ganesha with riddhi and siddhi
দুই স্ত্রী ঋদ্ধি আর সিদ্ধির সঙ্গে গণেশ। ছবি সৌজন্যে গণপতি টিভি।

ওয়েবডেস্ক: ১৮৯৩ সালে লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলক গণেশ চতুর্থীর পুজো আরম্ভ করেন। উদ্দেশ্য ছিল জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলনকে জোরদার করার ক্ষেত্রে এই বিশেষ দিনটিকে কাজে লাগাতে। বহু সংখ্যক মানুষকে একত্রিত করা। যা-ই হোক, তার পর থেকে এই পুজোর প্রচলন খুব বেশি হয়।

অতি আদরের নধর গণেশের বেশ কিছু ছবি, মূর্তি, আর্টওয়ার্ক সব বাড়িতেই কিছু না কিছু থাকে। এই বিশেষ বিষয়ে মানুষের আগ্রহ প্রচুর তবে এই ব্যাপারে ভেতরের খবর আমরা কতটুকুই বা জানি? তাই সেই জানাকে একটু বাড়িয়ে নিতে রইল কয়েকটি অজানা তথ্য।

জানেন গণেশের পেটে বাঁধা ওই সাপের কাহিনি?

এক বার জন্মদিনে অর্থাৎ গণেশ চতুর্থীর দিন প্রত্যেক ঘরে ঘরে মোদক খেয়েছিলেন পেটুক গণশা। তার পর মোদকভরা বিশাল ভুঁড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন ইঁদুরের পিঠে চড়ে। পথে একটা সাপ সামনে এসে পড়ে। ব্যাস আর দেখে কে? ভয়ে মুষিকবাবাজি থর থর করে কাঁপতে শুরু করে। আর কাঁপুনির চোটে পিঠ থেকে ছিটকে পড়ে যান গণপতি। আর পেট যায় ফেটে। আর তার পর পেটের ভেতরের সব মোদক পথে ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মোদকগুলি কুড়িয়ে নিয়ে পেটে পুরে ওই সাপটা দিয়ে পেটটা বেঁধে ফেলেন। তার পর থেকেই তাঁর পেটে সাপ বাঁধা।

জানেন কি গণেশ চতুর্থীতে কেন চাঁদের দিকে তাকাতে নেই?

গণেশের পেট ফেটে যাওয়া আর সাপকে দড়ি বানিয়ে পেট বেঁধে ফেলার গোটা ঘটনাটা দেখে ফেলেছিলেন চন্দ্রদেব। অর্থাৎ কিনা চাঁদ। আর এই সব কাণ্ডকারখানা দেখে আর হাসি চেপে রাখতে না পেরে হেসে ফেলেন। আর এ দিকে নধর গণপতি সেই সব দেখে বেজায় খেপে যান। তখন তিনি চাঁদকে অভিশাপ দিয়ে বসেন। বলেন, গণেশ চতুর্থী থেকে সাত দিন পর অবধি কেউ যদি চাঁদের দিকে তাকায় তা হলে তার সময় খারাপ যাবে।

জানেন কি গণেশ ঠাকুরের আসল বৌ কে?

কলা বৌ নয় অন্য বৌ। গণেশ ঠাকুরের আসলে একটা নয়, দু’টি বৌ। তাঁদের নাম ঋদ্ধি আর সিদ্ধি। আর গণেশের ছেলেপুলের সংখ্যা দু’টি। সন্তানদের নাম ক্ষেম ও লাভ।

গণেশের গায়ের রঙ আসলে কী?

গজাননের গায়ের রঙ আসলে সবুজ আর লাল। এই রকমের গাত্রবর্ণ বিশিষ্ট গণপতির কথা বলা হয়েছে শিবপুরাণে।

কতগুলি অসুর বধ করেছেন তিনি? জানেন কী?

পণপতির মায়ের তো গাদাগাদা অসুর বধের কাহিনি রয়েছে। ‘মা কা বেটা’ কি একটাও অসুর মারতে পারেননি সারা জীবনে? এমন একটা প্রশ্ন মনে আসাটা খুবই স্বাভাবিক। তার উত্তরেই বলি, বেশ কয়েক জন অসুর নিধনের কৃতিত্ব রয়েছে গণপতির ছোট্টো ঝুলিতে। অসুররা হলেন অহন্তাসুর যার অর্থ অহং-এর প্রতীক, মায়াসুর – মায়ার প্রতীক, লোভাসুর মানে লোভের প্রতীক, কামাসুর অর্থাৎ কামের প্রতীক, ক্রোধাসুর অর্থাৎ ক্রোধের প্রতীক, অভিমানাসুর অর্থাৎ গরিমার প্রতীক, মমাসুর তথা অহংকারের প্রতীক, মোহাসুর মানে সংশয়ের প্রতীক এবং মাৎসর্যাসুর অর্থাৎ ঈর্ষার প্রতীক। তা ছাড়াও আরও অনেক অসুর মেরেছেন তিনি।

জানেন কার্তিকের ময়ূরটি কোথা থেকে এল?

ময়ূরেশ্বর অবতারের শেষে গণপতি তাঁর ময়ূর বাহনটিকে ছোটো ভাই কার্তিকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন