ওয়েবডেস্ক: এর আগের পর্বে বেশ কয়েকটি সাধারণ উপসর্গ আলোচনা করা হয়েছিল। এই উপসর্গগুলি দীর্ঘদিন থাকলেই উচিত সচেতন হওয়া ও গুরুত্ব দিয়ে সেগুলির চিকিৎসা করানো। তবে মনে রাখতে হবে প্রথমেই ভয় পাবেন না। কারণ এই উপসর্গগুলি থাকা মানেই ক্যানসার হয়েছে তা কিন্তু নয়। তার কারণ হল একই রকম উপসর্গ থাকে একাধিক রোগের ক্ষেত্রে। তা সাধারণ রোগও হতে পারে বা জটিল। তবে রোগ মাত্রই সারিয়ে ফেলা উচিত, তাই দীর্ঘ দিন থাকলেই তার ভালো করে চিকিৎসা করান। তবে হ্যাঁ, যদিও বা ক্যানসার হয়ে থাকে, তা হলেও ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই। তার কারণ এখন এই রোগেরও ভালো ও উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা আবিষ্কার হয়েছে। ঠিক ভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিয়মিত চিকিৎসা করালে অনেকদিন সুস্থ ভাবে সাধারণ জীবন যাপন করা যায়।

যাইহোক দ্বিতীয় পর্বে রইল আরও কয়েকটি তেমনই উপসর্গের বিষয়ে আলোচনা। পড়ুন ও সচেতন হন। সচেতন করুন।

অণ্ডকোষের সমস্যা –

বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রায় ৯০% পুরুষের এই সমস্যা থাকে। অণ্ডকোষে ডেলার মতো অংশ তৈরি হয়। তাতে কোনো রকম ব্যথা থাকে না। অনেকের আবার অণ্ডকোষের আয়তন বৃদ্ধি পায়। অনেকের অণ্ডকোষের শিরাগুলি ফুলে ওঠে। সংক্রমণ হয়। তবে হ্যাঁ, যে কোনো রকম অস্বাভাবিকতাই হোক না কেন তা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সচেতনতা বাড়াতে পুরুষদের প্রতি মাসে নিজেদের অণ্ডকোষ নিজেরাই পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্রাবের সমস্যা –

বারবার প্রস্রাব হওয়া, অল্প পরিমাণে প্রস্রাব, মূত্রত্যাগে বেশিক্ষণ সময় লাগা, খুব ধীরগতিতে মূত্র হওয়া, লাল রঙের প্রস্রাব, ব্লাডারের কার্যকারিতার পরিবর্তন ইত্যাদি হল পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্ল্যান্ড বৃদ্ধি পাওয়া ও মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রে সংক্রমণের লক্ষণ। এইগুলি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে ফেলে রাখবেন না। কারণ এগুলিতে কোনো ব্যথা যন্ত্রণা হয় না ঠিকই, তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলিই পরবর্তী ধাপে প্রস্টেট ক্যানসারের বার্তা বাহক হয়ে উঠতে পারে।

এ ক্ষেত্রে কয়েকটি রক্তপরীক্ষা ও ডিজিট্যাল রেকটাম পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে পিএসএ রক্ত পরীক্ষা। পরীক্ষার ফলাফলে ক্যানসারের আভাস দেওয়া হলে তখনই বায়োপসি করানো হয়ে থাকে।  

মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত –

মূত্রের সঙ্গে রক্তপাত হলে তাকে বলা হয় হেমাচুরিয়া। হেমাচুরিয়া হয় অনেকগুলি কারণে। কখনও ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশনের কারণে কখনও বা কিডিনি স্টোনের কারণে, অথবা অন্য কোনো কারণেও এই হেমাচুরিয়া হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি কিন্তু ব্ল্যাডার ক্যানসার বা কিডনি ক্যানসারের বার্তাবাহক। তাই কখনও মূত্রে রক্ত দেখলেই সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

কর্কশতা –

রেসপিরেটারি ইনফেকশন বা শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে যদি গলার স্বর কর্কশ না হয়ে থাকে, বা তিন চার সপ্তাহ ধরে টানা চলতে থাকে তা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখান। অনেক সময় অ্যালার্জি বা ভোক্যাল কর্ডের সমস্যার কারণে এমন হলেও কিছু সময় এটি থ্রোট ক্যানসারের পূর্বাভাসও হয়ে থাকে।

গ্ল্যান্ড ফোলা –

শরীরের কোনো অংশের গ্ল্যান্ড ফোলা থাকলে বা কোনো জায়গা ফুলে উঠলে এবং তা বেশ কিছু দিন স্থায়ী হলেই চিকিৎসা করান। অনেক সময় এটি সাধারণ নিরীহ সিস্ট হিসাবে থেকে যায়, এর থেকে কোন সমস্যা তৈরি হয় না। আবার কোনোটা ক্ষতিকারক হয়। এটি নড়াচড়া করে। ফোলা ভাব বা গ্ল্যান্ড ফোলা অনেক সময়ই ক্যানসারের প্রতিনিধিত্ব করে। তাই এমন কিছু শরীরের কোনো অংশে দেখলে বা অনুভব করলেই তিন-চার সপ্তাহ হয়ে গেলেই তার চিকিৎসা করান।

সৌজন্য :ইমেডিসিনহেলথ.কম

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.