চোরকাঁটা
Biswajit-Pathak
বিশ্বজিত পাঠক

গ্রাম্য এলাকায় বনভোজনে গিয়ে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই আছে। সবুজের উপর হাঁটতে গিয়ে পোশাকে আটকে যায় এক ছোট্ট কাঁটা ফল। ছাড়ানো বেশ মুশকিলের। সচরাচর অনেকে এগুলিকে চোরকাঁটা নামেই ডেকে থাকেন। দেখতে জিরার দানার মতো এই ফলগুলি হল আপাং বা অপমার্গ গাছের ফল।

এই চোরকাঁটার ওষধিগুণ সম্পর্কে অধিকাংশই খুব একটা আগ্রহ দেখান না। কিন্তু এক অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে বেশ কয়েকটি ব্যয়সাধ্য সমস্যা নিরসনে। চলুন সংক্ষেপে আলোকপাত করা যায় সে সব বিষয়েই। প্রথমেই বলে রাখা ভালো, এই এক বর্ষজীবী গাছের প্রতিটি অংশেই রয়েছে ওষধিগুণ।

এক নজরে দেখে নিন এর কার্যকারিতা:

কাঁচা আপাং গাছ একটি আধারে বা কলাপাতায় মুড়ে নিয়ে সেঁকে নেওয়ার পর বেটে নিয়ে আধ কাপ জলে ২/৩ চামচ মিশিয়ে খেলে পেটের চর্বি কমতে পারে। যাঁরা পেটের চর্বি নিয়ে চিন্তায় পড়ে জিমে কসরত অথবা নিত্যনতুন ওষুধ খেয়ে চলেছেন, তাঁরা মাসখানকের নিয়মিত সেবনে এর সুফল পরখ করে দেখে নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ খাদ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

বিশুদ্ধ ১/৩ ভাগ নারকোল তেল সঙ্গে গোটা গাছ বেটে প্রাপ্ত ২/৩ ভাগ রস ভালো করে ফুটিয়ে নেওয়ার পর তা গায়ে মাখলে খোশ-প্যাঁচড়া এবং চুলকানিতে উপশম মিলতে পারে।

অন্য দিকে গোটা গাছ বেটে প্রাপ্ত ৩০-৪০ ফোঁটা রস ইষদুষ্ণ জলে মিশিয়ে ৫-৬ বার খেলে দূর হতে পারে গা-বমি ভাব।

দাঁতে ব্যথা বা পোকা লাগার ক্ষেত্রেও কাজ করে আপাং। এর শীষ বা বীজ দিয়ে দাঁত মাজতে হবে সে ক্ষেত্রে।

মুখে ঘায়ের ক্ষেত্রেও চটজলদি উপশম দেয় আপাং। সে ক্ষেত্রে আপংয়ের পাতা চিবিয়ে কুলকুচি করতে হবে। খাওয়া কোনো দরকার নেই।

এ ছাড়া অর্শ, প্যারালাইসিস, প্রস্রাবের সমস্যা, শরীরের পুরনো ব্যথা, বাতজ্বর, ক্ষুধামান্দ্য, রক্তক্ষরণ বন্ধ-সহ একাধিক কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

[ ছুড়ে ফেলার আগে জেনে নিন আম আঁটির উপকারিতা ]

এর মধ্যে রয়েছে ট্রাইটারপেনয়েড স্যাপোনিনস। যা থেকে ওলিয়ানলিক অ্যাসিড। এবং লম্বা চেনের বেশ কয়েকটি অ্যালকোহলও উপস্থিত রয়েছে আপাংয়ে। এ ছাড়া রয়েছে আচরিথিন, বিটেইন, পেন্টাট্রিয়াকন্টানোন, হেক্সট্রিয়াকন্টেন এবং ট্রিট্রিয়াকন্টেন নাম জৈব রাসায়নিক যৌগ। আপাং গাছ পুড়িয়ে প্রাপ্ত ছাইয়ে মজুত থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশ। ভেষজ চিকিত্‍সায় এটি অ্যান্টাসিডেরও কাজ করে থাকে।

(লেখক ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ)

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here