Connect with us

পরিবেশ

ঘরের ভেতরের দূষণ ক্ষতি করে বেশি, বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ৫টি সহজ উপায়

Published

on

homeair-pollution

ওয়েবডেস্ক : দূষণ যে কেবল ঘরের বাইরেই আছে তা কিন্তু নয়, দূষণ রয়েছে ঘরের ভেতরও। বরং বাইরের থেকে ঘরের ভেতরে দূষণের পরিমাণ অনেক বেশি। প্রায় চার থেকে পাঁচগুণ। কারণ বাইরের পরিবেশ, হাওয়া-বাতাস সবটাই খোলামেলা। সেখানে ভালো, খারাপের মিশেল খুব তাড়াতাড়ি ও সহজে হয়। কিন্তু ঘরের ভেতরটা খুবই ছোটো পরিসরের মধ্যে। সব সময় যে সব জানলা দরজা খোলা থাকে এবং তা দিয়ে যথেষ্ট হাওয়া বাতাস যাতায়াত করে তা-ও নয়। সুতরাং ঘরের ভেতরের দূষিত হাওয়া ঘরের ভেতরেই থেকে যায়। ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস বিশুদ্ধ হাওয়ার সংস্পর্শে আসার সুযোগ খুবই কম পায় বা পায় না। তার মধ্যেই নিঃশ্বাস নিতে হয় ঘরের ভেতরে থাকা মানুষদের। তার থেকে শরীরের ক্ষতির পরিমাণ ক্রমশ বাড়তে থাকে।  এই ঘটনা ঘটে অফিসের ক্ষেত্রেও।

ঠিক কী কী কারণে ঘরের ভেতরের বাতাস দূষিত হয়?

১। প্রথম কারণই হল বাড়ি বা অফিসের ঘরের মধ্যে বসবাস করা বা থাকা একাধিক মানুষের শ্বাসক্রিয়ার ফলে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড।

২। এর পরই বলা যায় মশামাছি বা যে কোনো ধরনের পোকামাকড় মারার জন্য যে সমস্ত ওষুধ বা ধূপ বা রিপ্লেন্ট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়, সেই সমস্ত কিছুই ঘরের ভেতরের বাতাসকে দূষিত করে।

৩। কার্পেটে ব্যবহৃত রাসায়নিকও ঘরের বাতাস দূষিত করে।

৪। চুলে দেওয়ার শ্যাম্পু, যে কোনো কাজে ব্যবহার করা আঠা, শেভিংক্রিম ইত্যাদিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফরমালডিহাইড নামের একটি রাসায়নিক অর্থাৎ কেমিক্যাল, যা বাতাসকে দূষিত করে।  

৫। রান্নার ঝাঁঝ, ধোঁয়া, তেলচিটে বাতাস ইত্যাদিও ঘরের বায়ু দূষিত করে।

এই সমস্ত কিছু থেকে রেহাই দিতে বেশ কয়েকটি পথ বাতলাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেখে নেওয়া যাক সেগুলি কী কী

ঘর বা অফিস ঘরের বায়ু দূষিত থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য সাংঘাতিক হানিকর হয়ে উঠতে পারে। তাই নিজেদের শরীর ও ফুসফুসের যত্ন করতে হবে। সেই প্রয়োজনেই ঘরের ভেতরের বাতাসকে যে করেই হোক বিশুদ্ধ করা উচিত।

১। বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা :

যাতে অবাধে ঘরের বাতাস বাইরে যেতে পারে ও বাইরের বাতাস ঘরে আসতে পারে সেই জন্য ঘরের সমস্ত জানলা দরজা অন্তত পক্ষে কিছু সময়ের জন্য হলেও খুলে রাখা উচিত। তাতে ঘরের বাতাসের পরিবর্তন হবে। দূষিত বাতাস বেরিয়ে যাবে। তাই সর্বক্ষণ জানলা দরজা বন্ধ না রেখে দিনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় যেন তা উন্মুক্ত থাকে সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

২। ঘরের ভেতরে গাছ :

