quake

ওয়েবডেস্ক: মাত্র দশ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল বিশ্বের তিন প্রান্ত। একটি কম্পনের ফলে প্রচুর মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও, পরের দু’টি ভূমিকম্পের ফলে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রথম ভূমিকম্পটি হয়েছে ইরান-ইরান সীমান্তে। রবিবার ভারতীয় সময়ে রাত পৌনে বারোটা, অর্থাৎ স্থানীয় সময়ে রাত ৯টা ২০তে ভয়াবহ কম্পনে দুলে ওঠে ইরান-ইরাকের সীমান্ত অঞ্চল। রিখটার স্কেলে ৭.৩ মাত্রার এই কম্পনের কেন্দ্রস্থল ছিল ইরান সীমান্ত লাগোয়া ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়া প্রদেশে। এই কম্পনে মারা গিয়েছেন ৪০০-রও বেশি মানুষ, আহত অন্তত ৭ হাজার।

তবে এই কম্পনের প্রভাবে সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে ইরান থেকেই। ইরানের কেরমানশাহ প্রদেশে মৃতের সংখ্যা অন্তত ৪০৭। লাগোয়া ইলাম প্রদেশে এই কম্পনের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই অঞ্চলের ঘরবাড়ি মূলত মাটির হওয়ায় কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।

উদ্ধারকারী দলকে সব থেকে সমস্যায় ফেলেছে এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ার ফলে ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন জায়গায় ধস নামার খবর এসেছে। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে পৌঁছোতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে উদ্ধারকারীদের।

সরকারের আধিকারিক মুজতবা নিক্কেরদর বলেন, “এখনও প্রচুর মানুষ ধ্বংসস্তূপে আটকে রয়েছেন। আশা করব মৃতের সংখ্যা যেন আর না বাড়ে, কিন্তু মনে হচ্ছে সেটা বাড়বে।”

তবে মৃতের সংখ্যার বিচারে ইরাকের অবস্থা কিছুটা ভালো। এখানে মারা গিয়েছেন ৭ জন, জখম ৫৩৫। সব থেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কেন্দ্রস্থল থেকে ৭৫ কিমি দূরে অবস্থিত দরবনদিখান শহরে। ভূমিকম্পের ফলে সীমান্ত লাগোয়া দুই দেশের গ্রামই বিদ্যুৎহীন।

ইরাকের রাজধানীয় বাগদাদে এই কম্পন ভালোই অনুভুত হয়েছে। পাশপাশি কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে সুদুর ইজরায়েল এবং তুরস্কেও তা অনুভুত হয়।

কম্পন কোস্তা রিকায়ও

অন্য দিকে ইরানের এই ভূমিকম্পের আট ঘণ্টা পর, অর্থাৎ ভারতীয় সময় সোমবার সকাল আটটা নাগাদ আরেকটি  তীব্র ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে কোস্তা রিকায়। রিখটার স্কেলে ৬.৫-এর এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল রাজধানী সান খোসে থেকে ৬৯ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে। সোমবার সকালে মাঝারি মাপের ভূমিকম্প অনুভুত হয়েছে জাপানেও। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৮।

তবে এই দু’টি কম্পনের ফলে এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here