mahul-1
Samir mahat
সমীর মাহাত

“শাল-মহুল-পিয়াল বন/নাচে উঠে হামদের মন”

এই লোক সঙ্গীত ঝুমুর গান অতি প্রচলিত। আবার “মহুল” নামের গানের দলও (ব্যান্ড) আছে। ‘মহুল বনির সেরেং’ নামের চলচ্চিত্র হয়েছে। এ ভাবে তালিকার শেষ নেই মহুলকে নিয়ে। মহুল মূলত জঙ্গলের গাছের ফুল।এই ফুলের নামেই গাছটি পরিচিত। জঙ্গল এলাকার এই গাছগুলি থেকে মহুল কুড়িয়ে গ্রামবাসীরা জোগাড় করে। রোদে শুকিয়ে পরে তা বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা সাশ্রয় করেন।

সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাচীনকালে অভাবের সময় মহুলকে সেদ্ধ করার পর ঢেঁকিতে কুটে গুড়ের মতো খাওয়া হতো। মহুলের ফলকে বলা হয় “কচড়া”। এই ফল ডাসা অবস্থায় এখনও রান্না করে খাওয়ার প্রচলন আছে। পাকা ফলের বীজের শাঁস থেকে তেল তৈরি হয়। ভেষজ তেল হিসেবে এখনো এই তেলের ব্যবহার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। শস্য তেল আবিষ্কারের আগে জঙ্গলবাসীর কাছে এই তেলই ছিল ব্যবহার যোগ্য।

এ কথা মাথায় রেখেই কবি ভবতোষ শতপথীর ঝুমুর গানে বলা হয়েছে,”মহুল সিঝা জনার গুঁড়ি নাঁঞখ কিছু ঘরে”। শুধু তাই নয়, আদিজনজাতি কুড়মি সম্প্রদায়ের বিবাহ অনুষ্ঠানে এই গাছের ডাল পুজো আবশ্যিক। এই গাছের ডাল ছাড়া কুড়মি সমাজে বিয়ে হয় না। বরের সঙ্গে বিবাহ সম্পন্নের আগে পাত্রীকে এই গাছ বা ডালের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়।

mahul

জঙ্গল মহলের সর্বত্রই মহুল গাছ দেখা যায়। ঝাড়গ্রাম জেলার সাপধরা অঞ্চলের পাথরনালা গ্রামের পাশে মৌরসির মহুল বন কয়েক’শ বিঘা বিস্তৃত। পাথরনালা গ্রামের প্রায় ২০-৩০টি আদিবাসী পরিবার এই মরশুমে মহুল কুড়িয়ে মোটা অর্থ উপার্জন করেন। এই সময় মহুলের দাম অল্প হলেও অসময়ে শুকিয়ে বিক্রি কেজি প্রতি ৫৫-৬০ টাকা পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ভিন রাজ্যের ব্যবসায়ীরা মহুল বাড়ি থেকে ক্রয় করে নিয়ে যান। এই মহুল মূলত চোলাই মদ তৈরির উপকরণ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

এ ব্যাপারে মানববিজ্ঞানী তথা নৃতত্ত্ববিদ ড. পশুপতিপ্রসাদ মাহাত বলেন, মহুল গাছের গুনাগুন অনেক। কৃষি সভ্যতায় তৈল আবিষ্কারের আগে জঙ্গলবাসী কচড়া তেল ভোজ্য হিসেবে ব্যবহার করত। বর্ষাকালে চাষের সময় গৃহপালিত পশু ও মানুষ ক্লান্তি দূর করত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here