jaggery

ওয়েবডেস্ক: আপনিই বলুন দেখি, বাঙালির শীতবিলাস থেকে গুড়কে কি বাদ দেওয়া যায়?

উত্তরটা না-ই হবে! মিষ্টি খেতে তেমন পছন্দ করেন না যাঁরা, তাঁরাও শীতের মরশুমে নতুন গুড়ের পিঠে বা পায়েসের স্বাদ থেকে নিজেদের বড়ো একটা বঞ্চিত রাখতে চান না।

যদিও সেই স্বাদে ইতিমধ্যেই ঘটে গিয়েছে বদলের পালা। অন্য অনেক কিছুর মতো গুড়ও পরিণত হয়েছে বিলাসিতার জিনিসে। কেন না, হালফিলে খেজুর গাছ থেকে আর পর্যাপ্ত পরিমাণে রস পাওয়া যায় না। পেলেও তা বাজারের বিশাল চাহিদার পক্ষে যথেষ্ট নয়। ফলে, খাঁটি গুড়ের বদলে এখন বাজারে থরে-বিথরে সাজানো থাকে ভেজাল গুড়।

ও-দিকে আপনি তো আর কম পয়সা দিয়ে সেই গুড় কিনছেন না! খাঁটি গুড়ের যা দাম হতে পারে, পকেট থেকে বের করছেন ঠিক ততটাই! ফলে, এবার সতর্ক হোন! জেনে নিন, যে গুড় আপনি কিনছেন এই শীতের মরসুমে বাজার থেকে, তা সত্যিই খাঁটি কি না!

বলছেন, বুঝবেন কী ভাবে?

গুড় কেনার আগে দোকানদারের কাছ থেকে খুব সামান্য পরিমাণ নিয়ে মুখে ফেলুন! তার পর ঝালিয়ে নিন খাঁটি গুড়ের এই পাঁচ লক্ষণ! তাহলেই হবে!

১. নোনতা স্বাদ

jaggery

খেয়াল করে দেখবেন, আজকাল অনেক গুড়েই খুব সামান্য হলেও একটা নোনতা স্বাদ পাওয়া যায়। তার মানেই ওই গুড়ে খনিজ লবণের ভেজাল মেশানো হয়েছে। এবার গুড় যত পুরনো হবে, ওই নোনতা স্বাদও তত বেশি হবে! এর থেকেই বুঝতে পারবেন, গুড়টা টাটকা কি না!

২. তিক্ত স্বাদ

jaggery

গুড়ে যদি সামান্য হলেও তিতকুটে ভাব থাকে, তাহলে বুঝবেন ওটার মধ্যে কিছু একটা মিশিয়ে ঘনত্ব বাড়ানো হয়েছে! অর্থাৎ, গুড়টা নির্যস ভেজাল!

৩. দানা ওঠা

jaggery

এই লক্ষণটা একেবারেই ঝোলা গুড় পরীক্ষার জন্য। খেয়াল করে দেখুন, হালফিলের অনেক ঝোলা গুড়-ই দানা বেঁধে থাকে। তার মানেই হচ্ছে, কিছু একটা মিশিয়ে গুড়ে মিষ্টতা আনা হয়েছে। তা না হলে গুড় দানা বাঁধত না। এ ভাবে দানার উপস্থিতি থেকে যেমন ঝোলা গুড়ে ভেজালের ব্যাপারটা বোঝা যায়, তেমনই আর কী স্পষ্ট হয়? খাঁটি ঝোলা গুড় হবে একেবারে মসৃণ, ঠিক যেমনটা দেখতে পাচ্ছেন ছবিতে।

৪. গুড়ের রং

jaggery

বাজারে গেলেই দেখবেন, একেক দোকানে গুড়ের রং একেক রকম! কোনোটা হালকা খয়েরি, কোনোটা একটু লালচে, কোনোটা বা আবার কমলা রঙা! খেয়াল রাখুন, খাঁটি গুড় হবে সব সময় গাঢ় খয়েরি রঙের। গুড়ের রং যত হালকা হবে, বুঝতে হবে ওর মধ্যে কেমিক্যাল কিছু ভেজাল হিসাবে মেশানো হয়েছে!

৫. গুড়ের ঘনত্ব

jaggery

চেষ্টা করুন, শক্ত গুড় কেনার! ইটের মতো শক্ত গুড় এটাই ইঙ্গিত করে যে খেজুর রস জ্বাল দেওয়ার সময় তাতে কিছু মেশানো হয়নি। হলে, গুড় নরম হয়ে যেত!

এ ছাড়া আরেকটা ব্যাপার খেয়াল রাখা জরুরি! অনেক অসাধু বিক্রেতা গুড়ে চকের গুঁড়ো মিশিয়ে দেন। এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তবে, গুড় কেনার সময় এটা আপনি পরীক্ষা করে দেখতে পারবেন না। তার জন্য গুড় নিয়ে আসতে হবে বাড়িতে। তা না হয় নিয়ে এলেনও, সামান্য পরিমাণেই! তার পর?

jaggery

এবার এক টুকরো গুড় একটা বাটি বা গেলাস ভর্তি জলে ফেলে দিন। কিছুক্ষণ পর স্বাভাবিক নিয়মেই গুড়টা গলে গলে জলে মিশে যাবে। এবার যদি দেখেন জলের উপরে সাদা কিছু ভেসে উঠেছে, সে ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত হতে পারেন যে গুড়টায় চকের গুঁড়ো মেশানো রয়েছে। না হলে গুড় সুন্দর ভাবে মিশে যাবে জলে, যেমনটা ছবিতে দেখছেন!

এই শেষের পরীক্ষাটায় আপনার লাভ? মানছি, অর্থদণ্ডটা আটকানো যাবে না। কিন্তু, স্বাস্থ্যটা তো বাঁচবে। পাশাপাশি, এটাও বুঝে যাবেন যে হাসি-হাসি মুখে ওই দোকানদার ভেজাল বিক্রি করছে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here