আমরা সকলেই জানি গাছেরা কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে ও অক্সিজেন পরিবেশে ছেড়ে দেয়। তাই অনেক জায়গায় ঘরের ভেতরে গাছ রাখতে দেখা যায়। তার কারণ আর কিছুই নয়। ঘরের বাতাস পরিশুদ্ধ করা। তাই ঘরের ভেতরে যে সমস্ত গাছ সুস্থ ভাবে কম আলো হাওয়ায় বেঁচে থাকতে পারে, তেমন কিছু রাখা যেতেই পারে। তার মধ্যে রয়েছে ইংলিশ আইভি, বাম্বু পাম, চাইনিজ এভারগ্রিন ইত্যাদি গাছ। এগুলি বাহারি গাছ। ঘর সাজানোর পাশাপাশি বাতাসও পরিশুদ্ধ করে।    

৩। সল্টল্যাম্প :

এই বাতাস পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহার করা যায় সল্টল্যাম্প। এটি ঘরের মধ্যে, অফিসের কাজের টেবিলে যে কোনো জায়গায় রাখা যায়। এটি খুবই দৃষ্টিনন্দনকারী। শুধু তা-ই নয়, বাতাসের দূষণ দূর করতেও সিদ্ধহস্ত। এটি বাতাসের দূষণযুক্ত জলীয়বাস্পকে শোষণ করে নেয়। এটি জ্বালানো অবস্থায় বেশি কাজ করলেও নেভানো অবস্থাতেও এটি কাজ করে।

৪। অ্যাকটিভেটেড চারকোল  :

অ্যাকটিভেটেড চারকোলে কোনো রকম দুর্গন্ধ থাকে না। কিন্তু নিজে দূষিত বাতাস শোষণ করতে পারে। এ ছাড়াও বাঁশের কাঠকয়লাও এই কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।   

৫। এসেনশিয়াল অয়েল :

এসেনশিয়াল অয়েল রাখলে ঘরের মধ্যেকার ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, দুর্গন্ধ, জীবাণু, ফাঙ্গাস ইত্যাদি কিছু থাকে না। গবেষণা বলছে এই এসেনশিয়াল অয়েল ঘরের দূষণ ৯৯.৯৬ শতাংশই নষ্ট করতে পারে। এসেনশিয়াল অয়েলগুলির মধ্যে দারুচিনি, ওরেগানো, রোজমেরি, থাইম, মুসম্বিলেবু, পাতিলেবু, টিট্রি অয়েল ইত্যাদি রাখা যেতে পারে।

গায়ের রং কালো হলেও প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকতে পারে: বিশেষজ্ঞ

বায়ুদূষণ, পরিবেশ দূষণ নিয়ে চার দিকে যখন এত হইহই হচ্ছে, তখন এই অভিযানে শামিল হয়ে নিজের ঘরেও বায়ুদূষণ কমানোর দায়িত্ব নেওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে এই বিরাট কর্মযজ্ঞে সামান্য হলেও তো অংশগ্রহণ করা যায়। সঙ্গে কিছু অবদান থেকে যায়। কারণ বিন্দু বিন্দু দিয়েই তো সিন্ধু গড়ে ওঠে। তাই প্রত্যেকে যদি নিজের নিজের কাজের বা ব্যবহারের জায়গা, যেমন ঘরবাড়ি বা অফিসের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থাগুলি প্রয়োগ করতে শুরু করে তার সুফল তো নিজের সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। তা হলে আর অপেক্ষা কীসের? এই সামান্য পদক্ষেপে বিশাল উদ্দেশ্য সাধনে ব্রতী হয়ে যান।

পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে নৈহাটিতে ফ্রাইডে ফর ফিউচারের প্রতীকী ধর্মঘট

শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে প্রতিবাদ জানালেন গ্রেটা থুনর্বাগ ও তার সঙ্গী পড়ুয়ারা।

Published

on

গ্রেবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক

নিজস্ব প্রতিনিধি : বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে সামিল হলো নৈহাটির পড়ুয়া ও শিক্ষকরা। শুক্রবার এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার’ নামে পরিবেশবাদী সংস্থা। গ্রেটা থুনবার্গ যার পথিকৃৎ।

এ দিন নৈহাটি পুরসভার সমানে প্রতীকী ধর্মঘটে সামিল হয় ‘ফ্রাইডে ফর ফিউচার (FFF)’ -এর নৈহাটি শাখা। পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগ দেন শিক্ষক-শিক্ষিকারাও।

পোস্টার-প্ল্যাকার্ড নিয়ে বেশ খানিকক্ষণ তারা পুরসভার সামনে অবস্থান করেন। এর পর একটি মিছিল করে বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করেন তারা। স্টেট ব্যাঙ্কের নৈহাটি প্রধান শাখার সামনে একটি পথসভার মধ্যে দিয়ে তাঁদের কর্মসূচি শেষ হয়।

করোনা বিধি মেনে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে থুনবার্গের প্রতিবাদ

Greta Thunberg
সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে গ্রেটা ও তার সহযোগীদের প্রতিবাদ

শারীরিক দুরত্ব বজায় রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুইডিশ পার্লামেন্টের সামনে প্রতিবাদ জানালেন গ্রেটা থুনবার্গ ও তার সঙ্গী পড়ুয়ারা।

সাংবাদিকদের থুনবার্গ বলেন, ‘‘ আশা সবসময়ই আছে। জনমতের উপর প্রভাব ফেলার জন্য এই প্রতিবাদ। আশা করা যায় তারা আরও সচেতন হতে শুরু করবেন।’’

আর পড়তে পারেন

আদানিদের কয়লা প্রকল্প থেকে জার্মান সংস্থাকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান গ্রেটা থুনবার্গের

Continue Reading

পরিবেশ

জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপারে বিজ্ঞান কিছুই জানে না! আজব দাবি করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বেশ কিছুদিন ধরে কালিফোর্নিয়ার জঙ্গলে দাবানলের জন্য পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

Published

on

Donald Trump
বার বার হাসির খোরাক হন, তবুও তাতে বিশেষ হেলদোল থাকে না ডোনাল্ড ট্রাম্পের।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পেই। তাঁর বিতর্কিত এবং হাস্যকর মন্তব্যের জন্য বার বার হাসির খোরাক হন তিনি। কিন্তু তাতেও তাঁর কোনো ভ্রূক্ষেপ হয় না।

সোমবার ফের তার প্রমাণ পাওয়া গেল। জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি যা জানেন বিজ্ঞান তার কিছুই খবর রাখে না বলে মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর এই আজব দাবির কথা শুনে ফের একবার হাসির রোল উঠেছে নেটদুনিয়ায়।

বেশ কিছু দিন ধরে কালিফোর্নিয়া (California)-এর জঙ্গলে দাবানলের জন্য পরিস্থিতি খুব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর জেরে এখনও পর্যন্ত পর্যন্ত পাঁচ লক্ষের বেশি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন আর মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ২২ জনের। পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিষয়টি নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদরা। এর মাঝেই বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীদের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

কালিফোর্নিয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল মহল আরও বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন, দাবানলের কারণে পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে জানাচ্ছে তারা। ঠিক তখনই উলটো সুর শোনা গেলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের গলায়। পরিবেশ ক্রমশ ঠান্ডা হবে বলে দাবি করলেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের অদক্ষতার জন্যই ক্যালিফোর্নিয়ার জঙ্গলে দাবানল (wildfire) -এর সৃষ্টি হয়েছে। আসলে জলবায়ুর পরিবর্তন সম্পর্কে আমি যা জানি বিজ্ঞান তা-ও জানে না। দাবানলের ফলে পরিবেশ গরম হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু, আমার মনে হয় খুব তাড়াতাড়ি পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে উঠবে।”

এর আগে একাধিক বার বিভিন্ন বিষয়ে আজব দাবি করেন ট্রাম্প। গত মার্চে যখন আমেরিকায় করোনার প্রকোপ বাড়ছে, তখন তিনি বলেছিলেন এপ্রিলের গরমেই দাপট কমে যাবে এই ভাইরাসের। তা করোনাভাইরাসের দাপট কমল না কি বাড়ল সেটা তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি!

