justin trudeau

ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের সখ্যতা সর্বজনবিদিত। সে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ হোক, যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প, জাপানের শিঞ্জো আবে হোক বা ইজরায়েলের বেনজামিন নেতানইয়াহু। রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতে মোদী যে ভাবে তাঁদের আপ্যায়ন করেন সেটা এক কথায় তুলনাহীন। কিন্তু হঠাৎ করে তাল কেটে গেল কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ভারতে আগমনে।

শনিবার ভারতে পা রেখেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। পা রাখা ইস্তক মনে হচ্ছে ভারত তাঁকে আপ্যায়ন করতে আদৌ ইচ্ছুক নয়। কারণ শনিবার ট্রুডোকে দিল্লি বিমানবন্দরে স্বাগত জানাতে যান কৃষি ও কৃষকদের কল্যাণ বিষয়ক দফতরের প্রতিমন্ত্রী গজেন্দ্র সিংহ। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের স্বাগত জানাতে মোদীর যাওয়াই ছিল দস্তুর। মোদী কোনো কারণে না গেলে যেতেন বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ, বা তাঁর কোনো একজন ডেপুটি, ভিকে সিংহ বা এমজে আকবর। এঁদের তুলনায় গজেন্দ্র সিংহ যে অনেকটাই নিম্নপদস্থ তা বলাই বাহুল্য।

রবিবার তিনি গেলেন আগরায়। কিন্তু উত্তরপ্রদেশে তাঁকে স্বাগত জানাতে যাননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার তিনি এসেছেন অমদাবাদে। এখানেই ছবি বদলে গেল। গত কয়েক বছরে অমদাবাদে গিয়েছেন চিনের ঝি জিনপিং, জাপানের আবে এবং ইজরায়েলের নেতানইয়াহু। তিন জনের অমদাবাদ সফরে সঙ্গী ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু এ বার ট্রুডোর সফরে তিনি থাকছেন না, অথচ মোদী তো ভারতেই রয়েছেন। ট্রুডোর ভারত সফর নিয়ে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে এখনও পর্যন্ত একটা কথাও খরচ করেননি মোদী।

তা হলে কি খালিস্তানি যোগ থাকার ফলেই ট্রুডোকে ইচ্ছে করেই এড়িয়ে যাচ্ছে ভারত? মোদীর নিকটবর্তী সূত্র সে জল্পনায় পুরোপুরি জল ঢেলে দিয়েছে যদিও। তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে অন্য কাজে মোদী ব্যস্ত থাকার ফলেই ট্রুডোর সঙ্গে অমদাবাদ যাননি।

তবে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, ট্রুডোকে এড়ানোর পেছনে খালিস্তানি যোগই রয়েছে। ২০১৫ সালে ট্রুডো যখন কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন, নিজের ক্যাবিনেটে মন্ত্রী হিসেবে চারজন ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে নিয়োগ করেন। ঘটনাক্রমে ওই চার জনই শিখ। এঁদের মধ্যে হরজিত সিং সজ্জন হন সে দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীও। কিছু দিন পরেই দেখা যায় ওই চারজন মন্ত্রীর সঙ্গে খালিস্তানি নেতা-সমর্থকদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। কিছু দিন পরে ট্রুডো নিজেও এক খালসা সভায় অংশগ্রহণ করেন যেখানে উন্মোচিত হয়েছিল খালিস্তানের পতাকা এবং খালিস্তানি জঙ্গিনেতা ভিন্দ্রানওয়ালের ছবি।

শুধু মোদী বা বিজেপি সরকারই নয়। ট্রুডোর সঙ্গে সম্ভবত দেখা করবেন না পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিংহও। আগামী বুধবার অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির সফর করার কথা তাঁর। গত বছর যখন ভারত সফরে এসেছিলেন পঞ্জাবের হোশিয়ারপুরজাত কানাডার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সজ্জন, তখন খোলাখুলিই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চাননি অমরিন্দর। তিনি বলে দিয়েছিলেন, “খালিস্তানি সমর্থক কোনো নেতার সঙ্গে দেখা করব না।”

ব্যাপারটা হল, আরও পাঁচ দিন ভারত সফরে থাকবেন ট্রুডো। সপ্তাহের শেষের দিকে তাঁর সঙ্গে মোদী এবং রাষ্ট্রপতি কোবিন্দের বৈঠকও হবে। ভারত-ক্যানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রতিজ্ঞাও নেওয়া হবে। কিন্তু ট্রুডোর প্রথম ভারত সফরে যে গভীর ছায়া ফেলে দিয়ে গেল খালিস্তানি ইস্যু, সেই অন্ধকার সহজে কাটবে না।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন