কলকাতা: না, শেষ মুহূর্তে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিল না ঠিকই, কিন্তু খবর অনলাইনের পূর্বাভাস মতোই কালীপুজোর রাতটা ভাসিয়ে দিল প্রবল বৃষ্টি। এই বৃষ্টির দাপট ওড়িশায় তুলনায় অনেক বেশি থাকলেও, কলকাতা-সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গেও এর প্রভাব ভালোই পড়েছে। উপরন্তু নিম্নচাপটির অভিমুখ বাংলাদেশের দিকে হওয়ার ফলে আরও অন্তত ৩৬ ঘণ্টা এই বৃষ্টির দাপট থেকে রেহাই পাবে না দক্ষিণবঙ্গ।

গত রবিবার বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি বারবার ঘোল খাইয়েছে আবহাওয়াবিদদের। মাঝেমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হওয়ার হুমকি দিলেও শেষমেশ না হলেও বৃহস্পতিবার প্রবল বৃষ্টি সহযোগে ওড়িশার পারাদ্বীপ উপকূল অতিক্রম করে সে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের শুক্রবার ভোর সাড়ে পাঁচটার বুলেটিন অনুযায়ী নিম্নচাপটি চাঁদবালির ২৫ কিমি পশ্চিমে অবস্থান করছে। এর ফলে বৃহস্পতিবার সারা রাত উপকূল ওড়িশার বিভিন্ন জায়গায় প্রবল বর্ষণ হয়েছে।

সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পুরীতে (১৫৭ মিমি)। এ ছাড়াও একশো থেকে দেড়শো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বালেশ্বর, ভুবনেশ্বর, চাঁদবালি প্রভৃতি জায়গায়। পিছিয়ে ছিল না এ রাজ্যও। এখানে সব থেকে বেশি বৃষ্টি কাঁথিতে (১০০মিমি), দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ জায়গাতেই পঞ্চাশ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হয়েছে। কলকাতায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে ৫৪ মিলিমিটার।

khaboronline weather
কালীপুজো ভাসতে পারে, ইঙ্গিতটা খবর অনলাইন প্রথম দিয়েছিল

তবে রাজ্যের ওপর থেকে বিপদ কেটে গিয়েছে, তা কখনওই বলা যাবে না। বরং আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস এই নিম্নচাপটি ক্রমশ উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হবে। অর্থাৎ এর অভিমুখ পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বাংলাদেশ। সুতরাং নিম্নচাপটি যতক্ষণ না বাংলাদেশের দিকে যাচ্ছে ততক্ষণ দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার উন্নতি হবে না।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, “আগামী ৩৬ থেকে ৪৮ ঘণ্টাতেও এই নিম্নচাপ ভালোই খেল দেখাবে। দক্ষিণবঙ্গ, ওড়িশার পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডেও ব্যাপক বৃষ্টি চলবে। দামোদর অববাহিকা অঞ্চলে জোর বৃষ্টির ফলে ফের এক দফা বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।”

সেই সঙ্গে রবীন্দ্রবাবুর সতর্কবাণী, বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে উত্তরবঙ্গ, বাংলাদেশ এবং সমগ্র উত্তরপূর্ব ভারতে। তবে ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় উন্নতি দেখা যাবে। পরিষ্কার হতে শুরু করবে আকাশ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here