modi in budget speech attacks congress

নয়াদিল্লি: সাধারণ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে তত কি নিজের আগ্রাসী রূপটা তুলে ধরছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? অন্তত বুধবার সাংসদে তাঁর ভাষণ শুনলে এ রকমই কিছু মনে হবে। বিভিন্ন ইস্যুতে এ দিন কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মোদী।

রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপক ভাষণ দেন মোদী। এই ভাষণ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তুমুল হইহট্টগোল শুরু করে বিরোধীরা। বিরোধীদের আক্রমণের মধ্যেই নিজের সুর ক্রমশ চড়া করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রথমেই গণতন্ত্রের পাঠ শেখাতে না আসার জন্য কংগ্রেসকে ‘পরামর্শ’ দেন মোদী। তিনি বলেন, “এমন একদিনও যায়নি যে দিন কংগ্রেসের বপন করা বিষের ফল ভুগতে হয়নি ভারতকে।” সংসদে তখন তুমুল হট্টগোল বিরোধীদের। মোদী বলেন, “বিরোধীদের প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে কিন্তু সংসদকে অচল করে দেওয়ার কোনো অধিকার নেই।”

বুধবার অধিবেশন শুরুর আগে কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদ অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্র নেই। এর জবাবে মোদী বলেন, “কংগ্রেস আমাদের বোঝাতে চায় যে পণ্ডিত নেহরুর আমল থেকে নাকি ভারতে গণতন্ত্র রয়েছে। আমি কংগ্রেসকে বলছি, দয়া করে ভারতের ইতিহাস পড়ে আসুন। শয়ে শয়ে বছর আগেও দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো ছিল সেটা আমরা ইতিহাস বই ঘাঁটলেই জানতে পারি। গণতন্ত্র আমাদের সংস্কৃতির রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে।”

গান্ধী-নেহরু ছাড়া কংগ্রেস আর কোনো নেতাকেই মান্যতা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন মোদী। তিনি বলেন, “কোনো কংগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী অন্য কোনো দলের প্রশংসা করেনি। আমরা সেই পথে চলি না। আমাদের শুরু একটাই লক্ষ্য, দেশের ১২৫ কোটি জনতাকে সেবা করা।”

এরই মধ্যে বিরোধীদের দিক থেকে বিভিন্ন স্লোগান ভেসে আসে। তাদের মধ্যে যেমন ছিল, “মিথ্যে বলা বন্ধ করুন’-এর মতো স্লোগান, তেমনই ছিল, “পকোড়াবাজি বন্ধ করার স্লোগানও।” তবুও থেমে থাকেননি মোদী। এ বার দেশভাগের জন্য কংগ্রেস দায়ী, এই অভিযোগ করে মোদীর মুখে আবারও সর্দার বল্লবভাই পটেলের স্তুতি শোনা যায়। তিনি বলেন, “সর্দার পটেল দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলে পুরো কাশ্মীর আজ ভারতে থাকত।”

এর পরে সুর কিছুটা নরম করে তাঁর আমলে দেশে কী পরিবর্তন এসেছে সে কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পরিকাঠামোর দিক থেকে গত তিন বছরে ভারত অনেক উন্নত হয়েছে। গত তিন বছরে অনেক গ্রামেই অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।” সেই সঙ্গে আধারের স্তুতিও শোনা যায় মোদীর মুখে।

এক সঙ্গে পথ চলে, নতুন ভারত গড়ার ডাক দিয়ে নিজের ভাষণ শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here