ডাক্তারের চেম্বার থেকে: নাক ডাকার সমস্যা

0

ডাঃ চিরজিৎ দত্ত

গত ছয়মাস তপব্রত আর কুহেলির আলাদা ঘরে বাস। সহ্যের একটা সীমা আছে। কুহেলি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী। গোটা দিন হাড়ভাঙা পরিশ্রম ফিরে একমাত্র পুত্র তোজোর বায়নাক্কা। তার পরে রাতে একটু ঘুমোতে গেলেই তপব্রতর ছাদতোড় নাকডাকা। গোটা রাত ঘুমের দফা রফা। শুধু তপব্রত কেন? বর্তমান সমাজে নাক ডাকা একটি বার্নিং ইস্যু। অনেকেই নাক ডাকা বন্ধ করতে অনেক টোটকা, বাজার চলতি মেডিসিন ব্যবহার করেন,  এগুলি কতটা স্বাস্থ্য সম্মত সেই সম্পর্কে কোনওরকম সম্যক জ্ঞান না রেখেই। নাক ডাকা এই রোগটিকে সিরিয়াসলি নিয়ে যোগাযোগ করুন চিকিৎসকের সঙ্গে, তার সাথে সাথে জীবনাচরণেও কিছু পরিবর্তন আনতে পারেন

আপনার ঘুমের পজিশন পরিবর্তন করুন

পিঠে ভর করে শোয়া যারা নাক ডাকেন, তাদের জন্য এটা সুবিধা জনক পজিশন নয়। এর ফলে জিভের মূল এবং সফট প্যালেট গলার পিছনের দেওয়ালের সঙ্গে লেগে যায় ফলে ঘুমের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের এক ধরনের শব্দ-কম্পনের সৃষ্টি করে। কোলবালিশ ব্যবহার করে একপাশে শুতে পারেন, ভালো ফল পাবেন।

ওজন কমান

ওজন কমালে অনেক ক্ষেত্রে নাক ডাকা  বন্ধ হতে পারে। বিশেষ করে যারা ওজন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নাক ডাকার সমস্যায় ভোগেন তারা ওজন কমালে নাক ডাকার সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। যদি ঘাড়ের দিকে ওজন বাড়ে তাহলে গলার ভিতরের পরিধি কমিয়ে দেয় এবং ঘুমের মধ্যে তা আরও সংকুচিত হয়। ফলে নাক ডাকা শুরু হয়

অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

অ্যালকোহল এবং ঘুমের বড়ি গলার পিছনের অংশের মাংসপেশির স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে বাধা দেয়। ফলে নাক ডাকে। যারা স্বাভাবিক অবস্থায় নাক ডাকেন না। তারা অ্যালকোহল পানের পর ঘুমনোর সময় নাক ডাকেন।

ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন

ঘুমের বদ অভ্যাসগুলি আগে ত্যাগ করুন। যেমন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা, দীর্ঘ সময় কাজ করা, অপরিমিত ঘুম। ঘুমের আগে পর্যন্ত টিভি দেখা। ঘুম ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে আপনার মাংসপেশিগুলি ঢিলেঢালা হয়ে যায় ফলে নাকের ভিতরের বায়ু চলাচলের রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়বে। আপনি গভীর ঘুমে নেতিয়ে পড়বেন। শুরু হবে নাক ডাকা।

নাকের ফুটো খোলা রাখার চেষ্টা করুন

নাক ডাকা মূলত গলার সমস্যায় হয়। কিন্তু নাকের ফুটো বায়ু চলাচলের জন্য খোলা রাখতে পারলে নাক ডাকার প্রকোপ কম হবে। অহেতুক ঠান্ডা লাগাবেন না। প্রতিদিন নাক পরিষ্কার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ন্যাসাল ড্রপ ব্যবহার করুন।

আরও পড়ুন: ডাক্তারের চেম্বার থেকে: দাঁতে পোকা এড়াতে

প্রয়োজনে বালিশ পরিবর্তন করুন

আপনার বেডরুমের বালিশ বিছানার চাদরে এ্যালার্জেন এর উপস্থিতি আপনার নাক ডাকার অন্যতম কারণ হতে পারে। প্রতিদিন এগুলি পরিষ্কার করুন। পোষা প্রাণীর সঙ্গে যারা এক বিছানায় শোন, তাদেরও এ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে। পোষা প্রাণীর ত্বকের খুশকি আপনার চুলকানির কারণ হতে পারে।

বেশি করে তরল পান করুন

পর্যাপ্ত পরিমানে তরল পান করুন। যাতে শরীরে জল শূন্যতা দেখা না দেয়। শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিলে নাক দিয়ে আঠালো পদার্থ বের হয় যা আপনার নাকে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ফলে নাক ডাকার সম্ভাবনা বাড়ায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here