winter rain in kolkata

ওয়েবডেস্ক: একটা জোক ২-১ দিন হল হোয়াট্‌সআপে চালাচালি শুরু হয়েছে। জোকে বঙ্গোপসাগরকে একটি মনোবিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার নিদান দেওয়া হয়েছে। কারণ এ বছর সে নাকি খালি ‘ডিপ্রেশন’-এ ভুগছে। কথাটা ভুল কিছু নয়, যখনই মনে হচ্ছে শীতটা থিতু হচ্ছে, তখনই বঙ্গোপসাগর কিছু একটা ‘কাণ্ড’ ঘটাচ্ছে। এই সপ্তাহের শেষেও ও রকমই ‘কাণ্ড’ হতে চলেছে, যার ফলের শীতের একেবারে দফারফা হয়ে যাবে।

এই মরশুমে ভালোই শুরুয়াত হয়েছে শীতের। দু’সপ্তাহ হল কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ষোলো ডিগ্রির ওপরে উঠছেই না। এক দিন যদিও না ষোলো ডিগ্রিতে উঠছে, পরের দিনই ফের নেমে যাচ্ছে। যেমনটা হয়েছে সোমবারের ক্ষেত্রে। রবিবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার সেটা নেমে হয়েছে ১৫.৮ ডিগ্রি। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলার ক্ষেত্রেও শীতের ছবিটা একই রকম। পশ্চিমাঞ্চলে এবং নদিয়া-মুর্শিদাবাদে তাপমাত্রা রয়েছে দশ থেকে বারো ডিগ্রির মধ্যে, অন্য দিকে উপকূলে তেরো থেকে চোদ্দো ডিগ্রির আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে পারদ। কিন্তু ছবিটা এ বার বদলাতে চলেছে।

নিম্নচাপের প্রভাবে বাড়তে চলছে দক্ষিণবঙ্গের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। এমনিতে অন্য একটি নিম্নচাপের প্রভাবে নভেম্বরের শেষ থেকে বাড়ার সম্ভাবনা ছিল তাপমাত্রার। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় ‘অক্ষি’র রূপ নেওয়া সেই নিম্নচাপটি ভারতের একেবারে দক্ষিণে তৈরি হওয়ায়, সে যাত্রায় বেঁচে গিয়েছিল দক্ষিণবঙ্গ, কিন্তু এ বার আর না।

ইতিমধ্যে বঙ্গোপসাগরে আরও একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়ে গিয়েছে। ক্রমে সেটি শক্তি বাড়িয়ে অতি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে এগিয়ে আসবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদশের দিকে। সেই নিম্নচাপটি পূর্ব উপকূলের দিকে যত এগিয়ে আসবে তত মেঘ ঢোকা শুরু হবে দক্ষিণবঙ্গে।

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, বুধ-বৃহস্পতিবার নাগাদ অন্ধ্র উপকূলে হানা দেবে ওই নিম্নচাপ। ঠিক একই সময়ে অন্য দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘অক্ষি’ গভীর নিম্নচাপের রূপ নিয়ে সুরাত উপকুল দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করবে। এর কিছু দিনের মধ্যেই একটি শক্তিশালী পশ্চিমী ঝঞ্ঝার হানা দেওয়ার কথা উত্তর ভারতে।

এই সব কিছুর প্রভাবে, বিশেষ করে অন্ধ্রের নিম্নচাপের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে দক্ষিণবঙ্গে। তাঁর কথায়, “বৃহস্পতিবার থেকে দিন পাঁচেক, কলকাতায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি চলবে। পশ্চিমাঞ্চল এবং উপকূলবর্তী অঞ্চলে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।” এর প্রভাবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জায়গাতেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বাড়বে। কলকাতায় তাপমাত্রা উঠে যেতে পারে ১৯-২০ ডিগ্রির কাছাকাছি। তবে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সারা দিনই মালুম হবে শীত শীত ভাব।

১৫ ডিসেম্বরের আগে পুনরায় শীত পড়ার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না রবীন্দ্রবাবু। কারণ তত দিনে নিম্নচাপের প্রভাব কেটে গেলেও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব থাকবে, যার ফলে বাধাপ্রাপ্ত হবে উত্তুরে হাওয়া। তবে তার পর থেকে উত্তুরে হাওয়াকে সঙ্গী করে ফের নামতে শুরু করবে তাপমাত্রা। আপাতত তাই পৌষ পড়ার আগে সে ভাবে আর শীতের সম্ভাবনা নেই দক্ষিণবঙ্গে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here