ঘরের ভেতরের দূষণ ক্ষতি করে বেশি, বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ৫টি সহজ উপায়

0
homeair-pollution
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক : দূষণ যে কেবল ঘরের বাইরেই আছে তা কিন্তু নয়, দূষণ রয়েছে ঘরের ভেতরও। বরং বাইরের থেকে ঘরের ভেতরে দূষণের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় চার থেকে পাঁচগুণ। কারণ বাইরের পরিবেশ, হাওয়া-বাতাস সবটাই খোলামেলা। সেখানে ভালো, খারাপের মিশেল খুব তাড়াতাড়ি ও সহজে হয়। কিন্তু ঘরের ভেতরটা খুবই ছোটো পরিসরের মধ্যে। সব সময় যে সব জানলা দরজা খোলা থাকে এবং তা দিয়ে যথেষ্ট হাওয়া বাতাস যাতায়াত করে তা-ও নয়। সুতরাং ঘরের ভেতরের দূষিত হাওয়া ঘরের ভেতরেই থেকে যায়। ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস বিশুদ্ধ হাওয়ার সংস্পর্শে আসার সুযোগ খুবই কম পায় বা পায় না। তার মধ্যেই নিঃশ্বাস নিতে হয় ঘরের ভেতরে থাকা মানুষদের। তার থেকে শরীরের ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে।  এই ঘটনা ঘটে অফিসের ক্ষেত্রেও।

ঠিক কী কী কারণে ঘরের ভেতরের বাতাস দূষিত হয়?

১। প্রথম কারণই হল বাড়ি বা অফিসের ঘরের মধ্যে বসবাস করা বা থাকা একাধিক মানুষের শ্বাসক্রিয়ার ফলে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড।

২। এর পরই বলা যায় মশামাছি বা যে কোনো ধরনের পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত ওষুধ বা ধূপ বা রিপ্লেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, সেই সমস্ত কিছুই ঘরের ভেতরের বাতাসকে দূষিত করে।

৩। কার্পেটে ব্যবহৃত রাসায়নিকও ঘরের বাতাস দূষিত করে।

৪। চুলে দেওয়ার শ্যাম্পু, যে কোনো কাজে ব্যবহার করা আঠা, শেভিংক্রিম ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফরমালডিহাইড নামের একটি রাসায়নিক অর্থাৎ কেমিক্যাল, যা বাতাসকে দূষিত করে।  

৫। রান্নার ঝাঁঝ, ধোঁয়া, তেলচিটে বাতাস ইত্যাদিও ঘরের বায়ু দূষিত করে।

এই সমস্ত কিছু থেকে রেহাই দিতে বেশ কয়েকটি পথ বাতলাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেখে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী

ঘর বা অফিস ঘরের বায়ু দূষিত থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য সাংঘাতিক হানিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজেদের শরীর ও ফুসফুসের যত্ন করতে হবে। সেই প্রয়োজনেই ঘরের ভেতরের বাতাসকে যে করেই হোক বিশুদ্ধ করা উচিত।

১। বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা :

যাতে অবাধে ঘরের বাতাস বাইরে যেতে পারে ও বাইরের বাতাস ঘরে আসতে পারে সেই জন্য ঘরের সমস্ত জানলা দরজা অন্তত পক্ষে কিছু সময়ের জন্য হলেও খুলে রাখা উচিত। তাতে ঘরের বাতাসের পরিবর্তন হবে। দূষিত বাতাস বেরিয়ে যাবে। তাই সর্বক্ষণ জানলা দরজা বন্ধ না রেখে দিনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় যেন তা উন্মুক্ত থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

২। ঘরের ভেতরে গাছ :

আমরা সকলেই জানি গাছেরা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন পরিবেশে ছেড়ে দেয়। তাই অনেক জায়গায় ঘরের ভেতরে গাছ রাখতে দেখা যায়। তার কারণ আর কিছুই নয়। ঘরের বাতাস পরিশুদ্ধ করা। তাই ঘরের ভেতরে যে সমস্ত গাছ সুস্থ ভাবে কম আলো হাওয়ায় বেঁচে থাকতে পারে, তেমন কিছু রাখা যেতেই পারে। তার মধ্যে রয়েছে ইংলিশ আইভি, বাম্বু পাম, চাইনিজ এভারগ্রিন ইত্যাদি গাছ। এগুলি বাহারি গাছ। ঘর সাজানোর পাশাপাশি বাতাসও পরিশুদ্ধ করে।    

৩। সল্টল্যাম্প :

এই বাতাস পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা যায় সল্টল্যাম্প। এটি ঘরের মধ্যে, অফিসের কাজের টেবিলে যে কোনো জায়গায় রাখা যায়। এটি খুবই দৃষ্টিনন্দনকারী। শুধু তা-ই নয়, বাতাসের দূষণ দূর করতেও সিদ্ধহস্ত। এটি বাতাসের দূষণযুক্ত জলীয়বাস্পকে শোষণ করে নেয়। এটি জ্বালানো অবস্থায় বেশি কাজ করলেও নেভানো অবস্থাতেও এটি কাজ করে।

৪। অ্যাকটিভেটেড চারকোল  :

অ্যাকটিভেটেড চারকোলে কোনো রকম দুর্গন্ধ থাকে না। কিন্তু নিজে দূষিত বাতাস শোষণ করতে পারে। এ ছাড়াও বাঁশের কাঠকয়লাও এই কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।   

৫। এসেনশিয়াল অয়েল :

এসেনশিয়াল অয়েল রাখলে ঘরের মধ্যেকার ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, দুর্গন্ধ, জীবাণু, ফাঙ্গাস ইত্যাদি কিছু থাকে না। গবেষণা বলছে এই এসেনশিয়াল অয়েল ঘরের দূষণ ৯৯.৯৬ শতাংশই নষ্ট করতে পারে। এসেনশিয়াল অয়েলগুলির মধ্যে দারুচিনি, ওরেগানো, রোজমেরি, থাইম, মুসম্বিলেবু, পাতিলেবু, টিট্রি অয়েল ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।

গায়ের রং কালো হলেও প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকতে পারে: বিশেষজ্ঞ

বায়ুদূষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ে চার দিকে যখন এত হইহই হচ্ছে, তখন এই অভিযানে শামিল হয়ে নিজের ঘরেও বায়ুদূষণ কমানোর দায়িত্ব নেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে এই বিরাট কর্মযজ্ঞে সামান্য হলেও তো অংশগ্রহণ করা যায়। সঙ্গে কিছু অবদান থেকে যায়। কারণ বিন্দু বিন্দু দিয়েই তো সিন্ধু গড়ে ওঠে। তাই প্রত্যেকে যদি নিজের নিজের কাজের বা ব্যবহারের জায়গা, যেমন ঘরবাড়ি বা অফিসের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি প্রয়োগ করতে শুরু করে তার সুফল তো নিজের সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তা হলে আর অপেক্ষা কীসের? এই সামান্য পদক্ষেপে বিশাল উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতী হয়ে যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.