ডাঃ পিয়া রায়(গায়নোকলজিস্ট)

অনিন্দ্য তপতীর বিয়ের পাঁচ বছর কেটে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও কোনও সন্তান সন্ততি হয়নি। গোটা দিন অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকলেও বাড়ি ফিরে কেমন যেন সব কিছু ফাঁকা ফাঁকা লাগে।

জেনে শুনে সন্তান না নেওয়া আর সন্তান চেয়েও না পাওয়ার মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থক্য। কোনো দম্পতির বাচ্চা না হলে সাধারণত মেয়েটিকেই দোষারোপ করা হয়ে থাকে। এ কথা অনেকেই বোঝেন না বা বুঝতে চান না যে বন্ধ্যাত্বের জন্য ছেলে মেয়ে যে কেউই দায়ী হতে পারে।

বর্তমানে অনেক দম্পতি সন্তান চেয়েও ঠিক সময়ে সন্তান জন্ম দিতে পারছে না। দিনে দিনে বন্ধ্যাত্বের হতাশা বেড়েই চলেছে। চলুন, বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানা যাক।

বন্ধ্যাত্ব কী?

বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে বন্ধ্যাত্ব কী?  সন্তান ধারণের অক্ষমতাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, সাধারণত এক বছর পর্যন্ত কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে ব্যর্থ হলে, সে অবস্থাকে বন্ধ্যাত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়।

মহিলা ও পুরুষের যেকোনো একজন বা উভয়ই বন্ধ্যাত্বের জন্য দায়ী হতে পারে। মহিলাদের মধ্যে বন্ধ্যাত্বের কারণ নির্ণয় করা খুবই জটিল। তবে এ সমস্যার জন্য বিভিন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে যা এ রোগের মূল কারণের উপর নির্ভরশীল।

সবসময় বন্ধ্যাত্বের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। অনেক দম্পতিই কোনো ধরণের চিকিৎসা ছাড়াই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পায় ও স্বাভাবিক নিয়মে সন্তান ধারণ করতে পারে।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মহিলারা কী কারণে বন্ধ্যাত্বের শিকার হতে পারেন?

বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা একে অন্যের সঙ্গে নিবিড় ভাবে জড়িত। বন্ধ্যাত্বের কারণ জেনে সেই অনুযায়ী চিকিৎসা করানো জরুরি।

ধূমপান ও অ্যালকোহল: ধূমপানের কারণে সার্ভিক্স ও ফেলোপিয়ান টিউবের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ধূমপানের কারণে অপরিণত অবস্থায় ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে যায়। ধূমপানের মত অ্যালকোহলের ব্যবহারের ফলেও ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেয়। বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা উভয় ক্ষেত্রেই ধূমপান ও মদ্যপান নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে ৩০ এর মাঝামাঝিতে ফলিকলের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। যার ফলে উৎপাদিত ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণাগুণ হ্রাস পেতে থাকে। এ কারণে গর্ভধারনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার দেখা দেয় ও গর্ভপাতের আশংকা বেড়ে যায়।

যৌনরোগ: বিভিন্ন যৌনরোগ, যেমনঃ গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত হলে ফেলোপিয়ান টিউবের ক্ষতি হয়ে থাকে যার ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে ও অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে যৌন রোগ হতে পারে। এর ফলে সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে পায়।

ওজন: স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন খুব বেশি বা কম হলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।

এছাড়াও বেশ কয়েকটি কারণে বন্ধ্যাত্ব আসতে পারে যেমন সময়ের আগে ডিম্বাশয়ের পতন হলে,পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, অনিয়মিত মাসিক, ইউটেরিয়ান ফাইব্রয়েড, ভ্যারিকোসিল অফ দা টেস্টিকলস্‌, ওভারিয়ান সিস্ট, এন্ডোমেট্রিওসিস।

পুরুষদের ক্ষেত্রে কী কী কারণে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে?

পুরুষদের ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের কারণ ও চিকিৎসা কেমন?  শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে পুরুষদের মধ্যে বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়। যে টিউব বা নালির সাহায্যে শুক্রাণু বাইরে বেরিয়ে আসে তা কোনো কারণে আটকে গেলে বা কোনো আঘাত বা অপারেশনের কারণে বা হরমোনজনিত কারণে শুক্রাণু উৎপাদনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here