ওয়েবডেস্ক: রিলায়েন্স জিও’র নাম নিয়ে চলছে গণজালিয়াতি। ওই সংস্থার নাম ভাঁড়িয়ে ভুয়ো সংস্থা মোবাইল টাওয়ার বসানোর নামে শিকারের নিশানা করছে সাধারণ মানুষকে। তার পর শিকার জালে উঠলেই প্রসেসিং ফি’য়ের নাম তার কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। সারা দেশেই ছড়িয়ে থাকা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে জালিয়াতির পরিমাণ লক্ষের ঘর ছাড়িয়ে পৌঁছে গিয়েছে কোটিতে!

ইন্টারনেটে গুগলে গিয়ে সার্চ করে মিলেছে এমন ভুয়ো সংস্থার হদিশ। যেগুলির সঙ্গে রিলায়ান্স জিও’র কোনো সম্পর্কই নেই। ওই ভুয়ো সংস্থা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে পড়ে থাকা অতিরিক্ত জমিতে মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্য আবেদন চাইছে। আবেদনকারীকে দেওয়া হচ্ছে মোটা টাকার টোপ। বলা হচ্ছে, মোবাইল টাওয়ার বসানোর জায়গা দিলে মাসিক ১৫-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে অগ্রিম হিসাবেও দেওয়া হচ্ছে লোভনীয় অফার। বলা হচ্ছে, নিজের অব্যবহৃত জমিতে মোবাইল টাওয়ার বসানোর আবেদনকারী অগ্রিম হিসাবে পেতে পারেন ১০-২৫ লক্ষ টাকা।

এখনও পর্যন্ত যা খবর, এই চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে প্রসেসিং ফি’য়ের নামে জমা করা টাকা খুইয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ওই ভুয়ো সংস্থার জালিয়াতির পরিমাণ কো‌টিতে গিয়ে ঠেকতে পারে। কারণ, ক্ষতিগ্রস্তদের সংখ্যা এতটাই বেশি। তাদের কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে ওই ভুয়ো সংস্থা।

খুব সংগঠিত ভাবেই চলছে এই জালিয়াতি। প্রথমে এসএমএসের মাধ্যমে বলা হচ্ছে, আপনার জমিতে রিলায়েন্স জিও মোবাইল টাওয়ার বসানোর জন্য আপনি লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন। শুধু তাই নয়, জাতীয় স্তরের সংবাদ মাধ্যমেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছে।

প্রতারণার ছক

একই সঙ্গে ইন্টারনেটে গুগল সার্চ করলেও মিলে যাচ্ছে এ ধরনের ভুয়ো ওয়েবসাইট। সেখানে গিয়ে শুধু মাত্র জিও টাওয়ার টাইপ করলেই বিজ্ঞাপনের আকারে সেই ওয়েবসাইটগুলি সামনে চলে আসছে।

গুগলে চলছে ভুয়ো বিজ্ঞাপন

জিও অবশ্য জানিয়েছে, এ ব্যাপারে তারা সাধারণ মানুষকে সচেতন করার একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমেই এ ধরনের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আবেদন জানানো হয়ে থাকে। একই সঙ্গে সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া রয়েছে। আবার সংবাদপত্রেও সচেতনতা মূলক বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় বলে রিলায়েন্স জিও দাবি করেছে।

জিও’র নিজস্ব বিজ্ঞপ্তি

পাশাপাশি সংস্থা জানায়, এ ধরনের ভুয়ো ওয়েবসাইট ব্লক করার জন্য যাবতীয় আইনি পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। যদিও এ ধরনের ওয়েবসাইটগুলোকে এখনও বহাল তবিয়তে দেখা যাচ্ছে গুগলে সার্চ করলেই।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here