last years idol
গত বারের গণেশপ্রতিমা। নিজস্ব চিত্র।

ওয়েবডেস্ক: দমদম পূর্ব সিঁথি বাউল বেকারির কাছে একটা রোয়াকে রোজই আড্ডা মারেন চার বন্ধু। এঁদের মধ্যে কেউ চাকরি করেন তো কেউ ব্যবসা। কিন্তু রোজ রাতে আড্ডার রুটিনটি থাকে অক্ষত। চার বন্ধু গল্পগুজব করে বাড়ি ফেরেন।

হঠাৎ এক বন্ধুর মাথায় এল গণেশপুজো করার কথা। সালটা ২০১৪। কেন এই ভাবনা? তাঁর কথায়, “আমরা চার বন্ধু তো রোজ আড্ডা মারি। হাসি-গল্প-ঠাট্টা-তামাশায় সময় কাটে। কিন্তু আমাদের বাড়ির লোকেরা কী পায়? ঠিক করলাম, স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সবাই মিলে কিছু একটা করতে হবে। কুড়ি দিন পরেই ছিল গণেশপুজো। স্থির হল, চার বন্ধু মিলে করব গণেশপুজো। তাতে যোগ দেবে বাড়ির সবাই।”

চার বন্ধু নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে শুরু করলেন গণেশপুজো। প্রথম বছরেই চমক। মূর্তি কিনে এনে প্যান্ডেলে রেখে সবাই বাড়ি ফিরে গেলেন। রাতে খেয়েদেয়ে প্যান্ডেলে ফিরে এসে সবাই হতবাক। দেখেন, গণেশ মূর্তির পায়ের কাছে চুপটি করে বসে আছে একটি জ্যান্ত ইঁদুর। এই দৃশ্য দেখে সে দিনই সিদ্ধান্ত হল, প্রতিবারই ওঁরা গণেশপুজো করবেন।

এ বার এই পুজো পাঁচ বছরে পড়ল। পুজোর বাজেট ৫০ হাজার টাকা। জনসাধারণের কাছ থেকে কোনো চাঁদা তোলা হয় না। বন্ধুরা নিজেরা ভাগ করে পুজোর খরচ বহন করেন। পুজোর প্রথম দিন ভোগ বিতরণ করা হয়। দ্বিতীয় দিন পাড়ার শ’ তিনেক বাসিন্দাকে নিরামিষ আহার খাওয়ানো হয়।

চার বন্ধুর এই গণেশপুজোয় মেতে ওঠে গোটা পাড়া।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন