কষা আমলকী চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয়? রইল ৭টি উপায়

0
amla
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: শরীর সতেজ টানটান আর উজ্জ্বল রাখতে আমলকী খাওয়া খুবই ভালো একটি অভ্যাস। প্রতিদিন একটি করে কাঁচা আমলকী চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারেন। আমলকী খাবেন কেন? নিয়মিত আমলকী খেলে কী কী উপকার হয়? সেই নিয়ে এর আগেই আলোচনা করা হয়েছে। তাই সে ব্যাপারে কথা না বাড়িয়ে বরং কাঁচা চিবিয়ে খাওয়া ছাড়া আর কী ভাবে আমলকী খাওয়া যায় সেই ব্যাপারে কয়েকটি টিপস দেওয়া যাক।

আমলকীর যাবতীয় গুনাগুণ ভরপুর পেতে হলে সাধারণ ভাবে কাঁচা চিবিয়ে খাওয়াই সব থেকে ভালো। কিন্তু আমলকীর সাংঘাতিক কষ আর টক ভাবের জন্য অনেকেই চাইলেও চিবিয়ে খেতে পারেন না। তাঁদের জন্য রয়েছে আরও কয়েকটি অন্য উপায়ও। দেখে নেওয়া যাক সেই পদ্ধতিগুলি ঠিক কী?

১। রস করে-

খাওয়া যেতে পারে আমলকীর রস। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য ফলের মতো এটিও জুসার বা ব্লেন্ডার দিয়ে জুস বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তার জন্য আগে আমলকীর ভেতরের বীজটি বের করে নিতে হবে। তাই আগে আমলকী ভালো করে ধুয়ে নিয়ে কুচি করে কেটে নিতে হবে। তার পর সেই টুকরোগুলি ব্লেন্ডার বা জুসারের মধ্যে দিয়ে সামান্য পরিমাণ জল দিতে হবে। এ বার মেশিন অন করতে হবে। রস হয়ে গেলে ছেঁকে নিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

২। মধু দিয়ে –

আমলকীর রস করে নিয়ে সেই রস খেতেও অনেকেরই অতিরিক্ত টক লাগে। তাই রসের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে স্বাদ বদলের জন্য সামান্য পরিমাণ মধু। মধু শরীরের জন্য উপকারী। তাই আমলকীর সঙ্গে মধু দিলে আরও একটি উপকারী জিনিস শরীরে যায়। এতে স্বাদেরও বদল হয়। উপকারেও লাগে।

৩। সৈন্ধব লবণ দিয়ে –

অনেকেই মিষ্টি খেতে পছন্দ করেন না। সে ক্ষেত্রে স্বাদটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতে খাওয়া যেতে পারে সামান্য নুন দিয়ে। তবে তা সাধারণ সাদা নুন না হয়ে যদি সৈন্ধব লবণ হয় তা হলে বেশি ভালো হয়। কারণ এই নুন শরীরের ক্ষতি করে না। আবার রক্তচাপের সমস্যা যাঁদের আছে তাঁদের জন্যও কোনো সমস্যা তৈরি করে না। এ ছাড়াও বিট নুন দিয়েও খাওয়া যায় এই রস।

৪। বড়ি বানিয়ে –

এই তো গেল রস বানিয়ে খাওয়ার কয়েকটি পদ্ধতি। রস ছাড়াও খাওয়া যায় গুলি বা বড়ি বানিয়ে। তার জন্য আমলকীকে আগে ছেঁচে বা কুরে নিতে হবে। তার পর তা সামান্য জল দিয়ে সেদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ আমলকী ভালো করে চটকে তার মধ্যে বিট নুন বা সৈন্ধব লবণ দিয়ে ভালো করে মেখে নিতে হবে। এ বার গোল গোল ছোটো ছোটো বলের মতো পাকিয়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। ব্যস, তৈরি আমলকীর বল। নিয়মিত একটি দু’টি করে বল দুপুরে খাবার পর খেয়ে ফেলুন। দেখবেন খেতেও ভালো লাগবে আর হজম শক্তিও বাড়বে। সঙ্গে মিলবে অন্যান্য উপকারও।

৫। আচার বানিয়ে –

হালকা সেদ্ধ করা গোটা আমলকীতে নুনের রস মেখে ভালো করে রোদে দিয়ে অল্প শুকিয়ে নিয়ে তৈরি করে রাখা যায় আমলকীর আচার। এই আচার ভাতের সঙ্গেও খাওয়া যেতে পারে।

৬। আমলকি চূর্ণ –

প্রথমে গোটা আমলকী টুকরো করে কেটে রোদে ভালো করে খটখটে করে শুকিয়ে নিতে হবে। পরে তা মিক্সিতে দিয়ে গুঁড়ো করে নিতে হবে। গুঁড়োটা একটি কাচের বয়মে রাখতে পারলে ভালো হয়। এই গুঁড়ো জলের সঙ্গে খেতে হয়। প্রয়োজনে স্বাদ আনতে মধু মেশানো যেতে পারে, মাখনও মেশানো যেতে পারে।

৭। আমলকির কোয়া –

কোয়া কোয়া করে আমলকী কেটে সামান্য ভাপিয়ে নিয়ে তাতে সৈন্ধব লবণ বা বিট নুন, পাতি লেবুর রস, আদার কুচি, সামান্য পরিমাণ সরষের তেল দিয়ে মেখে চড়া রোদে দিয়ে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তার পর তা বারে বারে খাওয়া যেতে পারে। তবে কেউ চাইলে এই সরষের তেল না-ও দিতে পারেন।

তবে সব ক্ষেত্রেই কিন্তু সংগ্রহ করার সময় পরিষ্কার কাচের বয়ম ব্যবহার করাই ভালো।

পড়তে পারেন – কাঁচা আমলকী কেন খাবেন? ৩২টি উপকারিতা

শীতের শুরুতে আপনাকে সুস্থ রাখবে আমলকী, জেনে নিন এই ৫টি গুণাগুণ

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.