gujarat elections

ওয়েবডেস্ক: গুজরাত নির্বাচনের আগে আগেই নতুন জনমত সমীক্ষায় উজ্জীবিত হয়েছে কংগ্রেস। সেখানে দেখা যাচ্ছে বিজেপি এবং কংগ্রেসের ভোট সমান সমান। বিজেপি কোনো রকমে ক্ষমতা দখল করতে পারবে। এই আবহে কংগ্রেসের পালে অক্সিজেন জোগাতে পারে সৌরাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলগুলি।

বিজেপির বড়ো ভোটব্যাঙ্ক হিসেবেই পরিচিত সৌরাষ্ট্র। গত নির্বাচনে এখানকার ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩২টা জিতেছিল বিজেপি। কংগ্রেসের কাছে এসেছিল সাকুল্যে ১৩টা আসন। কিন্তু এ বার আরও বেশি প্রভাব ফেলতে চায় তারা। সেই জন্য কংগ্রেসের বাজি, এখানকার মানুষের মধ্যে ‘অবহেলিত’ মনোভাব।

আরও পড়ুন গুজরাত নির্বাচন: ইন্দ্রনীল রাজগুরুকে দিয়ে বিজয় রুপানি কাঁটা তুলতে বদ্ধপরিকর কংগ্রেস

সৌরাষ্ট্রের গ্রামীণ অঞ্চলে প্রধান সমস্যা জল এবং সেচের। সৌরাষ্ট্রের শহরাঞ্চলে জলের সমস্যা সে ভাবে না থাকলেও, গ্রামীণ অঞ্চলে পরিস্থিতি বেশ খারাপ। রাজ্যে প্রদেশ কংগ্রেসের সচিব মহেশ রাজপুতের কথায়, “শহরাঞ্চল জল পেলেও গ্রামীণ অঞ্চল মনে করে তারা অবহেলিত।”

বিজেপির উন্নয়নের স্লোগানকে ভোঁতা করতে কংগ্রেসের এ বারের স্লোগান হল, ‘ভিকাস গান্দো থায়ো ছে’ (কোনো উন্নয়নই হয়নি)। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্লোগানটা ছড়িয়ে পড়তেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের পক্ষে যে ব্যাপারটা যাচ্ছে, তা হল বেশ কিছু দিন ধরেই বিজেপিকে ট্রোল করে নানান বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। রাজপুতের কথায়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভাবে প্রচার হচ্ছে, তাতে বিজেপি বেশ চাপে পড়েছে। বিজেপির সেই চাপকে কাজে লাগিয়ে আমরা নেমে পড়েছি। জলের সমস্যা, পরিকাঠামোর অভাব এবং বেকারত্বের সমস্যাকে তুলে ধরছি আমরা।”

এর পাশাপাশি পাতিদারদের আন্দোলন, জিএসটি এবং বিমুদ্রাকরণ নিয়ে ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ এবং কৃষকদের ক্ষোভকেও কাজে লাগাতে মরিয়া কংগ্রেস। গত আগস্টে নর্মদা সেচ প্রকল্প উদ্বোধন করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজকোট এলেও, সেটা শুধুমাত্র মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য, এমনই মনে করেন রাজপুত। তাঁর কথায়, “প্রকল্পের কাজ এখনও শেষ হয়নি, কিন্তু মোদী এবং অমিত শাহ এমন করলেন যেন পাঁচ বছরের মধ্যে সব কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় জল পরিষেবার জন্য যে পাইপ এবং সুড়ঙ্গ তৈরি করার কথা সেই কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।”

আরও পড়ুন গুজরাত নির্বাচন ২০১৭: ‘বিজেপির গড়’ অমদাবাদে পনেরো বছর পরে প্রভাব ফেলার আশায় কংগ্রেস

কংগ্রেসের মতে, ২০১২ নির্বাচনের আগে এই প্রকল্প ঘোষণা করেই নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ক বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল বিজেপি। কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, “২০১২-তে মোদীর কথা মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন এবং তাঁকে ভোট দিয়েছিলেন। মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারটাও মানুষকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল। কিন্তু মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তিন বছর কেটে গেলেও গ্রামীণ এলাকার জলের সমস্যা এখনও মেটেনি। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিমুদ্রাকরণ এবং জিএসটি নিয়ে বিভ্রান্তি।”

রাজপুতের কথায় তুলো এবং বাদাম সৌরাষ্ট্রের মূল শস্য। এর জন্য সেচের জলের দরকার। কিন্তু রাজ্য সরকারের অবহেলার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা এসেছে। চাষিদের শস্যের সঠিক দাম না পাওয়াও বিজেপির বিরুদ্ধে যেতে পারে এই নির্বাচনে।

কংগ্রেসের অভিযোগকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করলেও এখনও যে নর্মদা প্রকল্পের জল অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছোয়নি তা মেনে নিয়েছেন বিজেপির মুখপাত্র রাজ ধ্রুব। তাঁর কথায়, “কংগ্রেস কেন বুঝতে পারছে না, যে এত বড়ো প্রকল্পের কাজ শেষ হতে একটু সময় লাগবে। জল যখন রাজকোটে পৌঁছে গিয়েছে, তখন গ্রামীণ এলাকাতেও পৌঁছোবে।” সৌরাষ্ট্রের রাস্তা ভালো হওয়া সত্ত্বেও কংগ্রেস কেন সে ব্যাপারে সরকারের প্রশংসা করে না, সে ব্যাপারেও প্রশ্ন তুলেছেন ধ্রুব।

সৌজন্য: ইকোনমিক টাইম্‌স

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here