খবর অনলাইন ডেস্ক : রঙিন শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ থাকে। তেমনই আছে লালশাকেও। সাধারণ ভাবে মা-ঠাকুমাদের কাছেই শোনা যায় একটি বড়ো গুণের কথা, তা হল লালশাক খেলে গায়ে রক্ত হয়। কথাটা মোটেই ভুল নয়। কারণ লালশাকে আছে প্রচুর আয়রন। দেখে নেওয়া যাক এর মধ্যে আর কী কী গুণাগুণ আছে। এটি খেলেই বা কী কী উপকার পাওয়া যায়।

প্রতি ১০০ গ্রাম লাল শাকে আছে

প্রোটিন ৫.৩৪ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৭৪ মিলিগ্রাম, স্নেহপদার্থ ০.১৪ মিলিগ্রাম, শর্করা ৪৯৬ মিলিগ্রাম, অ্যামাইনো অ্যাসিড, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, আঁশ জাতীয় উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, নানান ভিটামিন – ভিটামিন এ, ভিটামিন বি২, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, ক্যারোটিন, আয়রন ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ।

উপকারিতা

১। রক্তশূন্যতায় –

অনেকেই অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা বা রক্তশূন্যতায় ভোগেন। কারণ আয়রনের ঘাটতি। সে ক্ষেত্রে লালশাক খেলে শরীরে রক্ত তৈরি হয়। কারণ এতে আছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। ফলে লালশাক শরীরে লোহিত রক্ত কণিকা বা হিমোগ্লোবিন বাড়ায়।

২। মধুমেহ রোগে

এর পুষ্টিগুণ মধুমেহ রোগ বা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৩। দাঁত ও হাড়ে

অন্য শাকের তুলনায় লালশাকে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি। শরীরের জন্য যেমন দাঁত এবং হাঁড় গঠনে ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম অত্যন্ত দরকারি উপাদান। দাঁতের সুস্থতা বৃদ্ধিতে, হাঁড় শক্ত করতে সাহায্য করে।

৪। মায়েদের জন্য

গর্ভবতী মা এবং প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে লালশাক খুবই ভালো। কারণ এর ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য উপাদান মায়ের শরীর সুস্থ রাখে ও গর্ভজাত ও সদ্যোজাত শিশুর দৈনিক পুষ্টি ও ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে ও তাদের শরীর গঠন করে।

৫। দৃষ্টির জন্য  

প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি থাকে লালশাকে। চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করতে ও ভালো রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন এ রেটিনার কার্যক্ষমতা বাড়ায়। রাতকানা রোগ দূর করে ভিটামিন এ। তাই লালশাক খাওয়া উপকারী।

৬। রোগা হতে

ওজন বেশি থাকলে নিয়মিত লাল শাক খাওয়া ভালো। এতে ক্যালোরির পরিমাণ কম। তাই ওজন বৃদ্ধি হতে দেয় না। উলটে ওজন হ্রাস করে।

৭। হজমশক্তি বাড়াতে

লালশাকে থাকা ফাইবার বা আঁশজাতীয় পদার্থ হজমে সাহায্য করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

৮। ক্যানসারে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করে। লালশাকে থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এতে থাকে অ্যামাইনো অ্যাসিড, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন ই। এই উপাদানগুলি শরীরের একাধিক টক্সিক উপাদান দূর করে। তাতে ক্যানসারস কোষ জন্মানোর আশঙ্কা কম হয়।

৯। কিডনির জন্য  

কিডনির কাজকর্ম ভালো রাখতে এটি উপকারী। কিডনি পরিষ্কার রাখতে লালশাক খুব ভালো কাজ করে। রক্তে উপস্থিত একাধিক ক্ষতিকর উপাদান শরীর থেকে বের করে দেয়।

১০। চুলের জন্য

চুল পড়া কম করে। চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। চুলের বৃদ্ধিও তরান্বিত করে। পাশাপাশি চুলের গোড়া মজবুত করতে ও চুলে প্রয়োজনীয় খনিজ ও পুষ্টি যোগাতে সাহায্য করে লালশাক।

১১। হৃদরোগ ঠেকায়

লালশাক রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে পারে। পাশাপাশি এর বিটা ক্যারোটিন হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়। হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী করতেও লালশাক ভালো।

পড়ুন – ১৪টি রোগে মহৌষধি উচ্ছে

আরও পড়ুন – কেন খাবেন মোচা? জেনে নিন ১৬টি উপকারিতা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন