নয়াদিল্লি: হলিউডের সেই বিখ্যাত সিনেমাটা মনে পড়ছে, ‘ফিফটি ফার্স্ট ডেটস’? ডিমেনশিয়া আক্রান্ত নায়িকাকে রোজ সকালে নতুন করে তাঁর জীবনের গল্প মনে করাতো নায়ক। ছবিটা যতটাই মিষ্টি, ততটাই ভয়ঙ্কর এই সব ভুলে যাওয়ার ভাবনাটা। আপনার জীবনে এই ভয়ঙ্কর সময় যেন না আসে, সেই বিষয়ে সতর্ক হোন এখন থেকেই।

অ্যালজাইমার এবং ডিমেনশিয়া নিয়ে ভারতীয় তরুণতরুণী কী ভাবছে, তা নিয়েই একটি সমীক্ষা চালিয়েছিল দিল্লির বসন্তকুঞ্জের ফরটিস হাসপাতাল। সমীক্ষার ফল বলছে, ভুলে যাওয়ার অভ্যেসকে আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্ম  অসুখ হিসেবে দেখেই না। অথচ, ২০১৫ এর বিশ্ব অ্যালজাইমার রিপোর্ট অনুযায়ী, সারা পৃথিবীতে সাড়ে চার কোটির ওপর মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। ২০৫০-এর মধ্যে সংখ্যাটা এক হাজার কোটি  ছড়াবে।

ডিমেনশিয়া আক্রান্ত দেশগুলির মধ্যে ভারত রয়েছে ৩ নম্বরে। এখানে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ লক্ষ। ২০৩০-এর মধ্যে সংখ্যাটা দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে ১৫ থেকে ৪০ বছরের মাঝে ভারতীয় নাগরিকদের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, 

  • ৯১% তরুণ ভুলে যাওয়াকে রোগ বা অসুখ হিসেবে দেখে না
  • ৮৫% অ্যালজাইমার নামক রোগটির সঙ্গে পরিচিত নয়
  • ৮২% মনে করে ডায়াবেটিসের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার কোনো সম্পর্ক নেই
  • অ্যালকোহল পানের সঙ্গে ডিমেনশিয়ার কোনো সম্পর্ক আছে কিনা জানতে চাওয়া হলে ৭২% নেতিবাচক উত্তর দিয়েছে
  • একাধিকবার পর পর স্ট্রোক হলে স্মৃতি শক্তির ওপর প্রভাব পড়ে কিনা জিজ্ঞেস করা হলে ৯০% বলেছে- না
  • ডিমেনশিয়া কেন হয়, সে বিষয়ে কিছুই বলতে পারেনি ৯৭% মানুষ
  • ডিমেনশিয়া যে ঠিক হতে পারে, সেটিও জানেন না ৯১% তরুণতরুণী

স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ  ডঃ বিহারী বললেন, “প্রতি মিনিটে আমাদের দেশে কেউ না কেউ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে”। ডায়াবেটিস, ক্যানসার, হৃদরোগ, হাইপার টেনশন থেকে জন্ম নিতে পারে ডিমেনশিয়া। শুধু ওষুধ খেলেই এই রোগ নিরাময় হয় না। পরিবারের সদস্যদের রোগীর যত্ন নেওয়া দরকার। খুব ছোটোখাটো ঘটনা দিয়েই শুরু হয় এই রোগ। মাত্রা বাড়তে থাকলে একসময় রোগী তার কাছের মানুষকেও চিনতে পারে না। রোগের প্রথম ধাপে কেউ একটু আগে ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা মনে করতে পারে না। কারোর আবার কোনো শব্দ মনে পড়ে না, অথবা তার যথার্থ উচ্চারণ। বাড়িতে ঢোকার কিংবা বেরনোর রাস্তাও ভুলে যান। 

চিকিৎসকরা বলছেন, মস্তিস্ক সচল রাখলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে। মাথা খাটানোর মতো খেলা যেমন সুদোকু, পাজল্‌ ইত্যাদি খেললে মস্তিষ্কের কোশ সতেজ থাকে। অর্থাৎ, মস্তিস্কের ব্যবহার না করলে তাকে হারাতে হবে- ‘ইউজ ইট, অর লুজ ইট’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here