ওয়েবডেস্ক: অতীতের স্মৃতি রোমন্থন, তা-ও চেখে দেখে! কলকাতাকে এ বার এমনই এক অভিনব স্বাদের সফরে নিয়ে এল ৬, বালিগঞ্জ প্লেস। আয়োজন করল খেতে খেতে ৪০০ বছর পিছিয়ে যাওয়ার উৎসবের। যার প্রতিটি পদেই অব্যর্থ ভাবে মিশে রয়েছে কলকাতার সাবেক হেঁশেলের মন্ত্রগুপ্তি।

6 ballygunge place

১৩টি মনধাঁধানো এবং রসনামাতানো বিস্ময়কর পদের সুলুক যে রেস্তোরাঁর হাতে তুলে দিয়েছেন সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের বর্তমান প্রজন্ম! তাই নিয়েই ২ ফেব্রুয়ারি থেকে রেস্তোরাঁয় শুরু হয়েছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী খাদ্য উৎসব।

কেন এই উৎসব অনন্য, তা জানতে গেলে চোখ রাখতে হবে পদতালিকায়। কেন না, বিশেষ এই ১৩টি পদ এত দিন সীমিত ছিল কেবল রায়চৌধুরী পরিবারের পাতেই। এই প্রথম সাধারণের পাতেও ধরা দিল জমিদারবাড়ির সেই রসনাবিলাস।

দক্ষিণা সমেত একবার তাই চোখ রাখা যাক উৎসবের খাদ্যতালিকায়:

মিষ্টি কেশরী ভাত: ২৫০ টাকা
মিষ্টি ডাল: ১২৫ টাকা
পালং দিয়ে মুগ ডাল: ১২৫ টাকা
বাঁধাকপির কিরণ কোফতা: ১৮০ টাকা
ছানার মহারানি: ২০০ টাকা
সাবর্ণ দামোদর ভোগ: ২৫০ টাকা
কাবলি ছোলার চাটনি: ৮৫ টাকা
আম নারকেল চাটনি: ৮৫ টাকা
খেজুর রসের পায়েস: ৯০ টাকা
সাবর্ণ প্রভাসিনী হালুয়া: ৯০ টাকা
ক্ষীর পিঠা: ১২০ টাকা
সাবর্ণ প্রাণমোহিনী: ১২০ টাকা
নিরামিষ পাঁঠার মাংস: ৪৪০ টাকা
(কর অতিরিক্ত)

তবে শুধুই ৬, বালিগঞ্জ প্লেস নয়, সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার খবর অনলাইন-এর পাঠক-পাঠিকাদের জন্যও দিয়েছেন মিষ্টিমুখের হদিশ। দেখে নিন, কী ভাবে বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন ৪০০ বছর পুরোনো কলকাতার এই বিশেষ পদটি।

সাবর্ণ প্রভাসিনী হালুয়া:

6 ballygunge place

উপকরণ: রাঙা আলু সেদ্ধ চটকানো- ২ কাপ, ছানা চটকানো- ১ কাপ, চিনি- ১ কাপ, দুধ- ১ কাপ, তেজপাতা- ৫টা, এলাচ গুঁড়ো- ১ চা-চামচ, ঘি- ২ টেবিল-চামচ।

প্রণালী: কড়ায় ঘি গরম করে, আঁচ কমিয়ে তেজপাতা ফোড়ন দিন। এতে ছানা ও আলু মেশান। কাঠের হাতা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। ৩ মিনিট পর এতে দুধ, চিনি ও এলাচ গুঁড়ো দিয়ে অনবরত নাড়তে থাকুন। ঘন হলে নামিয়ে, ইচ্ছা মতো আকারে কেটে, ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।

সাবর্ণ পরিবারের স্বাদরহস্য উদ্ধারের জন্য যদিও বাকি পদগুলো চেখে দেখা ছাড়া উপায় নেই। তার জন্য না হয় ৬, বালিগঞ্জ প্লেস-এর দ্বারস্থ হওয়া যাক। প্রতি দিন বেলা সাড়ে বারোটা থেকে শুরু হচ্ছে উৎসব। চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন