Connect with us

শরীরস্বাস্থ্য

হেলথ ড্রিঙ্কস: ডাক্তার এবং একটি সুরম্য আলোচনা

দীপঙ্কর ঘোষ

দীর্ঘ সাড়ে চার বছর পর আজ আমাদের বিখ্যাত হাতুড়ে ডাক্তার মৃত‍্যুচরণ দাস দেশে ফিরছেন। ওঁকে ‘নিখাদ স্বাস্থ্য প্রচার আয়োগ’ এবং ‘ভেষজ পুষ্টি মন্ত্রণালয়’-এর সহায়তায় দীর্ঘ এগারো বছরের জন্য আফ্রিকা আর ইউরোপের কিছু দেশের মানুষকে দেশীয় পুষ্টি দ্রবণ মানে হেলথ ড্রিঙ্ক খাইয়ে তার ফলাফল নিয়ে গবেষণা করতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাঁকে ঠিক সাড়ে চার বছর পর ওরা ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। মৃত‍্যুচরণবাবুর এরোপ্লেন আটচল্লিশ মিনিট দেরিতে আসছিল, তাই ইত‍্যবসরে ওঁর চেম্বার-পরিচালক ওরফে নিত‍্যসঙ্গী খালিপদ মণ্ডল এয়ারপোর্টের এয়ারকন্ডিশনড্‌ ঘরে বসে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। যা-ই হোক, প্লেন থেকে নেমে দুস্তর ত্রিস্তর বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরে উভয়ের কোলাকুলি আলিঙ্গন ইত‍্যাদি হল।

বাড়ি ফিরে খালিপদ চটপট ডিমের ঝোল আর গরম গরম সাদা ভাত রান্না করে ফেলল। তার পর ডাক্তারের পড়ার চৌপায়ায় (টেবিল) থালা রেখে সপেঁয়াজ লঙ্কা দু’ জনে গপাগপ সাঁটিয়ে দিলেন। মৃত‍্যুচরণ বললেন, “আহা কত দিন পর যে গরম ভাত আর ডিমের ঝোল খেলাম রে!” তার পর বাইরের ঘরে খালিপদ আর শোওয়ার ঘরে ডাক্তারের সে কী নিদারুণ নাকডাকা!

মৃত‍্যুচরণের সঙ্গে পরিচয়ের আগে খালিপদ ভ‍্যানরিকশা করে ঘুরে ঘুরে পুতুল বিক্রি করত। কিন্তু হিসেবপত্তর বোঝে না বলে তার কেবলই লোকসান হত। অবশেষে এখন সে ডাক্তারের দিবারাত্রির সঙ্গী। সন্ধেবেলা ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপ হাতে খালিপদ খাটে এসে বসল আর ডাক্তার মৃত‍্যুচরণ বসলেন ওঁর এক চিলতে বারান্দার আরাম-চেয়ারে।

“তুমি এত বছর গেছিলে কোথায় দাদা? কী করতিই বা গেছিলে?”

ডাক্তার একটা নতুন ফ্লেক সিগারেটের প‍্যাকেট খুলে একটা সিগারেট ধরালেন। তার পর বললেন, “আমি প্রথমে গেছিলাম বেঁটেদের দেশে, আমাদের দেশের ওই সব লম্বা হ‌ওয়ার পাউডারগুলো খাইয়ে ওদের লম্বা করা যায় কিনা জানতে – তার পর গেলাম লম্বাদের দেশে কী কী খেয়ে ওরা এত লম্বা হয়েছে সেটা জানতে – এ বার এই সব কথা আমি লিখে লিখে জানাব।”

খালিপদর বিস্ময় থই পায় না – “বেঁটেদের দেশ? এ রকুম দেশ‌ও আছে নাকি গো দাদা? তুমি সেখেনে গেইছিলে?”

মৃত‍্যুচরণ সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বলেন, “আমি প্রথমে আফ্রিকায় গেছিলাম – বাঘ সিংহ হাতি জলহস্তী গোরিলা আর হাজার রকম পাখির সঙ্গে পৃথিবীর সব থেকে বেঁটে মানুষদের বাসা ওখানে… ওদের পিগমি বলে… গভীর জঙ্গলে থাকে… ছোটো ছোটো সব মানুষ – ওরা তীর ধনুক বর্শা দিয়ে শিকার করে… ব‍্যাবিঙ্গা, এম্বুতি, বাকা, বাইকা, এফে, বেট‌ওয়া – কত রকমের পিগমি আছে রে!”

খালিপদ বলে, “ওরা সবাই শিকার করে কেন?”

“ওরা ওই সব জন্তু জানোয়ারের মাংস খেয়েই বাঁচে রে।”

“বাচ্চারাও?” – খালিপদর জিজ্ঞাসা। মৃত‍্যুচরণ ঘাড় নাড়েন।

খালিপদ বিশেষজ্ঞের মতামত দেয়, “তাইলি বোধয় বাচ্চারা কচকচি হাড়গুনো খায়।” খালিপদর কচকচি হাড় বড্ড পছন্দ।

মৃত‍্যুচরণ বলতে থাকেন – “একটা ছোটো দেশ বুরুন্ডি…। সেখানেও ও রকম বেঁটে মানুষ থাকে।”

“বুরুন্ডি?”

“ট‍্যাঙ্গানাইকা লেকের পুব দিকে একটা দেশ – ওখানে বেট‌ওয়া বলে একটা উপজাতি আছে – কিন‍্যারোয়ান্ডা আর কিরুন্ডি ভাষায় কথা বলে, দু’টোই খুব কাছাকাছি ভাষা, অনেকটা বাংলা আর অহমিয়া যেমন কাছাকাছি সে রকমই। আমি প্লেনে যেতে যেতেই ওই ভাষাটা চটপট শিখে নিলাম। তার পর সোজা গভীর জঙ্গলে।”

খালিপদ অবাক, “জঙ্গুল? ও দেশেও জঙ্গুল‌ আছে?”

“হ‍্যাঁরে, ঘন জঙ্গল…তিন হাজার রকমের গাছ… দু’ একটা বাওবাব গাছ‌ও আছে… বিরাট বড়ো বড়ো… বোতলের মতো দেখতে… আগার সরু জায়গাটা থেকে ডালপালা বেরোয়…ওই গাছেরা ওদের গুঁড়ির মধ্যে জল জমিয়ে রাখে – পিগমিরা সব ওই গভীর জঙ্গলের ভেতরেই থাকে।”

খালিপদ স্তব্ধ হয়ে শুনতে থাকে। “জানিস তো আমাদের দেশীয় পুষ্টি দ্রবণের হাজার হাজার প‍্যাকেট সঙ্গে নিয়ে গেছিলাম, আর সেই সঙ্গে অনেক অনেক বাংলুর বোতল। ওই বোতল কয়েকটা দিতেই বেট‌ওয়াদের সর্দারের সঙ্গে ভাব হয়ে গেল। ও তো বাংলু পেয়ে ভীষণ খুশি। বলে কী জানিস? ওই ইবোগুইনা মানে ইবোগার থেকে এ জিনিস অনেক ভালো। ইবোগুইনা জানিস না?”

খালিপদর অজ্ঞতায় হাসেন মৃত‍্যুচরণ – “ওটা হল এক রকমের গাছের ছাল… খেলেই বিদঘুটে সব স্বপ্ন দেখা যায়। তার পর এক সন্ধেবেলা আমি আর সর্দার বাংলু নিয়ে বসে সর্দারকে আমার প্ল‍্যানটায় রাজি করালাম। সর্দার ইঙ্গোনা ঢাক বাজিয়ে বাজিয়ে সত্তর হাজার বেট‌ওয়াকে আমার প্ল‍্যানের কথা জানিয়ে দিল… ব‍্যাস তার পর থেকে আট বছরের সব বাচ্চাকে দু’বেলা ওই পুষ্টি দ্রবণ খাইয়ে ওদের উচ্চতা মাপতে লাগলাম।”

মৃত‍্যুচরণ ম্লান হাসেন – “কিন্তু বাচ্চাগুলো একটাও লম্বা তো হলই না বরং সাড়ে চার বছর পরে কী রকম যেন গ‍্যাদগ‍্যাদে ল‍্যাৎপ‍্যাতে থলবলে হয়ে গেল – দেখেশুনে আমাকে তো সর্দার আরেকটু হলেই ক্রাইসোমেলিড ভীমরুলের বিষমাখা বর্শা দিয়ে খুঁচিয়েই দিচ্ছিল – কোনো রকমে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে আসি।”

মনঃক্ষুণ্ণ খালিপদ মন্তব্য করে, “পেইলে এলে? তোমায় খুঁচোতে পারল নি?”

ডাক্তার ক্রুদ্ধ দৃষ্টিতে খালিপদর দিকে তাকিয়ে বলেন, “তার পর গেলাম লম্বাদের দেশে। নেদারল্যান্ডস বা হল‍্যান্ড। ওখানে সবাই লম্বা লম্বা। একটা লম্বু পরিবারের বাড়িতে গেলাম – যেখানে দাদু ছেলে মেয়ে নাতিপুতি – গুষ্টিশুদ্ধ সব্বাই তাল ঢ‍্যাঙা। আমি তো ডাচ ভাষা আগে থেকেই অল্প অল্প জানতাম।

খানিক গল্প টল্প করে জিজ্ঞেস করলাম, “Gezondheidsdrank? মানে হল হেলথ ড্রিঙ্ক।”

খালিপদ সমঝদারের মতো মাথা নাড়ল – “ তার পর?”

“বুড়ো ভয়ানক খুশি হয়ে লাল গাল কাঁপিয়ে, নাকের পাটা ফুলিয়ে, চোখ কুঁচকিয়ে, খুব একচোট হেসে একটা বোতল আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি তো ঢকঢক করে গিলে নিয়েছি। তার পর দেখি আমার চোখের সামনে দিয়ে কতগুলো মাছ উড়ে উড়ে যাচ্ছে। গাছেরা হামাগুড়ি দিয়ে দিয়ে আমায় ঘিরে ফেলেছে। লাল গালের বুড়োটা কাঁপতে কাঁপতে একটা মোমবাতি হয়ে গিয়েছে, বলছে ফুঁ দিওনা হে, ফুঁ দিওনা। কিন্তু…। ভয়ের চোটে আমি টেনে টেনে নিজের অর্ধেক চুল ছিঁড়েই ফেললাম – সেই থেকেই আমার মাথাভরা টাক।”

খালিপদ অবাক বিস্ময়ে শুনতে থাকে।

“পরে শুনলাম ওটা একটা ভয়ানক কড়া মদ – হাপসবার্গ গোল্ড লেবেল অ্যাবসিন্থে – শতকরা প্রায় নব্ব‌ই ভাগই অ্যালকোহল। বেশি গিললে উলটোপালটা সব জিনিসপত্র দেখা যায়। আধুনিক শিল্পীরা ছবিটবি আঁকার আগে নাকি ওই সব পান করে, তার পর আঁকে। তা আমার বাংলুই ভালো বাবা। বুঝলাম হেলথ ড্রিঙ্ক ট্রিঙ্ক খায় না। ওরা এমনি এমনিই ঢ‍্যাঙা – আর ওই বেট‌ওয়ারা এমনি এমনিই বেঁটে। এই সব হেলথ ড্রিঙ্কে লম্বা হয় না। সোওওওজা ফিরে এলাম। বুঝলি?”

খালিপদ কিন্তু খুশি নয় – “ওই বেঁটেগুনোকে কেউ আর নম্বা করতি পারবে না?”

মৃত‍্যুচরণ উদাস হয়ে খানিকটা ভাবলেন, তার পর বললেন, “দ‍্যাখ খালিপদ, লম্বা হ‌ওয়াটা আসলে হরমোনের খেলা। গ্রোথ হরমোন এবং আরও কিছু হরমোনের ওপরে লম্বা বা বেঁটে হ‌ওয়া নির্ভর করে। সাধারণ ডাল ভাত মাছ ডিম সবজি – এই সব পেট ভরে খেলেই লম্বা হবে যদি হরমোন সব ঠিকঠাক থাকে।”

খালিপদ বলে, “বেশি করে হরমোন ইনজেকশন দিলি হয় না, হয় না তাইলি নম্বা?”

“নারে খালিপদ, কেবলমাত্র যদি হরমোন কম থাকে তা হলেই ঠিক মাপমতো দিলে এটা কাজ করবে। নইলে হয় হঠাৎ করে হাড়গোড় সব বীভৎস মোটা মোটা হয়ে যাবে আর না হলে ছোটোবেলায় ইনজেকশন দিলে আকাশছোঁয়া লম্বা হয়ে যাবে।”

খালিপদ বলে, “তাইলে পিগমিগুনো বেঁটে কেন আর আমিই বা ইয়ে মানে অ্যাতো ছোটোখাটো কেন?”

মৃত‍্যুচরণ একটু চুপ করে থেকে বলেন, “সব‌ই জিনের লীলা রে খালিপদ, জিনের লীলা।”

খালিপদ কপালে হাত ঠেকায় – “দাদা তাইলে তুমিও আজকাল জিন পরি অপদ‍্যাবতা, এই সব মানতিছো?”

ডাক্তার একটা ব‍্যাঁকা হাসি হাসলেন, “এ জিন সে জিন নয়, অন্য জিন। শরীরের ভেতরে কোষের মধ্যে থাকে আর এরাই আমাদের কী হবে না হবে সব কিছু কন্ট্রোল করে।”

খালিপদ হাঁ করে শুনতে থাকে।

“এরা অনেক অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। ধরা যাক লম্বা হ‌ওয়ার জিনটায় অ্যালানাইন, থ্রিওনাইন, গ্লাইসিন আর সিস্টেইন এই চারটে অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে। দেখা গিয়েছে বেট‌ওয়াদের থ্রিওনাইন নেই। কিন্তু পাশের জেলার বান্টুদের লম্বা হ‌ওয়ার জিনে থ্রিওনাইন আছে। তাই বান্টুরা সব লম্বা। তেমনই যে সব মানুষ হরমোন ঠিকমতো থাকা সত্ত্বেও লম্বা হয় না তাদের ওই জিনের সিক‍্যুয়েন্সে থ্রিওনাইন নেই। সুতরাং হরমোনরা লম্বা হ‌ওয়াটা ঘটায় কিন্তু সব হরমোন ঠিক থাকলেও কতটা লম্বা হবে সেটা আদতে লম্বা হ‌ওয়ার জিন‌ই ঠিক করে। সবাই যা খায় সেটা খেলেই লম্বা হ‌ওয়া যায়। ওই সব হেলথ ড্রিঙ্কে লম্বা হয় না। কিছু বুঝলি?”

খালিপদ কপালে হাত ঠেকিয়ে বলে, “বাবা মা কেউ ছেল না… কে আর আমাকে ওই সব হেল ডৃং কিনে খাওয়াবে বলো দি’নি – আমরা হলাম গরিবগুর্বো মানুষ। আমাদের কপালে ওই সব নাই। আমরা বেঁটেই থাকব।”

মৃত‍্যুচরণ হতাশ হয়ে বলেন, “এইমাত্র যে বললাম ও সব খেয়ে কোনো লাভ নেই, সেটা মাথায় ঢুকেছে?”

“হুঃ, তুমি বললেই হয়ে গেল। সারা দিন টিবিতে বলতিছে এই খাও ওই খাও তবে নম্বা হবে… আমি বুঝি দেখিনি?”

মৃত‍্যুচরণ ঘুমিয়ে পড়েন। উনি বকবকিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।

(লেখক পেশায় চিকিৎসক)

Continue Reading
Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

জীবন যেমন

বাড়িতে করোনা রোগীর দেখাশোনা কী ভাবে করবেন?

corona

খবরঅনলাইন ডেস্ক : প্রতিদিন হাজার মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এই অতিমারি করোনাভাইরাসে। এর মধ্যেই পঞ্চম দফার লকডাউনে খুলে গিয়েছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। আগামী দিনে খুলবে আরও কিছুও। তা হলে আর বাড়ি নয়, এ বার বাইরের জীবনকেই আগের মতো সঙ্গী করতে হবে। সঙ্গে করোনা। এই অবস্থায় করোনার প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ কথা ঠিক যে প্রতিষেধক তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আতঙ্ক তো থেকেই যাবে। সে ক্ষেত্রে ঘরের কেউ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হলেও অবাক হওয়ারও কিছু থাকবে না। বরং পরিস্থিতি সামাল দিতে জানতে হবে কী ভাবে বাড়িতেই দেখাশোনা করবেন করোনাভাইরাসের রোগীকে।

এ দেশে কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা হাতেগোনা। মুম্বই অ্যাপোলো হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ লক্ষ্মণ জেসানি এই বিষয়ে বিশেষ কিছু পরামর্শ দিলেন। জানালেন, হাসপাতালে না গিয়ে নিজে নিরাপদে থেকে কী ভাবে ঘরেই রোগীর পরিচর্যা করতে হবে।

১। অসুস্থতা বোধ করলে রোগীকে নিজের থেকেই সচেতন হতে হবে। 

২। কোনো ব্যক্তির মধ্যে যদি রোগের লক্ষণ থাকে তা হলে তাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ১৪ থেকে ১৭ দিন আইসোলেশানে থাকতে হবে।

৩। শ্বাসকষ্ট থাকলে শুরুতেই সচেতন হতে হবে। নিয়মিত ডাক্তার ও হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।  

৪। এ ছাড়া হালকা জ্বর হলে ১০ দিন তাকে আলাদা রাখুন। 

৫। পরিবারের অন্য সসস্যদের নিরাপদে রাখতে সংক্ৰমিত রোগীকে বাথরুমসহ একটা ঘরে একা রাখতে হবে।

৬। রোগীর সঙ্গে কথা বলা বা তার দেখাশোনা করার সময় মাস্ক ও গ্লাভস অবশ্যই পরতে হবে।

৭। খুব প্রয়োজন না হলে তার সঙ্গে নিশ্চিত রূপে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে কাজ করতে হবে। যেমন ওধুষ বা খাবার খাওয়ানো ইত্যাদি।

৮। সংক্ৰমিত ব্যক্তির কাছে গেলে বারবার সাবানজলে হাত ধুতে হবে। অথবা অ্যালকোহল-যুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতেই হবে। 

৯। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে জল ও ফলের রস, হালকা গরম সুপ ও আদা, গোলমরিচ, লবঙ্গ দিয়ে তৈরি চা খেতে দিতে হবে। মাছ, মুরগির মাংস ইত্যাদি পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে।

১০। শিশু ও বয়স্কদের আক্রান্তের থেকে দূরে রাখুন।  

১১। সর্বোপরি তিনি বলেন, আতঙ্কিত না হয়ে, মনের জোর ধরে রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন। সচেতনতার কাছে করোনা পরাজিত হোক।  

আরও – করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও অবশেষে কিছুটা আশার আলো

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? এই ৮টি খাবার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন

knee

খবরনলাইন ডেস্ক : ছোটো বড়ো সকলেরই এখন হাতে পায়ে কোমরে ব্যথা লেগেই আছে। তাদের মধ্যে বেশি ভাগেরই এই ব্যথার মূল কারণ বাত। নানান রকমের বাত। রোগটি বেশির ভাগ সময় বংশগত কারণে হয়। তা ছাড়া হাড়ের জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড জমা হলে বাতের ব্যথা হয়। তা ছাড়া বাড়তি ওজন, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ এবং অ্যালকোহল সেবনের ফলেও বাতের ব্যথা হয়।

হাত-পা ও মেরুদণ্ড, হাঁটু, ঘাড়, কোমর, হিপ ও কাঁধের জয়েন্ট ব্যথা এবং হাত-পায়ের ছোট জয়েন্টগুলোয় ব্যথা হয় ও  জয়েন্ট ফুলে যায়। তবে কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলে এই ব্যথার হাত থেকে রেহাই মিলতে পারে অনেকটাই। এই খাবারগুলির মধ্যে রয়েছে –

১। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার

দুধ, দই ও পনির অর্থাৎ দুধজাত খাবারে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলি হাড় শক্তিশালী করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

২। মাছ

রুই, টুনা ও স্যালমন মাছে রয়েছে প্রদাহনাশক ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাতের ব্যথা সারাতে সপ্তাহে অন্তত দু’ দিন ৮৫ থেকে ১১৩ গ্রাম এই ধরনের মাছ খাওয়া প্রয়োজন।

৩। সয়াবিন

সয়াবিনেও রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। তা প্রদাহ নাশ করে।  তা ছাড়া সয়াবিনে রয়েছে লো-ফ্যাট, উচ্চমানের প্রোটিন ও ফাইবার।

৪। বাদাম

ড্রাইফ্রুট অর্থাৎ আখরোট, পেস্তা ও আমন্ড এই বাদাম জাতীয় খাবারে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, ভিটামিন ই ও ফাইবার। অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও আর্থ্রাইটিস উভয়ের জন্যই এ সব বাদাম বেশ উপকারী।

অবশ্যই করুন – শ্বাসযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে রইল আরও কয়েকটি ব্রিদিং এক্সারসাইজ, পর্ব -২

৫। শিমের বীজ

শিমের বীজে রয়েছে প্রোটিন, লোহা, জিংক ও পটাশিয়াম। বাতের কারণে ফোলাভাব কমাতে এটি খুবই ভালো কাজ করে।

৬। লেবু জাতীয় বা সাইট্রাস ফ্রুট


কমলালেবু, পাতিলেবু, মুসম্বি ও আঙুরে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। অস্টিওআথ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিয়মিত এ সব ফল খেলে ব্যথাযন্ত্রণা ও হাড়ের ক্ষতি অনেকটাই কম হয়।

৭। গ্রিন টি

পলিফেনল ও অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি। এটি ব্যথা কমায় ও তরুণাস্থির ক্ষতির মাত্রা কমায়। এর অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হাড়কে সুরক্ষা দেয়।

৮। ব্রোকোলি

ব্রোকোলি অনেক রোগের ক্ষেত্রেই খুব ভালো একটি খাবার। উচ্চমানের ভিটামিন ব্রোকোলিতে রয়েছে। তা ছাড়া এর মধ্যে সালফোরেফেন নামে একটি উপাদান আছে, বিশেষজ্ঞদের মতে এটি অস্টিওআর্থ্রাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে। ক্যালিসিয়াম হাড় মজবুত করে।

জেনে নিন – ফেস মাস্ক নাকি ফেস শিল্ড কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য

