Iran Oil
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: ২২ এপ্রিল আমেরিকা ঘোষণা করেছিল, ইরানের থেকে যে সব দেশ তেল কিনবে আগামী ২ মে-র পর তাদের কোনও রকম সাহায্য করবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারত-সহ আরও সাতটি দেশের জন্য ওই নিষেধাজ্ঞা জারির পর কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ভারতবাসীকে আশ্বস্ত করেত একাধিক যুক্তির অবতারণা করেছিলেন। কিন্তু শেষমেষ আমেরিকার কাছে নতিস্বীকার করে ইরান থেকে অশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

গত বছরের নভেম্বর মাসে মার্কিন প্রশাসন এই নিষেধাজ্ঞা জারির পর ইরান থেকে তেল আমদানিকারি দেশগুলির অনুরোধে তা ১৮০ দিন পর্যন্ত শিথিল করেছিল। এবার সেই দিন শেষ হতে চলেছে। যার জেরে ২ মে-এর পর ইরান থেকে বিশ্বের যেসব দেশ অশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করবে তাদের আর কোনও রকম সাহায্য করবে না আমেরিকা বলে ঘোষণা করেন মার্কিন সচিব মাইক পম্পেও।

যদিও ভারতের তরফে দাবি করা হয়েছিল, ইরান থেকে অশোধিত তেলের আমদানি বন্ধ হলেও জোগানের বিকল্প রাস্তা আগে থেকেই তৈরি রয়েছে। গত মঙ্গলবার তেলমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান সঞ্জীব সিংহ জানিয়ে দেন, দেশের সংশোধনাগারগুলিতে জোগানের বিকল্প রাস্তা তৈরি রয়েছে। তবে এর পরেও ভারতের পিছু হঠার ফলে সেই বিকল্প রাস্তা বিকল হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ইরান থেকে জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশগুলির মধ্যে ভারত রয়েছে তৃতীয় স্থানে। প্রথম এবং দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইরাক ও সৌরি আরব। গত ২০১৭-১৮ অর্থবর্ষে ভারত ইরানের কাছ থেকে ১৮ দশমিক ৪ মিলিয়ান টন অপরিশোধিত তেল কিনেছে। অন্য দিকে চিনও ইরানের থেকে দেশের চাহিদার সিংহ ভাগ তেল আমদানি করে। যে কারণে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের সামনে সমূহ সমস্যা হাজির হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।

নয়াদিল্লি অবশ্য জানিয়েছে, আগামী মে মাসের ২ তারিখ আমেরিকার সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনায় বসবে ভারত সরকার। কিন্তু তত দিন ইরানের কাছ থেকে ভারত তেল কিনবে না বলেই কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here