bhu

ওয়েবডেস্ক: প্রশ্ন ১- ‘জিএসটি নিয়ে কৌটিল্যের অর্থশাস্ত্রে কী বলা হয়েছে, তা নিয়ে একটি অনুচ্ছেদ লেখ’।

প্রশ্ন ২- ‘গ্লোবালাইজেশন নিয়ে মনুর কী ভাবনা ছিল? আলোচনা কর’।

পনেরো নম্বরের এই দু’টি প্রশ্নে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইচইউ) রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ পরীক্ষায় এই প্রশ্ন করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র যিনি তৈরি করেছেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সেই অধ্যাপক কৌশল কুমার মিশ্র আরএসএসের সদস্য হিসেবেই পরিচিত।

ছাত্রছাত্রীদের দাবি, যে প্রশ্ন তাদের করা হয়েছে সেই ব্যাপারে কোনো বিষয়বস্তু তাদের পাঠক্রমে ছিল না। কিন্তু তাতেও তাদের এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো অসুবিধা হয়নি। কেন হয়নি?

কারণ এই প্রশ্নের উত্তর যে আগে থেকেই ছাত্রছাত্রীদের করিয়ে দিয়েছিলেন অধ্যাপক। সেটা সম্পূর্ণ নিজের তৈরি করা। তাঁর কথায়, “পাঠক্রমে নেই তো কী হয়েছে! এটা সম্পূর্ণ আমার নিজের আবিষ্কার। আমি আমার ছাত্রছাত্রীদের আগে থেকেই এই ব্যাপারে নোট দিয়েছিলাম। পড়াশোনায় নতুনত্ব দিয়ে আসার দায়িত্ব আমাদেরই।”

এক ছাত্রের কথায়, “এর উত্তর আগে থেকে স্যার আমাদের করিয়ে দিয়েছিলেন। এই প্রশ্ন যে আসবে পরীক্ষায় সেটাও বলে দিয়েছিলেন। বইতে এই ব্যাপারে কিছু নেই, কিন্তু নোট নেওয়ার ফলে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি।” কিন্তু সমস্যা পড়েছে বিএইচইউয়ের অ্যাফিলিয়েশন থাকা কলেজগুলির ছাত্রছাত্রীরা। তাদের কাছে এই বিষয়ে কোনো নোট না থাকায় এই প্রশ্নের কোনো উত্তর তারা দিতে পারেনি।

এ বার আসা যাক অধ্যাপকের কথায়। তাঁকে অর্থশাস্ত্রে জিএসটির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “অর্থশাস্ত্রই প্রথম বই যেখানে জিএসটি নিয়ে বলা হয়েছে। জাতীয় অর্থনীতির একীকরণের কথা প্রথম কৌটিল্যই বলেছিলেন। তাঁর সময়ে তিনি বাড়ি তৈরির সামগ্রী, সোনা এবং বাকি ধাতু, সীমান্ত বাণিজ্যের ওপরে কুড়ি শতাংশ করে কর বসিয়েছিলেন। পাঁচ শতাংশ কর বসিয়েছিলেন বাগানের ওপরে। শিল্পীদের ওপরে ৫০ শতাংশ কর বসিয়েছিলেন তিনি।”

মনুর বিশ্বায়নের ব্যাপারে তিনি বলেন, “বিশ্বায়নের প্রথম ধারণা মনুই দিয়েছিলেন। মনুর ভাবনা বিশ্বে ছড়িয়েছে। অনেক দেশই তাঁর ভাবনা নিয়ে পড়াশোনা করছে। ধর্ম, ভাষা এবং রাজনীতি নিয়ে মনুর ভাবনা, চিন, নিউজিল্যান্ড এবং ফিলিপিন্সে পড়ানো হয়।”

এই প্রশ্নের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে না বলেই মনে করেন কৌশল। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান আরপি সিংহ মনে করেন এই প্রশ্ন আদৌ সিলেবাসের বাইরে নয়। তাঁর কথায়, “তিনি যা পড়িয়েছেন সেখান থেকেই প্রশ্ন করেছেন।”

তবে এই প্রশ্ন পাওয়ার পর ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে। একজন পড়ুয়ার কথায়, “বর্তমান সরকারের নীতির প্রচারের জন্যই এই প্রশ্ন করা হচ্ছে। বোঝানো হচ্ছে যে সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নিয়েছে সেগুলি কত ভালো। গত বছরেই বিমুদ্রাকরণের লাভ এবং রামায়ণে কী ভাবে সার্জিকাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল, তা পড়ানো হয়েছিল। কিন্তু এর প্রতিবাদ করায় তখন পরীক্ষায় এই প্রশ্ন করা হয়নি।” অন্য এক জনের কথায়, “এই ব্যাপারে আমরা শিক্ষকদের কিছু বলতেও পারব না, তা হলেই শিক্ষকদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে যাব আমরা।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here