winter

ওয়েবডেস্ক: যখন আসছিল না, তখন শীতের ব্যাপারে মানুষ সন্দিহান হয়ে উঠেছিল। কিন্তু যখন এল তখন সাধারণ মানুষের পুরো কাঁপুনি ধরিয়ে দিল। উত্তুরে হাওয়ার এক ধাক্কায় বিশাল পতন ঘটল পারদের। একেবারে ‘বাপি বাড়ি যা হাঁকিয়ে’ ইনিংস শুরু করল শীত।

মঙ্গলবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২১.৫ ডিগ্রি। কিন্তু ওই দিন সকাল থেকেই প্রবল বেগে উত্তুরে হাওয়া বইতে শুরু করায় বুধবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রায় যে ব্যাপক পতন ঘটতে পারে সেটা আন্দাজ করাই গিয়েছিল। হলও ঠিক তাই। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পারদ পড়ল পাঁচ ডিগ্রি । এ দিন সকালে আলিপুরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৬ ডিগ্রি। দমদমে তাপমাত্রা ছিল ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। স্বাভাবিকের থেকে যথাক্রমে এক এবং দুই ডিগ্রি কম।

পারদের রেকর্ড পতনই নয়, গত তিন বছরের মধ্যে নভেম্বরের শীতলতম দিনটিও দেখে ফেলেছে কলকাতা। শেষ বার ২০১৪ সালে এতটা নীচে নেমেছিল শহরের পারদ।

পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল ঠান্ডা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদে শৈত্যপ্রবাহ

কলকাতায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ ডিগ্রির ঘরে। কিন্তু উত্তুরে হাওয়ার ধাক্কায় এক লাফে এগারো-বারো ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে পশ্চিমাঞ্চলের তাপমাত্রা। বুধবার ভোরে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, শান্তিনিকেতনে তাপমাত্রা রেকর্ড হয় যথাক্রমে ১৩.৫, ১২.১ এবং ১১.৪ ডিগ্রি। এই সব তাপমাত্রাই স্বাভাবিকের থেকে চার ডিগ্রি করে কম। উল্লেখ্য, শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে পাঁচ ডিগ্রি নীচে নামলেই ওই পরিস্থিতিকে শৈত্যপ্রবাহ বলে।

তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি এক ডিগ্রির জন্য শৈত্যপ্রবাহ মিস করলেও নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদ শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে গিয়েছে। বুধবার কৃষ্ণনগরে ১২.৪ এবং বহরমপুরে ১৩.৫ ডিগ্রি তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। স্বাভাবিকের থেকে এই তাপমাত্রাগুলি পাঁচ ডিগ্রি করে কম।

পিছিয়ে নেই উপকূলবর্তী অঞ্চলও। দিঘা, ডায়মন্ডহারবার, কাঁথি এবং হলদিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রির ঘরে।

ঝাড়খণ্ডে প্রবল ঠান্ডার ইঙ্গিত, রাজ্যে আরও নামবে তাপমাত্রা

তবে এইখানেই শেষ নয়, আগামী কয়েক দিনে পারদ পতন জারি থাকবে। এমনই জানাচ্ছে আবহাওয়া দফতর। উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে শৈত্যপ্রবাহের কবলে সমগ্র উত্তর ভারত। সেখান থেকে বরফ শীতল ঠান্ডা হাওয়া ক্রমশ নেমে আসছে দক্ষিণে।

ইতিমধ্যে বৃহস্পতি-শুক্রবার নাগাদ রাঁচির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে। তা হলে পশ্চিমাঞ্চলও শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়ে যেতে পারে। কলকাতায় শৈত্যপ্রবাহের ইঙ্গিত না থাকলেও নভেম্বরের ঠান্ডার সাম্প্রতিক রেকর্ড কিন্তু ভেঙে দিতে পারে তিলোত্তমা।

এই ঠান্ডায় এখন স্বস্তির বার্তা, যে মশাদের দাপাদাপি এ বার একটু কমবে। ডেঙ্গুর ভয়ে সিঁটিয়ে থাকা মানুষজন এ বার খোলস ছেড়ে বেরোতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here