nand lal

ওয়েবডেস্ক: নন্দ লালকে অনেকেই হয়তো চেনেন না। কিন্তু ইংরেজি দৈনিক হিন্দুস্তান টাইম্‌সের দৌলতে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে লড়া অবসরপ্রাপ্ত এই বৃদ্ধ সেনাকর্মী হয়ে উঠেছিলেন বিমুদ্রাকরণের মুখ। ছবিতে নন্দ লালকে দেখা যায় ব্যাঙ্ককর্মীদের কাছে হাতজোড় করে মিনতি করছেন তাঁকে যেন তাঁর পেনশনের টাকাটা তুলতে দেওয়া হয়। তিন দিন পর পর ব্যাঙ্কে গিয়েও ব্যর্থ হয়ে কাঁদতে শুরু করেন ৭৯ বছরের এই বৃদ্ধ।

কাট টু ২০১৭। সেই ভয়ংকর সময় কাটিয়ে উঠেছেন নন্দ লাল। ব্যাঙ্কে এখন তাঁকে বেশ কদরও করা হয়। কিন্তু বিমুদ্রাকরণের ফলে যে কার কী লাভ হল সেটা জানেন না তিনি। তাঁর কথায়, “আমি জানি না কার লাভ হল এই ঘোষণার পরে। তবে আমার লাভ হয়েছে। আগে আমার কথা কেউ ভাবত না, আমায় পাত্তা দিত না। এখন অনেকেই আমায় চেনে। ব্যঙ্ককর্মীরাও কদর করে।”

প্রতি মাসের ৫-৬ তারিখ করে স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় নিজের পেনশন তুলতে যান এই বৃদ্ধ। টাকা তোলা এখন আর কোনো সমস্যার নয়। ব্যাঙ্কে গেলে তাঁর জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়। প্রতি মাসে ১৯,৭০০ টাকা পেনশন পান নন্দ লাল। সেই সঙ্গে ফরিদাবাদ থেকে তাঁর মেয়ে মাসে ৮,০০০ টাকা পাঠায়। এর মধ্যে নিজের পরিচারিকাকে ১৫ হাজার এবং বাড়ি ভাড়া বাবদ চার হাজার টাকা দিতে হয় তাঁকে।

তাঁর কথায়, “আগে শুধু ২,০০০ টাকার নোট পেতাম। তবে এখন কম অঙ্কের নোটও পাচ্ছি।”

তিনি ব্যাঙ্কে পৌঁছোলে তাঁকে সাহায্যে এগিয়ে আসেন ব্যাঙ্কের নিরাপত্তারক্ষী রাম যাদব। তিনি বলেন, “ওঁকে এখন সবাই চেনে। ব্যাঙ্কে এলে তিনি যাতে কোনো অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সে ব্যাপারটা খেয়াল রাখা হয়।”

কিন্তু গত বছর ১৪ ডিসেম্বর তাঁকে কেউ চিনত না। পর পর দু’দিন ব্যাঙ্কে এসে ফিরে গিয়েছেন এই বৃদ্ধ। তৃতীয় দিন এসে সহ্যের বাঁধ ভেঙে যায় তাঁর। ‘কিছু টাকার’ জন্য ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছে কাকুতিমিনতি করতে দেখা যায় নন্দ লালকে।

পনেরো বছর আগেও নিজের বাড়িই ছিল তাঁর। কিন্তু মেয়ের বিয়ের জন্য সেই বাড়ি বেচে দিয়ে ভাড়া বাড়িতে ওঠেন তিনি। স্বাধীনতার পরে পাকিস্তানে নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে দিল্লিতে আসেন নন্দ লাল। তার পর সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন তিনি। ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ভারতের হয়ে লড়েছিলেন এই বৃদ্ধ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here