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নামল ৮৩ হাজারের ঘরে, সংক্রমণের হার ৮ শতাংশের কম

Continue Reading

দেশ

নতুন নতুন ধস-অঞ্চল সৃষ্টি হচ্ছে চার ধাম সড়কে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) সড়কের প্রস্থ সাত মিটার করার সুপারিশ করে। সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তার বদলে ওই সড়কের প্রস্থ সাড়ে পাঁচ মিটার করার প্রস্তাব দেয়। কমিটির সেই প্রস্তাব বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

Published

on

widening of char dham road
চার ধাম রুটে রাস্তা চওড়া করার কাজ চলছে।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: কেদারনাথ, বদরীনাথ, গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী – এই চার ধামে (Char Dham) বছরের সব সময় যাওয়ার উপযুক্ত সড়ক তৈরি হচ্ছে। ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের নির্মাণকাজ চার বছর আগেই শুরু হয়েছে। এই কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) পরিবেশগত ভাবে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে নতুন করে ধস-অঞ্চল সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

হিন্দুস্তান টাইমস-এর খবর, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চিনের সীমান্ত-সংলগ্ন অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনীর দ্রুত চলাচলের  ক্ষেত্রেও এই সড়ক ব্যবহৃত হবে। এবং এই চলাচল ভঙ্গুর পার্বত্য অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র অস্থিতিশীল করে তুলবে।

ভূতত্ত্ববিদ নবীন জুয়াল বলেছেন, হৃষীকেশ থেকে চম্বা, ৬০ কিমি দীর্ঘ এই সড়কে আগে এক বা দু’টি ধসপ্রবণ অঞ্চল ছিল। এখন তা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে।

“কুঞ্জপুরি (Kunjapuri) তো বর্তমানে একটি নিয়মিত ধসপ্রবণ অঞ্চল হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা প্রশস্ত করার কারণেই মূলত এটি ধস-অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। অলকানন্দা উপত্যকায় সকনিধর হল এ রকম আরও একটি নিয়মিত ধসপ্রবণ অঞ্চল। যতই আমরা উপত্যকার উপর দিকে যেতে থাকি, ততই ধস-অঞ্চলের সংখ্যাও বাড়তে থাকে,” বলেন নবীন জুয়াল।

উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্ট গত বছর যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি (এইচপিসি, HPC) গঠন করে, নবীন জুয়াল তার অন্যতম সদস্য।

উত্তরাখণ্ডে পাহাড়ি রাস্তায় ধস।

সুপ্রিম কোর্ট কী বলেছে

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও সড়ক মন্ত্রক (Union Road Transport and Highways Ministry) ২০১৮ সালে ঠিক করেছিল পার্বত্য অঞ্চলে নির্মীয়মাণ সড়কের প্রস্থ হবে সাড়ে ৫ মিটার। মঙ্গলবার এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট রায় দিতে গিয়ে জানিয়ে দেয়, সড়কের প্রস্থ সাড়ে ৫ মিটারের বেশি করা যাবে না। রায় দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) পার্বত্য অঞ্চলের ভঙ্গুরতা এবং হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের উপর সড়ক-প্রস্থের প্রভাবের উল্লেখ করে।

উত্তরাখণ্ডে চার ধাম সড়কের প্রস্থ সাত মিটার করার পক্ষপাতী ছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির চেয়ারম্যান রবি চোপরা-সহ কিছু সদস্য যুক্তি দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, হিমালয়ের মতো ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রে ধস খুব স্বাভাবিক ঘটনা। এর ওপর ওই অঞ্চলে এ ধরনের প্রশস্ত সড়ক আরও বিপদ ডেকে আনতে পারে। ভারতের জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ (NHAI) সড়কের প্রস্থ সাত মিটার করার সুপারিশ করে। সুপ্রিম কোর্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি তার বদলে ওই সড়কের প্রস্থ সাড়ে পাঁচ মিটার করার প্রস্তাব দেয়। কমিটির সেই প্রস্তাব বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্ট।

এইচপিসি তার রিপোর্টে বলেছিল, পিথোরাগড় পর্যন্ত সড়কে পাহাড়ের গায়ে নতুন করে যে ১৭৪ জায়গায় কাটা হয়েছে, তার মধ্যে ১০২টি জায়গাই ধসপ্রবণ। “অভ্যন্তরীণ কারণে এবং পাহাড়ের গা কাটা-সহ নানা বাহ্যিক কারণে ওই জায়গাগুলো দুর্বল হয়ে যাওয়ার ফলে বেশি বেশি করে ধস সৃষ্টি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

