girijatmaj vinayak
গিরিজাত্মজ বিনায়ক। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

ওয়েবডেস্ক: ক্যালেন্ডার থেকে শোপিস, সবেতেই আজকাল গণেশের বিভিন্ন ভঙ্গিমার প্রতিরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়। জানেন কি এই বিভিন্ন ভঙ্গির অষ্টবিনায়কের বিশাল বিশাল মন্দিরও রয়েছে। সেই মন্দিরগুলির অবস্থান হল গণেশপূজার জন্য বিশ্ববিখ্যাত সেই বাণিজ্যনগরীর রাজ্যেই। অর্থাৎ মহারাষ্ট্রে।

দেশবিদেশের মানুষের কাছে এই মন্দিরগুলির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এগুলি রয়েছে মূলত পুনে, রায়গড়, আহমেদনগরে। তা ছাড়াও মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ অঞ্চলেও আলাদা অষ্টবিনায়ক মন্দির রয়েছে। এই মূর্তিগুলির প্রত্যেকটি স্বয়ম্ভু। আসুন গণেশ চতুর্থীর প্রাক্‌কালে জেনে নেওয়া যাক সেই অষ্টবিনায়ক মন্দিরের বিষয়ে কিছু কথা।

মোরগাঁও-এ ‘মোরেশ্বর গণপতি’, রঞ্জনগাঁওয়ে ‘মহাগণপতি’, থেউরে ‘চিন্তামণি’, লেনাদ্রিতে ‘গিরিজাত্মজ’, ওজারে ‘বিঘ্নেশ্বর’, সিদ্ধিটেকে ‘সিদ্ধি বিনায়ক’, পালিতে ‘বালেশ্বর’, মাহাড়ে ‘বরদ বিনায়ক’।

মোরেশ্বর গণপতি মন্দির, মোরগাঁও
moreshwar temple
মোরেশ্বর মন্দির, মোরগাঁও। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

ভক্তরা মনে করেন অষ্টবিনায়ক মন্দির দর্শনে বেরিয়ে ‘মোরেশ্বর গণপতি’ বা ‘ময়ূরেশ্বর গণপতি’র মন্দির দর্শন না করলে গণপতি পরিক্রমা অসম্পূর্ণ। এই স্থানের ব্যাপারে গণেশপুরাণে বলা আছে, ময়ূরে চড়ে এসে সিন্ধু নামের এক সাংঘাতিক শক্তিমান দৈত্যকে ঠিক এই স্থানেই পরাজিত করেছিলেন তিনি। তাই এখানে তিনি ময়ূরেশ্বর বা মোরেশ্বর নামে পূজিত। মন্দিরে উঠতে পেরোতে হয় ১১টি ধাপ, তার পর বাদ্যঘর, রয়েছে ছয় ফুটের বাহন ইঁদুর। মোরগাঁও-এ কর্মা নদীর ধারে অবস্থিত এই মোরেশ্বর মন্দির।

পুনে-শোলাপুর সড়কে পুনে থেকে ৭৯ কিমি দূরে মোরগাঁও।

মহাগণপতি মন্দির, রঞ্জনগাঁও
mahaganapati, ranjangaon
মহাগণপতি, রঞ্জনগাঁও। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

পুরাণে আছে এই স্থানেই গণপতির বরে মহাদেব বিপুরামুর দৈত্যকে বধ করেন। মন্দিরের বিশেষত্ব হল সূর্যের দক্ষিণায়ন থেকে উত্তরায়ণের সময় মূর্তির গায়ে সূর্যরশ্মি পড়ে। দেবমূর্তির কপালে দামি পাথরের বাহার। প্রবেশপথে রয়েছে পাথরে খোদিত দ্বাররক্ষী। জায়গাটির নাম আগে ছিল মণিপুর। এখন রঞ্জনগাঁও।

পুনে–আহমেদনগর সড়কে, ৫০ কিমি দূরে রঞ্জনগাঁও।

চিন্তামণি গণপতি মন্দির, থেউর
chintamani ganapati temple
চিন্তামণি গণপতি মন্দির, থেউর। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

মন্দিরে মূল দেবতা ছাড়াও আছেন পার্শ্বদেবতারা। রয়েছেন বিষ্ণু, মহাদেব ও হনুমানজি। ঘরের ভেতরে কালোপাথরের ফোয়ারা আছে। মন্দিরের তিন দিক দিয়ে বয়ে গিয়েছে মুলা নদী। আগে মন্দির ছিল কদম গাছের নীচে। তাই নাম ছিল কদম্বপুর। বর্তমান নাম থেউর।

পুনে থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে থেউর।

গিরিজাত্মজ গণপতি মন্দির, লেন্যাদ্রি 
the stairs to go to the temple
মন্দিরে ওঠা-নামার সিঁড়ি। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

এখানে বিনায়ক বিরাজ করেন বৌদ্ধগুহা সমষ্টির মাঝে একটি গুহায়। বিশেষত্ব হল, ভক্তরা কেবলমাত্র গণপতির পৃষ্ঠদেশই দেখতে পান। বিপরীতে অবস্থিত একটি পাহাড়ের উপর থেকে মূর্তির সম্মুখ ভাগ দেখা যায়। তবে তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। গুহায় পৌঁছোতে গেলে পেরোতে হয় ২৮৩টি সিঁড়ি। মূর্তিটি সিঁন্দুরমাখা। গণেশপুরাণে এই স্থানের উল্লেখ আছে জীর্ণপুর বা লেখন পর্বত নামে।

