্য। যদি প্রবল ভিড়ের মধ্যে মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয় তা হলে অবৈধ কাজকর্ম ঘটবে।”

আরও পড়ুন সবরিমালায় মহিলাদের প্রবেশাধিকারে সমর্থন কেরল সরকারের

তবে দেবস্বম বোর্ডের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছে কেরল সরকার। মন্দির বিষয়ক দফতরের মন্ত্রী ককমপল্লি সুরেন্দ্রন বলেন, “আমি বুঝতেই পারছি না কেন এ রকম অদ্ভুত মন্তব্য করেছেন তিনি। এর ফলে মহিলা তো বটেই ভক্তদেরও অপমান করা হয়েছে। এই মন্তব্য প্রত্যাহার করে শীঘ্রই ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে।” সবরিমালায় মহিলাদের প্রবেশাধিকারে সমর্থন করেছে কেরলের বর্তমান এলডিএফ সরকার।

বছরদুয়েক আগেও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন গোপালকৃষ্ণন। তিনি বলেছিলেন, “কোনো মহিলা রজঃস্বলা কি না এটা বোঝার জন্য যে দিন যন্ত্র আবিষ্কার হবে সে দিন থেকে মহিলারা মন্দিরে প্রবেশাধিকার পাবেন।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here