উত্তরাখণ্ডের ডিজাস্টার মিটিগেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের একজিকিউটিভ ডিরেক্টর পীযূষ রাউতেলা বলেন, একটা পাহাড়ের স্বাভাবিক ঢালের যদি পরিবর্তন করা হয় তা হলে তা স্থিতিশীলতা হারায় এবং ধস নামে। তিনি বলেন, “দেওয়াল তৈরি করার মতো কিছু ব্যবস্থা ধস আটকাতে কাজে দেয় বটে তবে পাহাড় তার স্বাভাবিক ঢাল ফিরে পেলে স্থিতিশীলতা আসে। কিন্তু তাতে সময় লাগে, কখনও কখনও অনেক সময় লাগে।”

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভঙ্গুরতার বিষয়টি বিবেচনা না করে ভারী সড়ক নির্মাণ করার ফলে ওই অঞ্চল দুর্বল হয়ে গিয়েছে। যেখানে পাহাড়ের ঢাল খুব খাড়াই, ৪৫ ডিগ্রি থেকে ৮০ ডিগ্রির মধ্যে, সেখানে সড়ক নির্মাণের কাজ বেশি হয়েছে।

কেদারনাথ বিপর্যয় ২০১৩।

দেহরাদুনের ওয়াদিয়া ইনস্টিটিউট অব হিমালয়ান জিওলজির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট প্রদীপ শ্রীবাস্তব জানান, ২০১৩-এর কেদারনাথ বিপর্যয়ের পরে ৩০০০ মতো ধসের জায়গা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যেখানে কৌশলগত কারণ রয়েছে। তবে হিমালয়ের ভঙ্গুরতা এবং ভূতত্বের বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। মানুষের হস্তক্ষেপের ফলে এ ধরনের ঘটনা (কেদারনাথ বিপর্যয়) আরও বাড়বে এবং পাহাড় যে হেতু স্থিতিশীল নয়, সে হেতু তা ঘন ঘন ঘটতে পারে।”

খাড়াখাড়ি পাহাড় কাটা

সড়কের প্রকল্পের জন্য একেবারে খাড়াখাড়ি ভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশবিদ মল্লিকা ভানোত। তিনি বলেন, এর ফলে পরিবেশগত দিক থেকে সংবেদনশীল অঞ্চলগুলিতে ধসের সৃষ্টি হচ্ছে। তাঁর কথায়, “চার ধাম যাওয়ার জন্য সড়ককে আরও চওড়া করার জন্য খাড়াখাড়ি ভাবে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এর ফলে উত্তরাখণ্ডের পাহাড় নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। এবং যার জন্য ধসও বেড়ে গিয়েছে। এ ধরনের যে প্রকল্পে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা বিপন্ন হয়, তাকে আর যা-ই হোক, উন্নয়ন বলা যায় না।”

চার ধাম প্রকল্পের অন্তর্গত হৃষীকেশ-শ্রীনগর সড়কে কৌদিয়ালায় গত ২৪ আগস্ট ধসে চাপা পড়ে তিন জন প্রাণ হারান। ২০১৮-এর ডিসেম্বরে রুদ্রপ্রয়াগ জেলায় চার ধাম সড়কে কাজ করার সময় সাত জন শ্রমিক মারা যান।

উত্তরাখণ্ড স্পেস অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারের ডিরেক্টর এমপিএস বিশ্ত বলেন, গত কয়েক বছরে ধস যে বেড়ে গিয়েছে, সেটা পরিষ্কার। তবে এর ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ঠিক কটা ধস নেমেছে, সে সম্পর্কে কোনো সমীক্ষা হয়নি।

সৌজন্যে: হিন্দুস্তান টাইমস

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

পরিবেশ দূষণ কমাতে নির্বাচিত ১০০টি শহরে বিশেষ প্রচার চালাচ্ছে কেন্দ্র

Continue Reading
Advertisement

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 days ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা3 days ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা5 days ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 week ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা2 weeks ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা3 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা3 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

নজরে