পুনে থেকে ৯৬ কিলোমিটার। পাহাড়ে ওঠার জন্য রয়েছে ডুলির ব্যবস্থা আছে।

বিঘ্নেশ্বর গণপতি মন্দির, ওজার
ozar temple
বিঘ্নেশ্বর গণপতি, ওজার। ছবি সৌজন্যে টেম্পলপুরোহিত.কম।

বিঘ্নাসুর নামের পরাক্রমশালী অসুর বধ করে এখানে তিনি ‘বিঘ্নেশ্বর’। পুরাণে কথিত আছে মৃত্যুর আগে বিঘ্নাসুর গণপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন। আর তার ফলস্বরূপ গণপতি নিজের নামটি জড়িয়ে নেন অসুরের নামের সঙ্গে। তা থেকেই তিনি বিঘ্নেশ্বর বা বিঘ্নাহার। পুরানের ওজারে কুকারি নদীর তীরের এই স্থানটির ব্যাপারেও বলা আছে। এই গণপতির শুঁড় বাঁ দিকে বেঁকানো। দু’টি চোখ রুবি ও অন্যান্য রত্নের তৈরি। কপালে রয়েছে হিরে।

পুনে-নাসিক সড়কে ৮৫ কিমি দূরে ওজার।

সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির, সিদ্ধিটেক
siddhitek vinayak temple
সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির। ছবি সৌজন্যে ট্রিপ অ্যাডভাইসর।

মৌদগল্য পুরাণে আছে এই স্থানেই ব্রহ্মা ‘ওম শ্রী সিদ্ধিদাতা গণেশায় নমোঃ’ মন্ত্র জপ করে সৃষ্টির কাজে সাফল্য পান। এর পেছনের কাহিনিটি হল অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস আর দম্ভে ভর করে ভগবান ব্রহ্মা জগৎ সৃষ্টির কাজ শুরু করেন। কিন্তু পদে পদে বাধা, কার্যে ত্রুটি আর মধু আর কৈটভ অসুরদ্বয়ের উপদ্রবে সৃষ্টি বিঘ্নিত হতে থাকে। তখনই তিনি বিঘ্ন নাশ করার জন্য বিঘ্নহর্তা গণপতির স্তব করার কথা মনস্থ করেন। স্তব পাঠে সন্তুষ্ট হন গণপতি। কার্যে সিদ্ধি লাভ করেন ব্রহ্মা। এখানে গণপতি স্বয়ম্ভু। তিন ফুট উঁচু বেদিতে বিরাজ করছেন তিনি। এঁর শুঁড়টি ডান দিকে বেঁকানো। এই স্থানকে ‘জাগ্রত ক্ষেত্র’ হিসেবেও মানা হয়। কালো পাথরের মন্দির। দ্বাররক্ষী হিসেবে রয়েছেন ব্রোঞ্জের তৈরি বিষ্ণুর দ্বাররক্ষীদ্বয় জয় ও বিজয়। আহমেদনগরের সিদ্ধিটেক অঞ্চলে ভীমা নদীর ধারে পাহাড়ের ওপর মন্দির।

পুনে থেকে ট্রেনপথে দাউন্দ স্টেশন ৭৬ কিমি। সেখান থেকে সড়কপথে সিদ্ধিটেক ১৬ কিলোমিটার।

বালেশ্বর গণপতি মন্দির, পালি
baleshwar ganapati temple
বালেশ্বর গণপতি মন্দির। ছবি সৌজন্যে গণপতিবাপ্পা.কম।

রুপোর তৈরি মূর্তি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসা। মূর্তির চোখ আর নাভিতে হিরে খোচিত। ত্রেতাযুগের বণিক শ্রেষ্ঠ কল্যাণ শেঠের ছোটো ছেলে বল্লাল-এর নামানুসারের মন্দিরের নাম হয় বল্লালেশ্বর বা বালেশ্বর।

মুম্বই-গোয়া সড়কে ১২৪ কিলোমিটার দূরে পালি।

বরদ বিনায়ক মন্দির, মহড়
varad vinayak temple
বরদ বিনায়ক মন্দির। ছবি সৌজন্যে টেম্পলপুরোহিত.কম

এর বিশেষত্ব হল অনন্ত কাল ধরে জ্বলছে একটি তেলের প্রদীপ। কথিত আছে, ১৬৯০ সালে ধন্তু পুরকারপ নামের এক ভক্তের হাত ধরে উঠে আসেন স্বয়ম্ভু বরদ বিনায়ক। তবে মন্দির স্থাপন হয় তার অনেক পরে। ১৭২৫ সালে। সুবেদার রামজি মহাদেও বিভলরকার স্থাপন করেন মন্দির। ২৪ ফুট উঁচু চূড়া রয়েছে মন্দিরে। চারপাশে রয়েছে সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ।

মুম্বই থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরে মহড়, লোনাভালার কাছে।।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন