sabarna food festival

কলকাতা: বাঙালি পেটুক না খেতে ভালোবাসে? এ প্রশ্নের উত্তর সহজেই মিলত আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও বাঙালির হেঁসেলগুলোতে ঢুঁ মারলে। প্রতিটি রান্নাঘর যেন একটা কেমেস্ট্রি ল্যাব। সেই ল্যাবে বসে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে যেতেন ওই ঘরটির ‘মালকিন’রা। নানা রেসিপি। পুরনো রেসিপিগুলিকে পরীক্ষা করে দেখা, তাতে নতুন উপাদান মিশিয়ে স্বাদে অন্য মাত্রা আনা—এ সব চলত নিয়মিত।

কিন্তু সময় বদলেছে। বাঙালি জীবনে বেড়েছে ব্যস্ততা। জীবনযাপনের রসদ জোগাড় করতেই বাঙালি হিমসিম। সময় কোথায় রান্নাঘরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো। তবু জিভটা আছে। স্বাদ বদলের মনটা এখন ঢু মারে সেই রেস্তোঁরাগুলোতে যেখানে পাওয়া যায় বাঙালির নানা পদ। তেমনই কিছু ৪০০ বছরের পুরনো রেসিপি নিয়ে হাজির ৬ বালিগঞ্জ প্লেস। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার শহরের এই নামী রেস্তোঁরাটিতে চলছে সাবর্ণ রায়চৌধুরী ফুড ফেস্টিভ্যাল। কলকাতা অন্যতম আদি বনেদি পরিবারের হেঁশেল থেকে বের করে আনা ঐতিহাসিক খাবারদাবার হাজির করছে আপনার প্লেটে। ১৪টি জিভে জল আনা রেসিপি স্বাদ নিতে একবার ঢুঁ মারতেই মারেন ৬ বালিগঞ্জ প্লেসে।

শেফ সুশান্ত সেনগুপ্ত জানালে,‘‘গত বছরও সাবর্ণদের নিজস্ব রেসিপি নিয়ে আমরা এই ফুড ফেস্টিভ্যাল করেছিলাম। বেশ সাড়াও মিলেছিল। সাবর্ণদের উমা ভোগ, গাজরের পুষ্পান্ন, নিরামিষ পাঁঠার মাংস, কিরণ পাতুরির স্বাদে লেগে থাকবে ইতিহাসের ছোঁয়া।’’

সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবার পরিষদের, মুখপাত্র দেবর্ষি রায়চৌধুরী জানালেন,‘‘ ৪০০ বছরের পুরনো রেসিপি আমরা সংগ্রহ করছি, কিছু রেসিপি গত ২০০ পর আর রান্না হয়নি। সে রকমই ১৪টি পদ রাখা হয়েছে এই ফুড ফেস্টিভ্যালে।’’ আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ বালিগঞ্জ প্লেসের তিনটি আউটলেটে চলবে এই ফুড ফ্যাস্টিভ্যাল।

এ ছাড়াও ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে সাবর্ণ সংগ্রহশালার উদ্যোগে বড়িষায় শুরু হচ্ছে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক ইতিহাস উৎসব। এই প্রদর্শনীতে থাকবে সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের নানা ঐতিহাসিক সামগ্রী। এ বারের উৎসবের থিম দেশ জাপান। আপনি যদি ইতিহাস ভালোবাসেন চলে আসতে পারে এই প্রদর্শনীতে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here