ওয়েবডেস্ক: উদয়াস্ত খেটে দিনের শেষে গা এলিয়ে দিলেন বিছানায়। কিন্তু দু চোখের পাতা এক করতে পারছেন না। মাঝে তন্দ্রা মতো এলেও ঘুম ভেঙ্গে যাচ্ছে একটু পরেই। অথবা ছেঁড়া ছেঁড়া ঘুম। ব্যাস, পরের সকালে বিছানা ছাড়লেন চোখে জড়ানো ক্লান্তি নিয়ে। খুব চেনা লাগছে না ছবিটা? না, আপনিই একা নন। আধুনিক জীবনশৈলী হাজার আরামের পাশাপাশি আমাদের মধ্যে অনেককেই দিয়েছে এই অভিশাপ। রোজকার ঘুমহীনতা রীতিমত পৌঁছে গিয়েছে অসুখের পর্যায়ে।

নীচে উল্লেখ করা হল, সহজে ঘুম আসার বেশ কিছু পদ্ধতি। আজই চেষ্টা করে দেখুন না।

একবারে যেকোনো একটি বিষয় নিয়ে ভাবুন

দিনের শেষে বিছানায় গেলেই যদি কিলবিল করে চিন্তা আসে আপনার মাথায়, প্রশ্রয় দেবেন না। যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে ভাবুন। খুব ভালো ফল হয়, যদি শান্ত কোনো ভাবনা ভাবেন। ‘কাল অফিসে কী হবে’ এই চিন্তা যেন আপনাকে গ্রাস না করে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১০-এর একটি গবেষণায় বেরিয়েছিল, ঘুমের আগে যদি পাহাড় কিংবা সমুদ্রের কথা ভাবেন, ঘুম তাড়াতাড়ি আসবে আপনার।

আরও পড়ুন; এ বার ঘুম আসবেই, দাওয়াই হিসেবে কাজ করবে ভেড়াদের ইতিবৃত্ত নিয়ে আট ঘণ্টার ছবি ‘ব্যা ব্যা ল্যান্ড’

বই পড়ুন অথবা লিখুন

খুব বুঝে না পড়লেও চলবে, যতক্ষণ না ঘুমিয়ে পড়ছেন, পড়তে থাকুন যে কোনো বই। এতে আপনার মাথায় অন্য কোনো চিন্তা আসার সুযোগ পাবে না। এতে কাজ না দিলে চটপট একটা ডায়েরিতে লিখে ফেলুন আপনার ঘুমোতে না পারার সব কারণ, সব ভয়, দুশ্চিন্তা। এতে মন হালকা হবে। ঘুম আসবে তাড়াতাড়ি।

গরম তরল পান করুন

গরম দুধ অথবা চা পান করলে তা শরীরকে শান্ত করে। ঘুম আসে সহজে। চ্যামোলিন টি, মিন্ট টি, এ ক্ষেত্রে খুব কার্যকর। ভ্যালেরিয়ান টি ঘুম পাড়াতে সাহায্য করে। চেরি জুসের মতো ঠাণ্ডা পানীয়ও স্লিপ হরমোনকে চাঙ্গা করে তোলে।

সুরের সাহায্য নিন

হতে পারে সফট্‌ গান, হতে পারে যন্ত্রানুসঙ্গীত। তবে এমন কিছু শুনুন, যা আপনার মাথাকে ঠান্ডা রাখবে। অডিও বুক শুনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে খুব ঘটনাবহুল বা খুব আওয়াজ আছে এমন কিছু শুনবেন না।

স্লো ব্রিদিং অভ্যাস করুন

চার মিনিট ধরে শ্বাস গ্রহণ করে সাত মিনিট সেই শ্বাস ধরে রাখুন। ছাড়ার সময় ৮ মিনিট ধরে নিঃশ্বাস ত্যাগ করুন। সেকেন্ডের হিসেবে একটু হেরফের হলে ক্ষতি নেই। তবে শ্বাস নেওয়া, ধরে রাখা এবং ছাড়ার অনুপাত এইরকম রাখার চেষ্টা করুন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here