কচুশাকের সাত কাহন

0
kachushak
কচুশাক

ওয়েবডেস্ক : দেখতে ভাল নয়। হয়ও খুব খারাপ ও নোংরা জায়গায়। তা ছাড়া রান্না করাও হ্যাঁপা। তাই অনেকই এখন আর কচুশাক তেমন পছন্দ করেন না। কিন্তু আগেকার দিনে এই কচুশাকের বাহারি রান্নার গন্ধে প্রায়ই রান্নাঘর থেকে খাবার ঘর ম ম করত। এখন আর সেই রাজাও নেই আর রাজ্যপাটও নেই। এমনই হাল কচুশাকের।

তবে একটা কথা কী, নোংরা জায়গাতে হলেও কচুশাকে পুষ্টিগুণ বা খাদ্যগুণ যাই বলুন তা যে পরিমাণ আছে আচ্ছা আচ্ছা খাবারে কিন্তু সেই পরিমাণ খাদ্যগুণ থাকে না। তাই আজ রইল কচুশাকের সাত কাহন।

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক কচুশাকে কী কী খাদ্যগুণ থাকে –

কচুশাকে রয়েছে, প্রোটিন, ভিটামিন, শর্করা, কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট, আয়রণ, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম-সহ বিভিন্ন খনিজ ও ফাইবার।

দ্বিতীয়তে জানব ১০০ গ্রাম কচুশাকের মধ্যে কোন পুষ্টিগুণ কত পরিমাণ থাকে –

১০০ গ্রাম কচুশাকের মধ্যে থাকে

১) ৩.৯ গ্রাম প্রোটিন,

২) ০.২২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন),

৩) ০.২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২ (রাইবোফ্লাবিন),

৪) ১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন স,

৫) ৬.৮ গ্রাম শর্করা,

৬) ১০ মিলিগ্রাম লৌহ,

৭) ১.৫ গ্রাম চর্বি বা ফ্যাট,

৮) ২২৭ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম,

৯) ৫৬ কিলো ক্যালোরি খাদ্যগুণ।

তৃতীয়তে দেখব কচুশাক খেলে উপকার কী কী হয়?

১)  কচুশাকে প্রচুর পরিমাণে আঁশ জাতীয় বা ‘ফাইবার’ থাকে বলে এটি হজম শক্তি বাড়ায়। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য যাঁদের আছে তাঁরা খেতে পারেন।

২)  কচুশাকে প্রচুর ‘আয়রন’ আছে। আছে ‘ফোলেট’। তাই রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। রক্তে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি করে। যাঁরা রক্তাল্পতায় ভোগেন তাঁরা অবশ্যই কচুশাক খেতে পারেন।

৩) প্রচুর পরিমাণে ‘ভিটামিন এ’ থাকায় রাতকানা রোগ, ছানি পড়া-সহ চোখের দৃষ্টি শক্তি বাড়ানো ইত্যাদি ক্ষেত্রে খুবই উপকার দেয়।

৪) কচুশাকে উপস্থিত ‘ভিটামিন সি’ ক্ষত নিরাময় করতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এটি শিশুদের জন্য খুবই উপকারী।

৫) কচুশাকে ‘অ্যান্টি ইফ্লামেটারি’ ও ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল’ উপাদান যে কোনো ধরনের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৬) এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত এইও শাক খেলে ডায়াবেটিস বা মধুমেহ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

৭) উচ্চরক্ত চাপ কমাতে সাহায্য করে। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও হ্রাস পায়।

৮) এই শাকে উপস্থিত ‘ভিটামিন’ ও ‘খনিজ উপাদান’ গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য খুবই ভালো।

৯) এর ‘আয়রণ’, ‘ম্যাঙ্গানিজ’, ‘ফসফরাস’, ‘ম্যাগনেশিয়াম’, ‘ক্যালসিয়াম’-সহ বিভিন্ন খনিজ হাড় ও দাঁত গঠন করতে, মজবুত রাখতে এবং ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

১০) এতে উপস্থিত ‘ভিটামিন কে’ রক্তপাতের সমস্যা রোধ করে।

১১) কচুশাক খেলে রক্তে কোলেস্টরেলের পরিমাণ কমে। উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে।

১২) এর ‘ভিটামিন সি’, ‘অ্যান্টি অক্সিডেন্ট’ ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে এটি কোলন ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিশেষ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে।

সূত্র – সম্ভব.কম

জানেন কি? কেন খাবেন গ্রিন টি? জেনে নিন তার ৪টি কারণ

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.