Continue Reading

শরীরস্বাস্থ্য

ফেস মাস্ক নাকি ফেস শিল্ড কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য

mask

খবরঅনলাইন ডেস্ক: লকডাউন বাড়লেও বাইরে বেরিয়ে কাজকর্ম করার ব্যাপারে কড়াকড়ি শিথিলও বাড়ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বাসেট্রেনে ওঠে ভিড়ভাট্টার মধ্যে যাতায়াত বাড়বে সে কথা বলাই বাহুল্য। করোনা ভাইরাস বা কোভিড ১৯ সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে কী ভাবে নিজেদের সুরক্ষা কবচে মুড়ে রাখবেন, সচেতনতা এবং সাবধানতা বাড়াবেন তা নিয়ে এর আগেই আলোচনা করা হয়েছে। আজ কথা বলা যাক ফেস মাস্ক নাকি ফেস শিল্ড কোনটি বেশি নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেস শিল্ড অনেকটা বেশি পরিসরকে আবরণযুক্ত করে। ফলে তা অনেক বেশি সুবিধাজনক ও কার্যকর।

অনেকেরই মনে হতে পারে অত বড়ো একটা ঢাকনা দেওয়া থাকবে মুখের ওপর, কেমন লাগবে। সে ক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো ফেস শিল্ড ব্যবহার করছেন অভিনেতারাও।  যেমন অভিনেতা রাধিকা মদন তাঁর ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে একটি ছবি দিয়েছেন। তাতে তিনি ফেস শিল্ড ব্যবহার করেছেন। তিনি মুম্বই থেকে দিল্লিতে যাওয়ার পথেই এই ফেস শিল্ড ব্যবহার করেছিলেন।  তা ছাড়া বহু মানুষই আজকাল করোনার হাত থেকে বাঁচতে ফেস শিল্ড ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে বিমানযাত্রীরা তো বটেই। সুতরাং ফেস শিল্ড নিয়ে কিন্তু কিন্তু ভাব রাখার কোনো অর্থই হয় না।

পিভিসি বা মোটা প্লাস্টিকের তৈরি এই শিল্ড। ঠিক হেলমেটের ফেস কভারের মতোই মুখের সামনেটা ঢেকে রাখবে। ফলে মাস্কের মাইরে মুখমণ্ডলের যে অংশ থাকবে তা থাকবে সুরক্ষিত ও পরিচ্ছন্ন। ড্রপলেট সেখানে ছিটকে লাগার কোনো সুযোগ নেই।

তা ছাড়া বর্মের মতো এটি মুখে থাকলে কারণে অকারণে চোখে মুখে হাত দেওয়ার প্রবণতাও বন্ধ হবে।

তা ছাড়া বেশি ভিড়যুক্ত এলাকায় বা ট্রেনে বাসে চড়ার সময় অন্যের মুখের থেকে নিজের মুখের দুরত্ব বজায় রাখতেও অনেক বেশি সহায়ক।

এটি স্বচ্ছ প্লাস্টিকের বলে দেখতে কোনো সমস্যা নেই।

অনেকেরই ফেস মাস্কে দমবন্ধ লাগে শ্বাসের কষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে তাঁরা কম ভিড় যুক্ত জায়গায় গেলে শুধু ফেস শিল্ড ব্যবহার করতে পারেন। তবে ভিড়ে এর সঙ্গে ফেস মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।

এটি পুনঃব্যবহার যোগ্য। অর্থাৎ একবার ব্যবহার করার পর এটি স্যানিটাইজড করে আবার ব্যবহার করা যাবে। এই ভাবে দীর্ঘদিন এটি ব্যবহার করা যাবে। যেটি মাস্কের ক্ষেত্রে হয় না।

উল্লেখ্য, সিঙ্গাপুরে আগামী মাসে ছোটোদের স্কুল খোলার কথা ঠিক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেস শিল্ড ব্যবহার করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আমেরিকার কিছু কিছু স্কুলে ছাত্র শিক্ষক উভয়কেই এই শিল্ড পরতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন – করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘরে বাইরে এই সতর্কতাগুলি অবশ্যই মেনে চলুন

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং