ওয়েবডেস্ক: শহরের রাস্তায় অসংগঠিত হকারদের এক ছাতার তলায় আনতে পরিকল্পনা তৈরির কাজ চলছে সরকারি ভাবে। শীর্ষস্থানীয় পাইকারি বিক্রেতা মেট্রো ক্যাশ ও ক্যারি জানাচ্ছে, সরকারি পরিকল্পনাটিতেই সহায়তা করছে জার্মানির এই বহুজাতিক সংস্থা।

মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে বিশদ গবেষণা এবং খসড়া প্রস্তাব তৈরির জন্য একটি দল গঠন করেছে। সেখান থেকেই জানা গিয়েছে, এ দেশে রাস্তায় ব্যবসা করা হকারের সংখ্যা প্রায় এক কোটি।

সপ্তাহ দুয়েক আগেই ডিপার্টমেন্ট ফর প্রমোশন অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড ইন্টারনাল ট্রেড (ডিপিআইআইটি)-এর সঙ্গে বৈঠকে বসেন ভারতে মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক অরবিন্দ মেদিরাত্তা। তিনি বলেন, “ভারতের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ঠেলাগাড়ি নিয়ে যাঁরা পণ্য বিক্রি করেন, তাঁরা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে কাজ করেন না। প্রস্তাবটি সরকারের কাছ থেকে এসেছে এবং তারা চায় যে আমরা এই সেক্টরে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করি।”

মেদিরাত্তা বলেন, “নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ওজন ও পরিমাপের লাইসেন্স এবং গোমস্তা লাইসেন্স (একটি দোকান খুলতে বাধ্যতামূলক লাইসেন্স) অনুমোদনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ওই লাইসেন্সের মেয়াদ তাঁদের ইচ্ছানুযায়ী ১ থেকে ৫ বছর বা ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে।”

এ ব্যাপারে অবশ্য ডিপিআইআইটি-এর তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কি হাল ফিরবে হকারদের?

metro cash & carry kolkata

কলকাতার রাস্তায় বেশ কিছু হকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার  দীর্ঘ দিন এক জায়গায় অস্থায়ী বিক্রেতাদের ছাউনি দিচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার তরফেও তাঁদের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া শুরু হয়েছিল। তবে যাঁরা রাস্তায় ঘুরে বা ঠেলাগাড়িতে পণ্য বিক্রি করেন, তাঁদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বিশ্বের চতুর্থ বহত্তম খুচরো বিক্রেতা মেট্রো ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে দু-দশক আগে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত সরাসরি ক্রেতার কাছে তারা পণ্য বিক্রি করে না। স্বভাবতই সংস্থার কার্ড হোল্ডার, স্থানীয় খুচরো বিক্রেতা, হোটেল, ক্যাটারিং সংস্থার কাছেই পাইকারি দরে পণ্য বিক্রি করে থাকে।

[ আরও পড়ুন: এসবিআই ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করবেন? ]

এ বার সেই তালিকাতেও জুড়ে যেতে পারে রাস্তায় বসা হকাররাও। তবে সরকারি ওই পরিকল্পনায় শুধু মাত্র হকার নন, প্লাম্বার, কাঠ মিস্ত্রি, বিউটিশিয়ানদের মতো অসংগঠিত ক্ষেত্রের মানুষকেও নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here