birth of ganesha
গণেশের জন্মবৃত্তান্ত। ইনরুৎজ.ইন।

ওয়েবডেস্ক ‘মুষিক বাহন মোদক হস্ত’ এই দিয়ে আমরা যাঁকে চিনতে পারি তিনি হলেন শিব-পুত্র পার্বতী-নন্দন গজানন গণপতি। তাঁর সমস্ত ক্রিয়াকলাপ সকলেরই খুব প্রিয়। এই গণপতির জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে অনেক পৌরাণিক কাহিনি প্রচলিত আছে। বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন কথা। দেখুন এই সব ক’টি কাহিনিই আপনার জানা কি না?

স্কন্দপুরাণ – স্কন্দপুরাণ অনুযায়ী পার্বতীর গর্ভে সিন্দুর অসুর প্রবেশ করে গণেশের মস্তক ছিন্ন করে দেন। সেই মুণ্ডহীন অবস্থাতেই গণেশের জন্ম হয়। এর পর নারদমুনি তাঁর কাছে এই অবস্থার কথা জানতে চাইলে গণেশ স্বয়ং সেই বিবরণ দেন। এর পর নারদ তাঁকে পথ বাতলান। সেই মতোই গণপতি নিজের তেজে গজাসুরের মাথা কেটে নিজের শরীরে যুক্ত করেন। সেই থেকেই তিনি গজ মস্তক হয়ে যান।

শিবপুরাণ – এই পুরাণে আছে পার্বতী পাহারা দেওয়ার জন্য জয়া ও বিজয়া দুই সখীর পরামর্শে কাদা দিয়ে গণেশ তৈরি করেন আর তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর তিনি তাঁকে পাহারায় রেখে স্নানে যান। সেই সময় শিব এসে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে শিবের সঙ্গে বালক গণেশের যুদ্ধ হয়। যুদ্ধে শিবসহ সব দেবতা পরাজিত হন। অবশেষে বিষ্ণুর মায়ায় বালক আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে আর শিব শুল দিয়ে তার মাথা কেটে ফেলেন। পরে পার্বতীর কথা রাখতে বালককে প্রাণদান করতে যান। কিন্তু কাটা মাথাটি আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষে শিব নির্দেশ দেন উত্তর দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে এমন যাকে প্রথম দেখা যাবে তারই মাথা কেটে এনে বালকের শরীরে যুক্ত করা হয়। তবেই প্রাণ পাবে বালক। সেইমতোই কাজ করতে গিয়ে একটি হাতির মাথা কেটে এনে যুক্ত করা হয় আর প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়া হয় বালকের শরীরে।

পদ্মপুরাণ – পদ্মপুরাণ অনুযায়ী শিবপার্বতী হাতির বেশে বনে বনে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সেই অবস্থাতে তাঁদের মিলনের ফলে হাতির মাথা যুক্ত বালকের জন্ম হয়। তিনিই গণেশ।

বৃহৎবৈবর্ত পুরাণ – এই পুরাণে আছে শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম ধারী কৃষ্ণকে দেখে পার্বতী অনুরূপ একটি সন্তানের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। আর কৃষ্ণও সেই বর দেন। এর পর শিবপার্বতীর অমন একটি পুত্র লাভ হয়। সেই আনন্দে সকল দেবদেবী তাঁকে দেখতে আর আশীর্বাদ করতে আসেন। সঙ্গে শনি ঠাকুরও আসেন। কিন্তু তাঁর কুদৃষ্টির কারণে তিনি পুত্রকে দেখতে রাজি হননি। কিন্তু তাও পার্বতীর অনুরোধে তিনি বাঁ চোখের কোণ দিয়ে বালকের দিকে তাকান আর সঙ্গে সঙ্গে বালকের মাথা কাটা যায়। আর তা আবার কৃষ্ণের শরীরের সঙ্গে মিশে যায়। এর পর বিষ্ণুই উত্তর দিকে মাথা করে শুয়ে থাকা একটি হস্তিশাবকের মাথা থেকে দু’টি মাথা তৈরি করে একটি বালকের শরীরে আর একটি হাতিটির শরীরে স্থাপন করে দু’জনের প্রাণ রক্ষা করেন।

লিঙ্গপুরাণ – এই পুরাণ মতে শিব অসুরদের হাত থেকে দেবতাদের বাঁচানোর জন্য নিজের দেহ থেকে গণেশের জন্ম দেন।

আবার কোথাও আছে পার্বতী নিজের গায়ের ময়লা দিয়ে গণেশ মূর্তি তৈরি করেন। আর শিব তাতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। কোথাও আছে শিবের হাতের ঘাম থেকে গণেশের জন্ম।

গণেশের জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে এমন বহু কাহিনিই বিভিন্ন পুরাণে আছে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন