দেবপ্রিয়া মুখার্জি:

‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো’। বাংলা নববর্ষ আমাদের দরজায় টোকা মারছে। আবার উৎসব। আবার হই-হুল্লোড়,  আনন্দ করার সময়। আবার প্ল্যানিং করার সময়। নববর্ষের দিন নতুন জামা পরে বন্ধু-বান্ধব, পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বেরিয়ে পড়ার মজাই আলাদা। ওই দিন বাড়িতে রান্না বন্ধ। খাওয়া-দাওয়া হবে বাইরে,  ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে। কিন্তু কোথায় যাবেন? কোন রেস্টুরেন্টে গেলে মনের মতো খাবার দিয়ে পেটপুজোটা জমিয়ে করতে পারবেন? আপনাদের এই সমস্যার সমাধান করতেই হাজির হয়েছে খবর অনলাইন।

নববর্ষের দিনে বাঙালি খাবারকেই প্রেফার করেন অগণিত বাঙালি। তবে আপনি কি জানেন, এমন অনেক বাঙালি পদ রয়েছে যেগুলোর উৎস আসলে বাংলায় নয়? এই যেমন শুক্তো। বাংলার ঘরে ঘরে আজ এই পদ প্রচলিত থাকলেও এটি আসলে একটি পর্তুগিজ খাবার। পর্তুগিজদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রথমে গোয়াতে শুক্তোর প্রচলন হয়। সেখান থেকে পূর্ব বাংলা হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে এই পদ। আর আজ এটি বাঙালির একটি অতি প্রিয় খাবার। এমনকি ভাত-ডালের উৎপত্তিও বাংলায় নয়। এটির উৎপত্তি নেপালে। তার পর নর্থ ইন্ডিয়া হয়ে বাংলায় প্রবেশ। তবে যা-ই হোক না কেন, এই পদগুলিকেই আজ আমরা আপন করে নিয়েছি এবং এগুলিকেই বাঙালি খাবার হিসেবে মেনে নিয়েছি। তাই আর দেরি না করে চলুন দেখি, পয়লা বৈশাখ কোন কোন বাঙালি রেস্টুরেন্টে ঢুঁ মারা যেতে পারে।

আপনার বাজেট যদি একটু কম হয় তা হলে আপনার জন্য পারফেক্ট ডেস্টিনেশন হল ‘ভজহরি মান্না’। কলকাতার গড়িয়াহাট, হাতিবাগান, সল্টলেক – অনেক জায়গাতেই এর আউটলেট রয়েছে। এখানে পাবেন ফিশ, চিকেন, মটন, প্রন, ক্র্যাবের একাধিক প্রিপারেশন। নানা ধরনের নিরামিষ পদও রয়েছে। সঙ্গে ডেসার্টে পাবেন আম, আনারস, জলপাই, টম্যাটো ইত্যাদির চাটনি, মিষ্টি দই, আম দই, সরভাজা, মালপোয়া, রাবড়ি, নতুন গুড়ের আইসক্রিম থেকে শুরু করে আরও নানা ধরনের জিভে জল আনা আইটেম। দু’জনের জন্য এখানে খরচ ৫৫০-৬০০ টাকা।

তবে আপনার বাজেট যদি একটু বেশি হয় তা হলে আপনি মাথাপিছু ৯৯৫ টাকা খরচ করলেই পেয়ে যাবেন বুফেতে খাওয়ার সুযোগ। আর এই সুযোগ হাতছাড়া না করতে চাইলে আপনাকে চলে যেতে হবে ‘ওহ! ক্যালকাটা’ রেস্টুরেন্টে। নববর্ষ উপলক্ষে এখানে শুরু হচ্ছে স্পেশাল বুফে ‘বৈশাখী ব্যঞ্জন’। এই স্পেশাল বুফে মেনুতে রয়েছে চিতল মাছের মুইঠ্যা, চিংড়ি মাছের মালাইকারি, কষা মুরগি, বরিশালের সবজি পোলাও, হিং-এর কচুরি, বাদশাহি ছোলার ডাল, পটলের দোলমা থেকে শুরু করে একাধিক সুস্বাদু বাঙালি খাবার। ডেসার্টে রয়েছে মালপোয়া, মিষ্টি দই, ম্যাঙ্গো ম্যুস এবং আরও অনেক কিছু।

তা হলে আর দেরি কীসের? বাজেট বুঝে নিজেদের গন্তব্যস্থলটা ফাইনাল করেই ফেলুন। নববর্ষের কিন্তু আর বেশি দেরি নেই। খবর অনলাইনের পাঠক-পাঠিকাদের জানাই শুভ নববর্ষ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here