lord ganesha
বিনায়ক গজানন। ছবি সৌজন্যে পত্রিকা.কম।

ওয়েবডেস্ক: বিষ্ণুর অবতার, মহামায়ার অবতার সম্পর্কে আমরা কম বেশি কথা সকলেই জানি। কিন্তু গণেশের অবতার সম্পর্কে তেমন ভাবে খুব একটা খোঁজ রাখি না। শুধুমাত্র গণেশের বিভিন্ন ভঙ্গিমার মোহেই আমরা আচ্ছন্ন আর আনন্দিত থাকি। আজ জেনে নেব গণেশের অবতার সম্পর্কে দু’ চার কথা।

গণেশ বিষয়ক দুই উপপুরাণ আর গণপত্য সম্প্রদায়ের ধর্মগ্রন্থ অনুযায়ী সব মিলিয়ে মোট ১২টি অবতারের কথা উল্লেখ আছে। গণেশপুরাণ আর মৌদগল্যপুরাণ অনুযায়ী যথাক্রমে চারটি আর আটটি অবতার আছে গণপতির।

গণেশ পুরাণের বর্ণনা থেকে জানা গিয়েছে গণেশের যে সব অবতারের কথা তাঁরা হলেন –

মহোৎকট বিনায়ক – দশ হাতের এই বিনায়কের বাহন হন হাতি না হলে সিংহ। গায়ের রঙ লাল। ইনি ধূম্রাক্ষ আর নরান্তক এবং দেবান্তক অসুর বধ করেন।

ময়ূরেশ্বর বিনায়ক – ছয় হাতের এই বিনায়কের গায়ের রঙ সাদা। সিন্ধু অসুরকে বধের জন্য এই অবতারত্ব।

গজানন বিনায়ক – এই অবতারে হাতের সংখ্যা চার, গায়ের রঙ লাল। সিন্দুর দৈত্যবধের জন্য গণেশ এই অবতার রূপ গ্রহণ করেন।

ধূম্রকেতু বিনায়ক – গায়ের রঙ ধূম্রবর্ণ, দুই বা চারটি হাত, বাহন নীল ঘোড়া। এই অবতার কল্পনা করা হয় কলকি অবতারের অনুসরণে। ইনি কলি যুগের শেষে নাকি অবতার রূপ গ্রহণ করবেন এবং বহু অসুর দমন করবেন।

মৌদগল্যপুরাণ পুরাণ মতে আটটি অবতারের বিবরণ দেখে নেওয়া যাক –

বক্রতুণ্ড – এই অবতারের বাহন সিংহ। নিধন করেছেন মাৎসর্যাসুর (অর্থাৎ ঈর্ষা)।

একদন্ত – এঁর বাহন মুষিক অর্থাৎ ইঁদুর। উদ্দেশ্য মদাসুর (অর্থাৎ অহং) বধ।

মহোদর – এঁর বাহনও ইঁদুর। অবতারের উদ্দেশ্য মোহাসুর (অর্থাৎ সংশয়) বধ করা।

গজানন – লোভাসুর (অর্থাৎ লোভ) বধ করেন ইনি।

লম্বোদর – ইনিও মুষিক বাহনে বিরাজ করেন। উদ্দেশ্য ক্রোধাসুর (অর্থাৎ রাগ) বধ।

বিকট – এঁর বাহন ময়ূর। কামাসুর (অর্থাৎ কামনাবাসনা) বধের লক্ষ্যে অবতাররূপ গ্রহণ করেছিলেন।

বিঘ্নরাজ – মমাসুর (অর্থাৎ অহংকার) বধ করেন বিঘ্নরাজ।

ধূম্রবর্ণ – এঁর বাহন অশ্ব অর্থাৎ ঘোড়া। ইনি অভিমানাসুর (অর্থাৎ গরিমা) বধ করেন।

সুতরাং অসুরদের নামানুসারে যা দেখা গেল মৌদগল্যপুরাণ অনুযায়ী অষ্ট বিনায়ক অবতারের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মধ্যে বিরাজমান খারাপ বা কু প্রকৃতিগুলির বিনাশসাধন। কিন্তু সেই অসুর যদি বধ হয়েও থাকে মানুষের মনের কুঅভ্যাসগুলি কিন্তু আজও বধ হয়নি। আর এটাই সমাজের জন্য সব থেকে বেশি দুশ্চিন্তার বিষয়। আসুন গণেশ চতুর্থীর শুভ মুহূর্তে গণপতির নামে শপথ নিয়ে সমাজকে কু-মুক্ত করতে নিজেদের সু-এ পরিবর্তন করি আর কু-কে বধ করি।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন