winter

ওয়েবডেস্ক: নভেম্বরের ২০ তারিখ হয়ে গেল, বৃষ্টি থেমে আকাশ পরিষ্কারও হয়ে গেল। তবুও শীতের দেখা নেই। হতাশ দক্ষিণবঙ্গবাসীর কাছে অবশেষে খুশির খবর। পরিমণ্ডলের পরিস্থিতি এক্কেবারে অনুকূল। জব্বর শীত পড়ল বলে।

নিম্নচাপ বিলীন হয়ে গেলেও বাতাসে কিঞ্চিত জলীয় বাষ্প ছিল। সোমবারের পর সেটাও দূরে সরে যাবে। পরিষ্কার আকাশকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গলবার থেকে প্রবল বেগে বইতে শুরু করবে উত্তুরে হাওয়া। সেই হাওয়ার সঙ্গী হয়ে ক্রমশ নামতে শুরু করবে তাপমাত্রা। পরিস্থিতি যা তাতে সাম্প্রতিক ইতিহাসের নভেম্বরের শীতলতম দিনটাও দেখে ফেলতে পারে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গ।

তাপমাত্রা কমার পেছনে দক্ষিণ ভারত এবং উত্তর ভারতের সমান অবদান রয়েছে। কিছু দিন আগেই নিম্নচাপের বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গ যখন কাহিল, তখনই পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে তুষারপাত হয়েছে কাশ্মীর, হিমাচল, উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন জায়গায়। বৃষ্টি হয়েছে বাকি উত্তর ভারতেই। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা জানান, “পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব কেটে যাওয়ায় উত্তর ভারতের আকাশ এখন পরিষ্কার। তুষার শীতল হাওয়া এখনই উত্তর ভারতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। সেই হাওয়াই মঙ্গলবার নাগাদ চলে আসবে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে।”

এর পাশাপাশি দক্ষিণ ভারতে ফের সক্রিয় হতে শুরু করেছে বর্ষা। যার জন্য দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলির ওপর থেকে জলীয় বাষ্পের উপস্থিতি একেবারে কমে যাবে। এই সব কিছুকে সঙ্গী করেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে দক্ষিণবঙ্গে।

জব্বর ঠান্ডা পড়বে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে। বিভিন্ন বিদেশি আবহাওয়ার সংস্থার তরফ থেকে জানা গিয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, দুই বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা এগারো ডিগ্রিতে নেমে যেতে পারে। কলকাতায় অতটা না নামলেও, ১৪ ডিগ্রির চৌহদ্দিতে পৌঁছে যেতে পারে তাপমাত্রা। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়তে চলেছে। রাজধানী রাঁচিতে দশের নীচে নেমে যেতে পারে পারদ।

আপাতত আগামী অন্তত দশ দিন তাপমাত্রায় বিশেষ পরিবর্তনেরও কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গোপসাগরে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি নিম্নচাপ তৈরি হলেও, তার গন্তব্য হতে পারে তামিলনাড়ু। সুতরাং দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই।

অতএব মিঠে রোদ পিঠে লাগিয়ে শীত উপভোগ করতে হলে অপেক্ষা আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here