ওয়েবডেস্ক: বুথ ফেরত সমীক্ষার সঙ্গেই সমানে পাল্লা দিয়ে চলেছে সপ্তদশ লোকসভা ভোটের ফলাফল। ভোটগণনা শুরু হওয়ার পর বেলা যত বেড়েছে, ততই যেন হুহু করে বেড়েছে বিজেপির এগিয়ে থাকা আসন সংখ্যা। সেই ফলেরই জোরালে প্রভাব ধরা পড়ল শেয়ার বাজারে।

এ দিন সকালে শেয়ার বাজারের ৩০ স্টকের সূচক সেনসেক্স ছুঁয়ে ফেলল বহু প্রত্যাশিত ৪০ হাজারের গণ্ডি। এর আগে ৩৯ হাজার টপকে গেলেও ৪০ হাজার যে এ বারের লোকসভা ভোটেই সেনসেক্স ছুঁয়ে ফেলবে তেমন একটা আভাস ছিল-ই। সেটাই ঘটল বৃহস্পতিবার।

এ দিন সেনসেক্স পাড়ি দেয় ৪০,১২৫ পয়েন্টে। যা সেনসেক্সের ইতিহাসে সর্বকালীন রেকর্ড। বাজার বন্ধের আগে খুচরো বিনিয়োগকারীরা টাকা তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে সেনসেক্স থিতু হয় ৩৮,৮১২ পয়েন্টে। অন্য দিকে ৫০ স্টকের সূচক নিফটিও এ দিন রেকর্ডের মুখোমুখি। ১২ হাজার পয়েন্টের চূড়ো ছুঁয়ে নিফটি এ দিন থমকায় ১১,৬৫৭ পয়েন্টে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে তথাকথিত মোদীনোমিক্সের খেল।

কী এই মোদীনোমিক্স?

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আবিষ্কৃত এ দেশের নতুন ইকনোমিক্স। দুইয়ে মিলে মোদীনোমিক্স। গুজরাত থেকেই এই বিশেষ নীতি গত পাঁচ বছর আগে দিল্লিতে নিয়ে এসেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দেশবাসীকে কোন দিকে নিয়ে চলেছে এই আর্থিক নীতির প্রয়োগ? তার কিছুটা হলেও নমুনা মিলল এ বারের লোকসভা ভোটের ফলাফল থেকেই। ইভিএমে নিজের মত দাখিল করার সময় নির্দিষ্ট ভাবে এই মোদীনোমিক্সের প্রভাব কতটা পড়েছে, তা তর্কের বিষয়। কিন্তু ফলাফলের সার্বিক চিত্র তো বলেই দিচ্ছে, মোদীর হাতেই দেশের দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকার প্রবণতাই অধিক মাত্রায় প্রতিফলিত হয়েছে এ বারের লোকসভা ভোটে।

এ দিন শেয়ার বাজার খোলার প্রথম ১০ মিনিটে ২.৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয় বলে জানিয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ। কিছুক্ষণের মধ্যেই অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এ দিন সেনসেক্স পাড়ি দেয় ৩৯,৮৯৩ পয়েন্টে। যা সেনসেক্সের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ে দিল। একই সঙ্গে ৪০ হাজার পয়েন্টকে এভারেস্টের চূড়া বলতেও ছাড়ছেন না বাজার বিশেষজ্ঞরা। বলতে দ্বিধা নেই, নেপথ্যে সেই মোদীনোমিক্স!

বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে মোদী সরকার ফিরছে, সেনসেক্স-নিফটি যেন থামতেই চাইছে না!

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here